নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: প্রবাসী স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের লাগাতার মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে স্বামীকে ভিডিও কলে রেখেই বিষপান করা ঝুমুর খানম সেতু (২৭) নামের এক গৃহবধূ মারা গেছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত ঝুমুর বরিশালের গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী এলাকার শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী। তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের মেয়ে। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে তাদের বিয়ে হয় এবং তাদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে কুয়েতপ্রবাসী স্বামী শাহারিয়ারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় অভিমানে বিষপান করেন ঝুমুর। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ওই রাতেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অবস্থার অবনতি হলে সোমবার বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেওয়ার পর বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঝুমুরের বাবা আব্দুল করিম খান অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে স্বামী, শাশুড়ি, ননদ ও ননদের স্বামী বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। বিয়ের সময় পর্যাপ্ত মালামাল না দেওয়া, পাঁচশ বরযাত্রী না আনা এবং ঝুমুর দেখতে সুন্দরী নন—এমন নানা অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে তাকে নির্যাতন করা হতো।

তিনি আরও জানান, স্বামী শাহারিয়া কর্মসূত্রে কুয়েতে চলে যাওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যদের প্ররোচনায় নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে ঝুমুরকে তার শিশুকন্যাসহ স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলে তিনি বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।

ঘটনার রাতে ভিডিও কলে কথা বলার সময় শাহারিয়া তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং একপর্যায়ে ক্ষোভে ও অভিমানে বিষপান করে মারা যেতে বলেন। এরপর পরিবারের সদস্যদের অজান্তে বিষপান করেন ঝুমুর।

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ খান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।