নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: গৌরনদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলুর বাড়ি থেকে রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে তাদের আটক করা হয়।

তবে আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, তারা সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়িতে লক্ষ্মীপূজার অনুষ্ঠানে দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, সৈকত গুহ পিকলুর অভিযোগ, তার বাড়িতে পূজার অনুষ্ঠান চলাকালে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেন এবং পরে অতিথিদের পুলিশের হাতে তুলে দেন।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য সলিল গুহ পিন্টু, যিনি সৈকত গুহ পিকলুর ছোট ভাই; মহিবুল আলম খোকন; গৌরনদী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুম সরদার; মিঠুন হালদার; ওয়াসকুরনী আকন; পলাশ হাওলাদারসহ মোট ৭ জন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে মাহিলাড়ায় সৈকত গুহ পিকলুর বাড়িতে লক্ষ্মীপূজার আয়োজন চলছিল। এ উপলক্ষে তার পরিচিত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা অবস্থায় ৭ জনকে আটক করে পুলিশ।

সৈকত গুহ পিকলু বলেন, তাদের বাড়িতে লক্ষ্মীপূজার অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষীকে দাওয়াত দেয়া হয়েছিল। রোববার সন্ধ্যার আগে বিএনপির কয়েকজন কর্মী-সমর্থক তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেন। পরে পূজার দাওয়াতে আসা ৬ জন ও তাঁর ছোট ভাই পিন্টু গুহকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পলাশ হাওলাদার বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে রাজনৈতিক মামলার আসামি ছিলেন বলে জানা গেছে।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পর সোমবার সকালে আদালতে পাঠানো হবে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।