নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) ও বরিশাল জেলার সভাপতি উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে নতুন প্রেক্ষাপটে একটি নতুন বন্দোবস্তের স্লোগান উঠেছে। দেশের মানুষ প্রতিষ্ঠিত ফ্যাসিস্ট উৎখাত করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে ইসলামী দল ও সমমনা দলগুলো এক হয়েছি একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য। যেখানে ক্ষুধা, দারিদ্র্য থাকবে না, অন্যায়-অবিচার, জুলুম, নির্যাতন-নিষ্পেষণ থাকবে না। একটি সুখী, সমৃদ্ধিশালী নতুন বাংলাদেশ আমরা গড়বো এ প্রত্যয় নিয়ে একত্র হয়েছি। আর এটা নিশ্চিত করার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট দাবিমালা উপস্থাপন করেছি। আর সেই দাবির পক্ষে জনমত গঠনের জন্য ৮ দলের কেন্দ্রীয় লিয়াজোঁ কমিটি ঢাকাতে একটি প্রোগ্রাম শেষে সাত বিভাগে সাতটি ধারাবাহিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
বরিশাল বিভাগে ২ ডিসেম্বর সমাবেশের আয়োজন নগরের বেলস্ পার্কে। আর এ সমাবেশ নিয়ে বিভাগের ৬ জেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা রয়েছে।
ইসলামী ও সমমনা ৮ দলের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশের প্রস্তুতি ও সার্বিক বিষয়ে অবহিত করণের লক্ষ্যে সোমবার (০১ ডিসেম্বর) দুপুরে নগরের কিং ফিসার আবাসিক হোটেলে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় এই নেতা আরও বলেন, আমাদের সুনির্দিষ্ট দাবিমালার মধ্যে ১ নম্বরে থাকা ঘোষিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আদেশ জারি চাই।
দ্বিতীয় দাবি হলো- জুলাই সনদ আদেশের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট চাই আমরা। কারণ জুলাই সনদে যে বিষয়গুলো আসছে, সেগুলোর বিষয়ে জনগণের মতামত প্রয়োজন।
তৃতীয়ত, পি আর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও সকল পর্যায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা আমাদের দাবি। এক্ষেত্রে একটা পরিবর্তনের কথা শুনছেন, দ্বি-কক্ষ পার্লামেন্টের মধ্যে উচ্চ কক্ষে পিআর পদ্ধতিকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হলেও আমাদের দাবি হলো : শুধু উচ্চকক্ষ নয়, নিম্ন কক্ষেও পি আর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে। সাথে সাথে নির্বাচনের সময় প্রশাসনের সর্বস্তরে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। এখন আমাদের কাছে যে খবর আসছে তাতে প্রশাসন কারও ইজ্ঞিতে কাজ করছে বলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নাই। অনেকে ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীদের ব্যানার ফেস্টুন নামিয়ে ফেলা হচ্ছে, ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। জনগণকে জানান দেবো আমরা মাঠে আছি, সেটুকুই যারা সহ্য করতে পারে না, তাহলে নির্বাচন শুরু হলে সহাবস্থান কীভাবে হবে? আমরা চাচ্ছি নিরপেক্ষ প্রশাসন যন্ত্র এবং সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড।
চতুর্থ দাবি-জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, শাপলা ট্র্যাজেডি ও বিডিআর গণহত্যায় সংশ্লিষ্ট সকল মানবতাবিরোধী অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করা। বিচার যদিও চলছে, তবে আমাদের দৃষ্টিতে অনেক ধীরগতি। এটি আরও ত্বরান্বিত হওয়া দরকার, প্রয়োজনে আদালতের বেঞ্চ বৃদ্ধি করা হোক।
পঞ্চম দাবির মধ্যে জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের সকল ফ্যাসিবাদের দোসর ও সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনা এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখা।
বিভাগীয় সমাবেশের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি ১০ লক্ষ মানুষের সমাগমে এই সমাবেশ বরিশালে জনসমুদ্র রূপ নেবে এবং নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবে, বেলস্ পার্কে লোক ধরবে না ইনশাল্লাহ। তবে আমরা খবর পেয়েছি, কোনো একটি দলের ইঙ্গিতে বাস মালিক সমিতির সাথে চুক্তি করা বাসগুলো দিতে এখন অস্বীকৃতি জানানো হচ্ছে। বাস নিয়ে তারা আসতে না চাওয়া, আমরা চিন্তিত দূর দূরান্ত থেকে লোক আসার বিষয়ে। এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
তিনি বলেন, সমাবেশের নিরাপত্তার জন্য প্রায় ৩০০জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবে। এছাড়াও আগত মুসুল্লিদের জন্য সেনিটেশন ও অজুর ব্যবস্থা থাকবে, মাঠেও নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। । পার্কিং এর জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, গাড়ি পার্কিং স্থান।
সমাবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখার বিষয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, হাউকাউ, ঠেলাঠেলি, মারামারি হবে না, আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অঙ্গীকার করছি, ইনশাল্লাহ। এই সমাবেশ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় সম্পন্ন হবে— এ ব্যাপারে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমরা কারও প্রতি সংঘাত বা উসকানির রাজনীতি চাই না, বরং সত্য, শান্তি, ন্যায় ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা— এটাই আমাদের লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগরের সভাপতি প্রফেসর মুহাম্মাদ লোকমান হাকীম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বরিশাল মহানগরের আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দীন মুহাম্মাদ বাবর ও জেলার আমির অধ্যাপক আব্দুল জব্বার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বরিশাল জেলার সভাপতি মাওলানা মো. জোবায়ের গালিব ও মহানগর সভাপতি মাওলানা রাকিবুল ইসলাম,খেলাফত মজলিস বরিশাল জেলার সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদের, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি বরিশাল জেলার সভাপতি মুহাম্মদ মনির হোসেন সহ সমমনা ৮ দলে বরিশাল জেলা ও মহানগরীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।