নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ভোলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৩৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৬০ দশমিক ৪৬ শতাংশই অকৃতকার্য হয়েছেন।

তবে পাসের হার কম হলেও গত বছরের তুলনায় জেলায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। এবার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬০ জন ছাত্রী ও ১৯ জন ছাত্র।

আজ শনিবার ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার ৫৯টি কলেজ থেকে এবার মোট ৯ হাজার ৯৯৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৯ হাজার ৫৩৯ জন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ হাজার ৭৭২ জন। অন্যদিকে অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ হাজার ৭৬৭ জন।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ছয় জেলার মধ্যে পাসের হারে ভোলার অবস্থান পঞ্চম। এ তালিকায় ভোলার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা ও পটুয়াখালী। অন্যদিকে বোর্ডের ছয় জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম পাসের হার ঝালকাঠিতে, ৩৭ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এবারের ফলাফলে জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে ছাত্রীদের এগিয়ে থাকার চিত্রও দেখা গেছে। জেলায় সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়া ৭৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬০ জন ছাত্রী এবং ১৯ জন ছাত্র।

এদিকে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলেও হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত শূন্য পাসের হারের তালিকায় ভোলার তিনটি কলেজের নাম রয়েছে।

এর মধ্যে চরফ্যাশনের চরম্যানিকা জালাল আহমেদ কলেজ থেকে তিনজন, লালমোহনের রামাগঞ্জ সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে চারজন এবং ভোলা সদরের মেদুয়া কলেজ থেকে পাঁচজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি।

সব মিলিয়ে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ভোলায় একদিকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগ তৈরি করেছে। জেলার সার্বিক পাসের হার বাড়াতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, পাঠদানের মান এবং বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।