বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি- বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বাস্তবমুখী দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনব্যাপী পেশাভিত্তিক স্কিলস প্রশিক্ষণের মাঠ সংযুক্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থীর অংশগ্রহণে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রশিক্ষণের প্রথম পাঁচ দিন শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে মাঠ সংযুক্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মাঠ সংযুক্তির অংশ হিসেবে ষষ্ঠ দিনে জুতা মেরামত ও প্রস্তুতকরণ পেশা ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার আজিজ সড়কে অবস্থিত স্বপন সু হাউজে।
এছাড়া মাঠ সংযুক্তির ৭ম ও ৮ম দিনে যথাক্রমে নাপিত পেশা ও মৃৎশিল্প পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পৃথক দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। দশ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কোর্স পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলটন চন্দ্র পাল এবং কোর্স সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মেহেদী হাসান।
প্রশিক্ষণে রিসোর্স পারসন হিসেবে সেশন পরিচালনা করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মিলটন চন্দ্র পাল এবং সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক মনোনীত প্রশিক্ষক সমাজসেবা অফিসার আমিরুল ইসলাম।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি/বেসরকারী কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন। প্রশিক্ষণের মধ্যবর্তী সময়ে (৫ম দিনে), ১৭ সেপ্টেম্বর ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থীর প্রত্যেককে দৈনিক উপস্থিতির ভিত্তিতে এক হাজার টাকা করে নগদ বিতরণ করা হবে।
প্রশিক্ষণের ৬ষ্ঠ দিন থেকে ১০ম (সমাপনী) দিন পর্যন্তও উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে দৈনিক এক হাজার টাকা করে প্রশিক্ষণ ভাতা নগদ বিতরণ করা হবে। উল্লেখ্য, প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থীর প্রত্যেককে তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে এককালীন ১৮ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হবে।
এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বাবলম্বিতা অর্জনের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।