রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার খেজুরবাড়ি গ্রামের ফকির বাড়িতে আদালতের রায় উপেক্ষা করে প্রতিবেশীর বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও নারীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে চালানো এই তাণ্ডবে বৃদ্ধাসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আঃ রব ফকিরের তিন ছেলে মিলন ফকির, মিরাজ ফকির ও আলামিন ফকির এবং তাদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য মিলে প্রতিবেশী আঃ কাদের ফকিরের বাড়িতে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে এই অতর্কিত হামলা চালান।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে আঃ রব ফকিরের স্ত্রী সালেহা ও তার বড় ছেলে মিলন ফকিরের কাছ থেকে নিয়ম অনুযায়ী ১৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে আঃ কাদের ফকির গং।
পরবর্তীতে পুকুর-ডোবা ভরাট করে ঘরবাড়ি ও বাগান তৈরি করে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে পরিবারটি শান্তিপূণভাবে বসবাস করে আসছে। তবে গত দুই বছর ধরে ওই জমি নিজের দাবি করে মিরাজ ফকির বিরোধ সৃষ্টি করেন এবং আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত আগস্ট মাসে আদালত ভুক্তভোগীদের পক্ষেই রায় দেন।
আদালতে হেরে যাওয়ার পর থেকেই মিরাজ ও তার লোকজন ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে মিলন, মিরাজ ও আলামিনসহ তাদের পরিবারের লোকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে কাদের ফকিরের বসতবাড়িতে চড়াও হয়।
হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের কোপে ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা নাসিমা বেগমের কপাল কেটে গুরুতর জখম হয়। এ ছাড়াও হামলায় নেছারুন (৩০) ও মানসূরা (৩৫) নামের দুই নারী আহত হন।
এ সময় হামলাকারীরা মানসূরার গলা থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় এবং ঘরের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ বাগানের বিভিন্ন ফলদ চারাগাছ কেটে সাবাড় করে দেয়।
পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে বৃদ্ধা নাসিমা ও মানসূরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মিরাজ ফকির বলেন, “তারা আদালত থেকে কোনো ধরনের রায় পায়নি। তারা আমার মা ও বড় ভাইয়ের থেকে জালিয়াতি করে সাক্ষর নিয়েছে।
তারাও স্বদিচ্ছায় কোনো দলিলে সাক্ষর করেনি। তারা বর্তমানে যে দলিল দেখাচ্ছে সেটা একটা জাল দলিল। দেশের আইন আছে। আমি এই বিষয়ে আইনিভাবেই লড়াই করবো।