নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশালের আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মাসুদ খানের স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে এক নারী এএসআইকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এএসআই শাহনাজ আক্তার গত ৯ সেপ্টেম্বর একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেছেন।

এএসআই (সহকারী উপপরিদর্শক) শাহনাজ আক্তারের করা জিডির একটি ছবি সম্প্রতি হাতে এসেছে জাগো নিউজের। জিডিটি নিয়ে অনুসন্ধান করে জানা গেছে নানা তথ্য।

জিডির বিবরণে জানা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে ওসির স্ত্রী আঞ্জুমান (৪০) থানায় এসে তাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় কথা বলেন বলে অভিযোগ করেছেন শাহনাজ আক্তার। ওই সময় তিনি থানার ডিউটি অফিসারের চেয়ারে বসা ছিলেন। সেসময় ওসির স্ত্রী তাকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং রাতের বেলা ওসির কক্ষে যাওয়া ও চাকরিতে আসা নিয়ে কটূক্তি করেন। এ ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিব্রত ও অপমানিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

জিডির বিবরণে আরও একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেছেন এএসআই শাহনাজ আক্তার। সেখানে গত মার্চে তার ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে জরুরি ছুটির প্রয়োজন হলে তিনি রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে ছুটির ব্যবস্থা করতে থানায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

পরে ওসির অর্ডালীর মাধ্যমে ছুটির অনুমতি নিয়ে আবেদন করেন। ছুটি থেকে ফিরে তিনি জানতে পারেন, থানায় কর্মরত আরেক এএসআই আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে ওসির স্ত্রী বলেছেন যে ওসির সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, তার সঙ্গে রাত কাটিয়েছেন, এমনকি তার বাচ্চা তার স্বামীর না। তখন বিষয়টি নিজের কানে না শুনলেও এখন সামনে এসে ওসির স্ত্রী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করায় ভবিষ্যতের প্রয়োজনে জিডি করেছেন বলে জানান এএসআই শাহনাজ।

এ ব্যাপারে এসআই আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আমি বক্তব্য দিতে পারি না। তবে যা শুনেছেন ঘটনা সত্যি। এছাড়া তিনি নিজেও ওসির দ্বারা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে আল্লাহর কাছে বিচার প্রার্থনা করেন।

এ ব্যাপারে এএসআই শাহনাজ আক্তার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটা থানার ভেতরের বিষয়, তাই এ ব্যাপারে তেমন কিছু বিস্তারিত বলতে পারছি না। তবে জিডির বিষয়ে যা শুনেছেন তা সত্যি। এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যা সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে জিডি করার পরপরই এএসআই শাহনাজ আক্তারকে আগৈলঝাড়া থানা থেকে বদলি করে জেলার বানারীপাড়া থানায় নিযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ায় ওসি মাসুদ খান জরুরি ছাড়পত্র দিয়ে এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনসহ আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন থানায় বদলি করেছেন বলে জানা গেছে।

স্ত্রীর বিরুদ্ধে জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খান বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এটা ভুল তথ্য, এগুলো কে ছড়ায়? এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

বিষয়টি নিয়ে আলাপের জন্য বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠালেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিষয়টি তদন্তের জন্য এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সম্প্রতি বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে তলব করা হয়। তবে সেখানে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে তা জানা যায়নি।

এ ব্যাপারে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দারকে ফোন দিলে তিনি ফোন কেটে খুদে বার্তায় ফোন দেওয়ার কারণ জানতে চান। পরে তাকে খুদে বার্তা পাঠালে তিনি মেসেজ সিন করে আর কোনো উত্তর দেননি।