উজিরপুর প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার দক্ষিণ মাদার্শী এলাকায় আদালতের আদেশের পরও বিরোধপূর্ণ জমির দখল বুঝে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন আব্দুর রহমান সোহেল।
নিজেদের জমি বুঝে নিতে গেলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের সাতজনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিরা হলেন মো. মাহাবুবুর রহমান খলিফা, মো. জলিল খলিফা, মোছাম্মৎ ডালিয়া বেগম, মো. ইমন খলিফা, মোছাম্মৎ ইতি আক্তার, সিমা আক্তার ও মোছাম্মৎ রহিমা বেগম।
ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান সোহেলের অভিযোগ, দক্ষিণ মাদার্শী এলাকার বিরোধপূর্ণ জমি নিজেদের দখলে নিতে গেলে প্রতিপক্ষের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
আদালতের আদেশের পরও জমির দখল বুঝে না পাওয়ায় তাঁরা নিজেদের সম্পত্তি স্বাভাবিকভাবে ভোগদখল করতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
আদালতের নথি অনুযায়ী, উজিরপুরের দক্ষিণ মাদার্শী মৌজার একাধিক খতিয়ান ও দাগের জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
জমির মালিকানা, রেকর্ড ও দখলসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মামলাটিতে আদেশ দেন। নথিতে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে দ্বিতীয় পক্ষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মামলা নিষ্পত্তির কথা উল্লেখ রয়েছে।
তবে আদালতের আদেশের পরও বিরোধপূর্ণ জমির দখল পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি সোহেলের। তাঁর অভিযোগ, জমি বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করলেই বাধা ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। এ ঘটনায় আদালত ও উজিরপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁর দাবি, আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, বিরোধপূর্ণ জমির বর্তমান দখল পরিস্থিতি যাচাই এবং হুমকি-হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগী সোহেল আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে আদালতের আদেশের যথাযথ বাস্তবায়ন হবে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের সমাধান হবে।