নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ময়মনসিংহের ভালুকায় বাকিতে চুল কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে রবীন্দ্র ঋষি (৪২) নামে এক সেলুনমালিককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাদ্দাম হোসেন (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সাদ্দামকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার জামিরদিয়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে।

নিহত রবীন্দ্র ঋষি জামিরদিয়া এলাকায় নোমান কম্পোজিট ফ্যাক্টরির পাশে ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। ওই এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে ‘অপূর্ব হেয়ার কাটিং’ নামে তার একটি সেলুন ছিল। অভিযুক্ত সাদ্দামও একই এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা বাবুল হোসেনের সেখানে একটি দোকান রয়েছে।

মামলার এজাহার ও নিহতের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, সাদ্দাম চুল-দাড়ি কাটতেন রবীন্দ্রর সেলুনে গিয়ে। তবে প্রায়ই টাকা পরিশোধ করতেন না তিনি।

এমনকি নেশার জন্যও রবীন্দ্রর কাছ থেকে টাকা নিতেন। পাওনা টাকা চাওয়া এবং বাকিতে চুল কাটতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এই বিরোধের জেরেই রবীন্দ্রকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের মা সুলক রানী ঋষি বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এজাহারে বলা হয়, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে সেলুনে বসে তার ভায়রা মানিক ঋষির সঙ্গে কথা বলছিলেন রবীন্দ্র। এ সময় ছুরি হাতে সেখানে ঢুকে রবীন্দ্রর গলায় একাধিকবার আঘাত করেন সাদ্দাম।

প্রাণ বাঁচাতে রবীন্দ্র পাশের একটি দোকানে চলে গেলে সাদ্দাম সেখানেও গিয়ে তার বুকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে পাশের একটি বাড়ির উঠানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে মাটিতে ফেলে বুকে, পিঠে ও হাতে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হত্যার পর সাদ্দাম পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার রাতেই সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।

ময়নাতদন্ত শেষে রবীন্দ্রর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একমাত্র আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।