সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের (ইউপি) প্যানেল ১ চেয়ারম্যান আকন মো.আবু সাঈদের প্রচেষ্টায় বদলে গেছে ইউপি বাসীর জীবন মানোন্নয়ন। সেই সাথে ইউনিয়ন জুড়ে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত দিনে নানা সমস্যা ও অনিয়মসহ দূর্নীতিতে জর্জরিত ছিলো এই ইউনিয়ন পরিষদ। এক সময় পুরো ইউনিয়ন জুড়ে ছিলো অগোছালো এবং জনসাধারণের জনদুর্ভাগের শেষ ছিল না।

রাস্তাঘাট ছিল খানাখন্দে ভরা এবং পুল-কালভার্ট ছিল ভাঙ্গাচুরা, যা দিয়ে চলাচলে জনসাধারণের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। কিন্তু সেই চিত্র এখন আর চোখে পড়েনা। গ্রামীণ জনপদে উন্নত সেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বর্তমান প্যানেল১ চেয়ারম্যান আকন মো.আবু সাঈদ ।

খুব অল্পসময়ের মধ্যে অনেকগুলো দৃশ্যমান উন্নয়ন করে ইউনিয়নবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। আরো জানা যায় । তিনিও জনগণের সেই আশা পুরোন করতে ইউপি বাসীকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে-ঘাটে নেমে কাজ করে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে গোলখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা যায়, বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান যে সকল উন্নয়ন করেছেন তার চিত্র দৃশ্যমান। ইউনিয়নের ছোট গাবুয়া, জুলেখার বাজার, হরিদেবপুর, বড় গাবুয়া,নলুয়াবাগী,ধলু মোল্লার খেয়াঘাট, বাদঘাট, গাজীপুর খেয়াঘাট, জনতা বাজার, ঢালির বাজার হাফিজিয়া মাদ্রাসা অবস্থিত এ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি বিগত দিনে জরাজীর্ণ, নোংরা ও অবহেলিত ছিল।

কিন্তু বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান শপথ গ্রহনের পর ভবনটিকে মেরামত করে চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডের অলিগলির কাচা মাটির রাস্তা গুলো করে দিয়েছেন হেরিংবন্ড রাস্তা, খানাখন্দে ভরা ও ভাঙাচুরা রাস্তাঘাট মেরামত করে নতুন রাস্তায় পরিনত করেছেন।

ভাঙাচোরা আয়রন ব্রিজ ও লোহার পুল মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে ইউনিয়নের চলাচলে অনুপযোগী গ্রামীণ সড়ক মাটি কেটে বর্ধিতকরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। যার সুফল ভোগ করছে এলাকার বাসিন্দারা।

এছাড়াও কাঁচা সড়ক ইট সলিংয়ের মাধ্যমে পাকা করা হয়েছে। বাকি কাঁচা সড়কগুলোকে কার্পেটিং করার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। জনসাধারণের স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে নতুন টয়লেট নির্মাণ করেছেন।

জনগণকে আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ খাবার পানি নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিভিন্ন বাজারে, মসজিদে ও বাড়িতে গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান এর পরিকল্পনা মোতাবেক গ্রামকে শহরে পরিণত করার জন্য গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন করা হয়েছে।

গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচীসহ সরকারী বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে এই কাজগুলো করা হয়েছে বলে জানান প্যানেল ১ চেয়ারম্যান আবু সাঈদ ।

এছাড়াও ইউনিয়নবাসীর মধ্যে দারিদ্র্যতা দূরীকরণের জন্য সরকারী নির্দেশন মোতাবেক খানা জরিপের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে সরকারী ভিজিডি, ভিজিএফসহ বিভিন্ন সামাজিক ভাতা বিতরণ করে আসছেন তিনি।

তবে যার নেতৃত্বে গ্রামীণ এ জনপদের মানুষ শহুরে জীবনযাত্রার আওতায় এসেছে, সেই ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান এখন নানামুখী ষড়যন্ত্রের শিকার বলে জানান স্থানীয়রা। শুধু তাই নয়, সরকারি-বেসরকারি এসব প্রকল্প/পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও জানান তাঁরা।

ওয়ার্ড মেম্বার বাবুল হাওলাদার, ও সংরক্ষিত নারী মেম্বার পরি বেগম জানান, আবু সাঈদ প্যানেল চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদসহ জনসাধারণের মাঝে যে উন্নয়ন হয়েছে তা এর আগে কোন দিন হয়নি। এমনকি কোন চেয়ারম্যান জনগণের জীবন মানোন্নয়নের কথা ভাবেননি।

অতীত যারা এসেছে তারা শুধু নিজের আখের গুছিয়েছে। শুধু তাই না, অতীতের চেয়ারম্যানরা পরিষদের কর্মকর্তা কর্মচারী ও মেম্বারদের বেতন ভাতা পর্যন্ত ঠিক মতো দিতেন না। ইউনিয়ন বাসীর উন্নয়ন তো আছে সেই সাথে কারো বেতন ভাতা বকেয়া রাখেন না এ চেয়ারম্যান।

চেয়ারম্যান আকন মো.আবু সাঈদ বলেন, বিএনপি সরকার উন্নয়নের সরকার। বিএনপি ও গণধিকার পরিষদ কখনো নিজের কথা ভাবে না, কিভাবে দেশের জনগণের জীবন মানোন্নয়ন করা যায় সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন।

দেশের উন্নয়নে বিএনপি সরকারের কোন বিকল্প নেই, তাই আগামীতে আবারো ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে বলে জনসাধারণ কে আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদে আসা সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা জনগণের মাঝে বিতরণ করি।

কিন্তু একটি গ্রুপ সরকারি সুযোগ সুবিধা না পেয়ে আমাকে অপদস্ত করতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। আমি বারবার হিংসার রাজনীতির শিকার হচ্ছি।

তাদের ষড়যন্ত্রে যেমন সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাঁধাগ্রস্থ হয় তেমনি দলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে শত বাধা আসলেও আমি জনগনের কল্যানে কাজ করতে কখনও পিছপা হবো না। ইউনিয়ন বাসীর সেবা করে আমি বেঁচে থাকতে চাই।