নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশালে নিজস্ব মালিকানা জমিতে উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে সিটি কর্পোরেশন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় থমকে আছে ড্রেন ও ভবন নির্মান কার্যক্রম। উন্নয়ন কাজ বন্ধে নানা অজুহাতে মাঠে নেমেছে রাজনৈতিক একটি পক্ষ। দারস্থ হয়েছে আদালতের।

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর বগুড়া রোডস্থ এসএ দাগ নং ৪০৪৪ এর ৩ নং খতিয়ানের ৯ দশমিক ৯ শতাংশ জমির রেকর্ডিও মালিক বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। ২০২৫-২৬ সাল পর্যন্ত খাজনাও প্রদান করে কর্পোরেশন।

জমিটি মুল সড়ক ও ব্যক্তি মালিকানা জমির মাঝে হওয়ায় দীর্ঘবছর সেটি কয়েকটি পরিবার ভোগদখল করে আসছে। ২০২৫ সালের মন্ত্রনালয়ের আদেশের প্রেক্ষিতে অবৈধ দখলে থাকা সকল জমি উদ্ধারে মাঠে নামে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন।

একই সাথে উদ্ধারকৃত জমিতে উন্নয়নমুলক কাজ করছে কর্পোরেশন। যাতে পরবর্তীতে জমিগুলো বেহাত না হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বগুড়া রোডস্থ উক্ত জমিটিও উদ্ধারে নামে সিটি কর্পোরেশন। উদ্ধারের পর ড্রেন ও একতলা মার্কেট নির্মানের কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

কিন্তু বিপত্তি বাঁধায় জমির পিছনে থাকা কয়েকটি পরিবার। জমিটি দখলে রাখতে প্রথমে ওই এলাকায় থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগীতা নেয় পরিবারগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংককে দিয়ে জমিটি অধিগ্রহন করা হবে মর্মে চিঠি দেওয়া হয়।

কিন্তু তারা যখন জানতে পারে সিটির ভিতরে যে কোন দপ্তরের জমি অধিগ্রহন করতে হলে খোদ কর্পোরেশনের কাছ থেকেই অনাপত্তিপত্র নিতে হয় তখন ভিন্ন পথ অবলম্বন করে এতোদিন সরকারি জমি দখলে থাকা পরিবারগুলো।

তারা রাজনৈতিক সহযোগীতার জন্য যায় মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আফরোজা খানম নাসরিনের কাছে। বিসিসি প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের রাজনৈতিক প্রতিদন্দ্বী নাসরিনও এ সুযোগকে লুফে নেন।

তিনি তার কিছু সমর্থক নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে সড়কে মানববন্ধন করেন। বক্তব্যর মাধ্যমে ছড়ান নানা প্রোপাগান্ডা। কর্পোরেশনের উন্নয়ন কাজে বাঁধা দিতে গিয়ে উল্টো বিতর্কিত হয়ে যান আফরোজা খানম নাসরিন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে শুরু হয় নানা বিতর্ক। এমনকি প্রবাসী সাংবাদিকরাও তার বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তোলেন। সামাজিক মাধ্যমে এসব বিতর্কের পর অবশেষে থেমে যান নাসরিন সমর্থকরা।

এদিকে জমিটিতে নির্মানাধীন সিটি সুপার মার্কেট নির্মান কাজ বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন উচ্চ আদালত। মঙ্গলবার বিচারপতি শেখ আউয়াল রিটটি খারিজ করে দেন।

একই সাথে সিটি সুপার মার্কেট নির্মান কাজে আর কোন ধরণের বাঁধা, আপত্তি বা মামলা করার সুযোগ নেই বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান শাকিল জানান, সিটি কর্পোরেশনের জমি নাগরিকদের ব্যবহারের জন্য।

একক কোন ব্যক্তি সেই জমি ভোগদখল করতে পারেনা। বগুড়া রোডের বিরোধীও জমিটি একটি ড্রেন শ্রেণীর জমি। যা বিবাদী পক্ষ কর্পোরেশনকে ব্যবহারের জন্য অনাপত্তি প্রদান করেন।

জমিটির পিছনে থাকা কয়েকটি পরিবার কর্পোরেশনের উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্থ করতে বিভিন্ন ব্যক্তিদের একত্রিত করেছে বলে দাবী করেন তিনি। ২০২৫ সালে মন্ত্রনাললের কঠোর নির্দেশের প্রেক্ষিতেই অবৈধ দখলে থাকা সকল জমি উদ্ধারে কাজ করছে কর্পোরেশন। আর ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় দখল না হয় সেজন্য স্থাপনা নির্মান করছে কর্পোরেশন। আর এতেই অনেকের স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটায় বাড়ছে বিপত্তি।

এব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন কলেন, কর্পোরেশন যখনই কোন উন্নয়ন কাজ করতে যায় তখনই একটি পক্ষ বাঁধা হয়ে দ্বারায়।

নগরীর প্রানকেন্দ্র বগুড়া রোডস্থ অবৈধ দখলে থাকা এই জমি উদ্ধারের পর এখানে কর্মজীবী নারীদের জন্য মার্কেট নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে প্রশাসক জানান। তবে উন্নয়ন করতে গিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের চেয়ে সমর্থনই বেশি পেয়েছেন বলে জানান তিনি।