নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার আদেশ উপেক্ষা করে বিরোধপূর্ণ জমির সীমানার খুঁটি ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আমঝুপি মৌজার (জেএল নং-৭৯) আর.এস ৪৮৫ নম্বর খতিয়ানের আর.এস ২৬৫৬ নম্বর দাগের অন্তর্ভুক্ত, যার মোট পরিমাণ ২.৩০ একরের মধ্যে ০.০৬৫০ একর জমি ২০০৫ সালে মৃত আহসানুল আজিজি একই এলাকার রজনী হাসানের মা হাসিনা খাতুনের কাছে বিক্রি করেন।

পরে ২০১৪ সালে হাসিনা খাতুন মেয়ে রজনী হাসানকে সেই জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। রজনী হাসান উক্ত জমি নিজের নামে নামজারি করে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছেন।

অপরদিকে আহসানুল আজিজের পরিবারের লোকজন একই জমি নিজেদের দাবি করে তা দখলের চেষ্টা করে এবং রজনী হাসানকে ওই জমিতে প্রবেশে বাঁধা দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন।

এ ঘটনায় আমঝুপি গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে রজনী হাসান একই এলাকার মৃত আহসানুল আজিজের ছেলে বকুল, টুটুল, লিটন, বাবু, কাজল, কুসুম, কাকলী, গোলাপী ও এনামুলসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় একটি পিটিশন নং-৪৬২/২০২৬, প্রসেস নং-১১২৫/২৬, অভিযোগ দায়ের করেন।

বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মেহেরপুর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মেহেরপুর থানার এএসআই রাজ কুমার দাশ উভয় পক্ষকে নোটিশ দেন।

নোটিশে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় যে, বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালতের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয়কে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং কোনো পক্ষ শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের পক্ষ থেকে নোটিশ জারির পরও আদালতের আইন ও প্রশাসনিক নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে ২য় পক্ষের লোকজন বিরোধপূর্ণ জমিতে থাকা সীমানা খুঁটি ভাংচুর করে পাশের একটি পুকুরে ফেলে রেখে যায় এবং খঁটির সঙ্গে থাকা তারগুলো নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে রজনী হাসান জানান, আদালতের আদেশের পর পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্তি বজায় রাখার জন্য নোটিশ জারি করে। কিন্তু প্রতিপক্ষ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং আদালতের আদেশ অমান্য করে রাতের আঁধারে জমিতে প্রবেশ করে আমাদের বসানো সীমানা খুঁটি ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে পাশেই একটি পুকুরে ফেলে দেয় এবং খুঁটির সাথে যে তার গুলো ছিল সেগুলো নিয়ে যায়।

ওই জমিতে গেলে তারা হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তিনি এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ ও আদালতের নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানান।

এবিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করেনি। এ বিষয়ে মেহেরপুর থানা পুলিশের এএসআই রাজ কুমার দাশ জানান, আদালতের আদেশের ভিত্তিতেই নোটিশ জারি করা হয়েছিল। শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ বা আদেশের অবমাননার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।