নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষণায় আমদানি করা একটি চালান থেকে বিএমডব্লিউ রেসিং কার, বিএমডব্লিউ 740i-এর সামনের অর্ধাংশ এবং পাঁচটি হাফ-কাট Isuzu ট্রাক উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এম/এস আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল ব্যবহৃত ডিফারেনশিয়াল অ্যাসেম্বলি, ব্যবহৃত পাওয়ার স্টিয়ারিং অ্যাসেম্বলিসহ বিভিন্ন ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষণা চালানটি চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করে।

চালাইটির রপ্তানিকারক হিসেবে দেখানো হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি’। পরে সন্দেহজনক হলে তা কায়িক পরীক্ষা করে ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে পণ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি শনাক্ত হলে চালানটি আটক করা হয়।

কায়িক পরীক্ষায় দেখা যায়, সম্পূর্ণ খোলা বা সিকেডি অবস্থায় একটি দুই আসনের বিএমডব্লিউ রেসিং কার, একটি বিএমডব্লিউ ৭৪০আই এর সামনের অর্ধাংশ এবং পাঁচটি হাফ-কাট ইসুজু ট্রাক পাওয়া যায়। চালানটির সিএন্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছে আমিন (সিএন্ডএফ) (প্রাইভেট) লিমিটেড।

সিকেডি অবস্থায় বিএমডব্লিউ রেসিং কার

কায়িক পরীক্ষার শুরুতেই সিকেডি অবস্থায় বিএমডব্লিউ এর একটি দুই আসনের রেসিং কার পাওয়া যায় বলে জানায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

প্রাথমিকভাবে গাড়িটির মডেল এস ড্রাইভ ২৩আই বলে ধারণা করা হচ্ছে। যার ইঞ্জিনের ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ সিসি। তবে গাড়িটির সঠিক মডেলের সাল, চেসিস বা যানবাহন শনাক্তকরণ নম্বর (ভিআইএন) এবং বাংলাদেশে আমদানির বৈধতা কারিগরি পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

চালানটিতে বিএমডব্লিউ ৭৪০আই এর সামনের অর্ধাংশও পাওয়া যায়।

এই গাড়িটি ২০১৬ সালের মডেল এবং এর ইঞ্জিনের ক্ষমতা প্রায় ৩,০০০ সিসি বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। তবে গাড়িটির শুধু সামনের অংশ চালানটিতে পাওয়ার বিষয়টি কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাছে সন্দেহ তৈরি করেছে। এর বাকি অংশ অন্য কোনো চালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছে কি না, অথবা আলাদাভাবে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানায় তারা।

পাওয়া গেছে ৫টি হাফ-কাট ইসুজু ট্রাক

বিএমডব্লিউ ছাড়াও চালানটি পরীক্ষা করে পাঁচটি হাফ-কাট ইসুজু ট্রাকও পাওয়া যায়। কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, এসব ট্রাকের কেবিনের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের গাড়ির যন্ত্রাংশ প্যাক করে রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া চালানটিতে আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশও পাওয়া গেছে। মিথ্যা ঘোষণায় আনা এই চালানে শুল্ক-কর ফাঁকির বিষয়টি তদন্ত করছে কাস্টমস গোয়েন্দারা। একই সাথে কাটা বা খণ্ডিত গাড়ির বিভিন্ন অংশ আলাদা আলাদা চালানে আমদানি করে পরে সেগুলো পুনরায় সংযোজনের কোনো কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিএমডব্লিউ 740i-এর বাকি অংশ কোথায়, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য চালানের তথ্যও যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস।

নথি ও পণ্যের মূল্য যাচাই হবে

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, গাড়িগুলোর চেসিস ও ভিআইএন নম্বর, ইঞ্জিনের তথ্য এবং প্রকৃত মূল্য যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া প্রযোজ্য আমদানি নীতি, শুল্ক ও করের পরিমাণও পরীক্ষা করার পাশাপাশি এসব যাচাই শেষে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, গাড়ির যন্ত্রাংশের ঘোষণা দিয়ে সম্পূর্ণ গাড়ি বা গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশ আমদানির এ ধরনের প্রচেষ্টা শনাক্তে চট্টগ্রাম বন্দরে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বন্দর