নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের নির্মাণ শেষে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে সীমিতাকারে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও প্রতিষ্ঠানটি এখনো রাজস্বখাতে স্থানান্তর না হওয়ায় শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে জটিলতা সহ নানামুখী সংকট অব্যাহত রয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রায় ৬০ কোটি টাকার দেশীয় তহবিলে বরিশাল অঞ্চলের একমাত্র এ মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’র নির্মাণ কাজের প্রায় ৯৫ ভাগ সম্পন্ন করেছে। আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে অবশিষ্ট ওয়ার্কসপ ভবনটিও হস্তান্তরের পরে প্রকল্পটির সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে প্রেষণে নিয়োজিত মাত্র ৬ জন শিক্ষক দিয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রথমবারের মতো আর্কিটেক্ট ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিষয়ে ৪৮ জন ছাত্রী ভর্তি সম্পন্নের পরে শিক্ষা কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এমনকি বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রিন্সিপালকে নবনির্মিত মহিলা পলিটেকনিক’র প্রিন্সিপালের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ইতোমধ্যে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’র ৬তলা প্রশাসনিক ভবন, ৬ তলা একাডেমিক ভবন, ৫ তলা শিক্ষক ডরমিটরি, ২শ শয্যার ৪ তলা ছাত্রী নিবাস, ৬ ইউনিটের তিনতলা স্টাফ কোয়ার্টার, দোতলা ভিতের ওপর একতলা প্রিন্সিপালের বাসভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে বুঝে নেয়ার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে চিঠিও প্রদান করেছে।
প্রতিষ্ঠানটিতে একটি শহিদ মিনারও নির্মিত হয়েছে সরকারি খরচে। একইসাথে ইনস্টিটিউটটির ৬ তলা ওয়ার্কসপ ভবনের নির্মাণ কাজও ৮৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে এ ভবনটিও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর সম্ভব হবে বলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরিশাল অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন।
প্রায় ৩ একর জমির ওপর নির্মিত বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের বিশাল সীমানা প্রাচীর সহ দুটি প্রবেশদ্বারের নির্মাণ কাজও সম্পন্ন করেছে ইইডি। এ ব্যাপারে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিকের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল এসএম সামচুন নাহার জানান, সরকারি নির্দেশনার আলোকে আমরা চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রথমবারের মতো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছি।
এজন্য বিভিন্ন পলিটেকনিক থেকে প্রেষণে ৬ জন শিক্ষককে এখানে পাঠানো হয়েছে। সরকারি বিধি বিধান অনুযায়ী পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি রাজস্বখাতে স্থানান্তরের পরে এখানে অনুমোদিত জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি সূত্রের মতে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের জনবল মঞ্জুরি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি। প্রস্তাবিত জনবল কাঠামোতে এ প্রতিষ্ঠানটির জন্য ৯৫ জন শিক্ষকের পদ সৃজন করার কথা রয়েছে।
যার মধ্যে এ পর্যন্ত প্রেষণে মাত্র ৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া কারিগরি বিভিন্ন শাখায় ৫৪টি পদের মধ্যে ৫ জনকে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ৪৫ কর্মচারীর মধ্যে ৬ জন ও ৪র্থ শ্রেণির আউটসোর্সিং স্টাফ নিয়োগেরও কথা রয়েছে এখানে।
তবে প্রতিষ্ঠানটি রাজস্বখাতে স্থানান্তর না হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন সহ পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রমও শুরু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’র প্রিন্সিপাল এসএম সামচুন নাহারের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, পুরো বিষয়টি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর সহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও অবহিত আছে।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ না হলে হয়তো প্রতিষ্ঠানটি রাজস্বখাতে স্থানান্তরে কিছু জটিলতা রয়েছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটির মেয়াদ রয়েছে বলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে।
তবে বরিশাল সহ ৩টি বিভাগীয় সদরে এ ধরনের তিনটি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট নির্মাণ প্রকল্পটি সম্পন্ন হবার পরে স্বাভাবিক নিয়মেই সবগুলো প্রতিষ্ঠান রাজস্বখাতে স্থানান্তরের আশাবাদ ব্যক্ত করে সব জটিলতার অবসান সহ প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম চালু করতে পারবে বলেও জানান প্রিন্সিপাল সামচুন নাহার।
উল্লেখ, সম্পূর্ণ দেশীয় তহবিলে বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহে ৩টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রকল্পটি অনুমোদন লাভ করে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে। কিন্তু নানা জটিলতায় এর নির্মাণ শুরুতেই অনেক বিলম্ব ঘটে। ফলে দু দফায় সময় বাড়িয়ে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটির কার্যক্রম শেষ করার সীমা নির্ধারিত রয়েছে।