নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: একাধিক দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকেসাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সফিকুর রহমান কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর নির্দেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নড়িয়া থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেনকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠে মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে।

এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সাগরকে ওসিকে উদ্দেশ্য করে হুমকিমূলক বক্তব্য দিতে শোনা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে একাধিক দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুলাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল।

তবে কারণ দর্শানোর নোটিশের পরও তার বিরুদ্ধে একের পর এক অপকর্মের অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ায় এবং বারবার দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়।

এ অবস্থায় বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মতিউর রহমান সাগরকে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদসহ দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বহিষ্কারাদেশের অনুলিপি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েত এমপির কাছে সদয় অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে।

এদিকে বহিষ্কারের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক স্ট্যাটাসে মতিউর রহমান সাগর লেখেন, ‘যে দলের জন্য জীবন-যৌবন শেষ করলাম, সেই দল আমাকে বহিষ্কার করল-আলহামদুলিল্লাহ।’

এর আগে গত কয়েক মাসে নড়িয়ায় মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসে। ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনী বিলবোর্ড লাগানোকে কেন্দ্র করে জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেবের সঙ্গে তার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জেরে অর্ণবের চাচা আব্দুস সালামকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে সাগরের বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হুমকি দেয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে ওঠে। এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা পৃথক ঘটনায় থানায় অন্তত ছয়টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানা গেছে। সর্বশেষ নড়িয়া থানায় ঢুকে ওসিকে হুমকি দেয়ার অভিযোগসহ একাধিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সাগরের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।