ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১১টা থেকে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত বিদ্যালয় ও ভাণ্ডারিয়া ওভারব্রিজ সংলগ্ন হাইওয়ে সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পেশাগত অসদাচরণসহ গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

পরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষককে ২৪টি অভিযোগ উল্লেখ করে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ে ছাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমান বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ছাত্রীদের সঙ্গে উসকানি মূলক কথা বলেন। এ সময় ছাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভাণ্ডারিয়া থানায় যায়।

পরে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ছাত্রীদের শান্তভাবে বুঝিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। এর কিছুক্ষণ পর ছাত্রীরা আবার বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে লিয়াকত মার্কেট ও নতুন হাইওয়ে রাস্তা প্রদক্ষিণ করে ভাণ্ডারিয়া ওভারব্রিজের পশ্চিম পাড়ে বরিশাল- ভাণ্ডারিয়া- মঠবাড়িয়া মহা সড়কে অবস্থান নেয় এবং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় এক দফা এক দাবী প্রধান শিক্ষকের অপসারন চাই বলে তারা শ্লোগান দেয়।

এতে সড়কে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান সরকারি কাজে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন।

তিনি মোবাইল ফোনে তাঁর প্রতিনিধির মাধ্যমে ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে তাঁর অনুরোধে ছাত্রীরা অবরোধ তুলে নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে যায়।

বিকেল ৪ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান বিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি ছাত্রীদের রোববার থেকে ক্লাসে ফেরার অনুরোধ করেন এবং অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান বলেন, ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আমি তাদের রোববার থেকে নিয়মিত ক্লাসে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে তদন্তের করে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়। শোকজের জবাবের পরে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ছাত্রীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।