নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল অঞ্চলজুড়ে অস্বাভাবিক তাপদাহের পর গত শেষ রাতের গগনবিদারী বজ্রপাতের বিকট শব্দের সাথে শরতের ভারী বর্ষণে আতঙ্কিত মানুষের ঘুম হারাম হলেও জনমনে কিছুটা স্বস্তি নেমে এসেছে।

তবে আশ্বিনের এ বর্ষণের সাথে প্রায় পুরো দক্ষিণাঞ্চলজুড়েই বিদ্যুৎ বিপর্যয় সাধারণ মানুষের আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে এ বর্ষণ বরিশাল কৃষি অঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের জন্য যথেষ্ট অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে বলে মনে করছেন কৃষিবিদগণ। চলতি খরিপ-২ মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে প্রায় ২৪ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রায় ৯ লাখ হেক্টরে রোপা আমনের আবাদ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের সাড় ৫ ডিগ্রি ওপরে, প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁই ছুঁই করছিল। পুরো আকাশজুড়েই কখনো কালো মেঘে ঢেকে গেলেও আবার কিছুক্ষণ পরেই সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়াতে দেখা গেছে।

অথচ গত আগস্ট মাসে বরিশাল সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টি হলেও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের ৪.৩% কম। কিন্তু জুলাই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ১২.৬% বেশি বৃষ্টি হয়েছে বরিশালে।

টানা ১২৭ দিন পরে গত ৯ মার্চ বরিশালে সামান্য বৃষ্টিপাতের পরে মাসজুড়েই ব্যাপক ঘাটতিতে বোরো ধানসহ বিভিন্ন রবি ফসল আবাদ বিঘ্নিত হয়। ফলে উৎপাদনেও বিরূপ প্রভাব ফেলে। কিন্তু এপ্রিলেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের পরে মে ও জুন মাসজুড়েই বৃষ্টিপাতের ঘাটতি জনস্বাস্থ্যের সাথে কৃষি সেক্টরেও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

এমনকি চলতি মাসে স্বাভাবিক ৩২৮ মিলিমিটারের স্থলে আবহাওয়া বিভাগ বরিশালে ৩০০ থেকে ৩৪০ মিলি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়ে রাখলেও মাসের প্রথম ২০ দিনে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র ১৬১.৬ মিলিমিটার। এরমধ্যে গত শেষ রাতেই ৩২ মিলি বৃষ্টি হয়েছে। এসময়ে উপকূলভাগের সর্বাধিক বৃষ্টি হয়েছে ভোলাতে, ৭৭ মিলিমিটার এবং পটুয়াখালীতে ৬৯ মিলিমিটার।

আবহাওয়া বিভাগের মতে, উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় নতুন করে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। যা উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষ বরিশাল সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

চলতি মাসেই মৌসুমী বায়ু দেশের অভ্যন্তরসহ উপকূলভাগ থেকে বিদায় হবার কথা থাকলেও তা এখনও বরিশালসহ অভ্যন্তরভাগে সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

রোববারও অস্থায়ীভাবে বজ্রসহ হালকা থেকে মাঝারি বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়ে রাখা হলেও আগামী কয়েকদিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আবারও হ্রাসের কথা জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

এবার বর্ষার সময়সহ শরৎজুড়েও ভ্যাপসা গরমের সাথে আর্দ্রতার কারণে জনজীবনে অস্বস্তি যথেষ্ট বৃদ্ধি করেছে। এমনকি সারা দেশের মতো বরিশাল অঞ্চলজুড়েও আবহাওয়ার নানা অসংগতি কৃষির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ওপরও নানা বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করছে।