1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
ব‌রিশা‌লে বড় সহিংসতার আশঙ্কা! - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
হারতায় চেয়ারম্যান পদে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে তরিকুল ইসলাম তালুকদার  আওয়ামী লীগ মাটির নিচে চলে গেছে: বিদ্যুৎমন্ত্রী বরিশালে খাল পরিষ্কারে নেমে কাদায় আটকে গেলেন ইউএনও গলাচিপায় জেন্ডার সমতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তায় তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা বাকেরগঞ্জে এমপি আবুল হোসেনের মাসব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন বানারীপাড়ায় সলিয়াবাকপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ব্যাপক  আলোচনায় রুহুল আমিন জসিম পিরোজপুরে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন লালমোহন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন ট্রাম্প বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ৩ হাজার রোগীর খাবার বন্ধের শঙ্কা

ভোটের আগে ছায়া সংঘাত

ব‌রিশা‌লে বড় সহিংসতার আশঙ্কা!

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক : ভোট ঘনিয়ে এলেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ে। তবে বরিশাল বিভাগের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই স্বাভাবিক উত্তাপের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। প্রচারণার শুরুতেই কোথাও সংঘর্ষ, কোথাও বক্তব্যে প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্য হুমকির ঘটনা ঘটছে।

ঘটনাগুলো আলাদা বলে মনে হলেও এগুলো একসঙ্গে সাজালে যে চিত্রটি উঠে আসে, তা হলো, একই রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা।

এতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে সম্পর্ক দ্রুত খারাপ হচ্ছে, পাশাপাশি মাঠের রাজনীতিতে বাড়ছে অস্বস্তি। প্রশ্ন উঠছে, এসব কি কাকতালীয়, নাকি বড় কোনো ঘটনার ইঙ্গিত?

গত এক সপ্তাহের ঘটনা সেই সন্দেহকে আরো জোরালো করেছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ঝালকাঠির নলছিটির মোল্লারাটে জামায়াতের কয়েকজন কর্মী হামলার শিকার হন।

স্থানীয়রা বলছে, এর আগের দুই সপ্তাহ ধরেই এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছিল।

একই দিন বরিশাল নগরের কাশীপুরে বিএনপি সমর্থিত এক সাবেক কাউন্সিলরের অনুসারীদের হামলায় আহত হন আরেক জামায়াতকর্মী। দুই জেলায় একই দিনে এক দলের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা বিশ্লেষকদের কাছে আর বিচ্ছিন্ন বলে মনে হচ্ছে না।

এর আগের দিন মুলাদীর মীরগঞ্জ ফেরিঘাটে ছাত্রদলের একটি অংশ লাঞ্ছিত করে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে।

 

ফেরিঘাটের দোকানিদের অভিযোগ, ফুয়াদের ওপর হামলার ঘটনাটি পরিকল্পিত।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হামলার আগে কয়েকজনকে বারবার ফোনে নির্দেশনা নিতে দেখা গেছে।
এবি পার্টির দাবি, বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন পদধারী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

 

গত ৫ ডিসেম্বর বাউফলের কনকদিয়া বাজারে জামায়াত নেতা রাসেদুল ইসলামের ওপর ‘ওত পেতে’ হামলার অভিযোগ আসে। সব মিলিয়ে অন্তত ছয়টি ঘটনায় লক্ষ্যবস্তু একই দল। এই ধারাবাহিকতাকে কি কাকতালীয় বলা যায়, নাকি চাপ প্রয়োগের একটি প্যাটার্ন? বিষয়টি এখন দুই দলের শীর্ষ নেতাদের ভেতরেও অস্বস্তি সৃষ্টি করছে।

দুই দলের তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো থাকলেও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অবস্থান তাদের বিপাকে ফেলছে।

 

বক্তব্যের আগুন, মাঠের উত্তেজনা
ঘটনার পাশাপাশি বক্তৃতার ভাষাও ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ভোলার এক জনসভায় বিএনপির শীর্ষ নেতা হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, ‘২০০০ সালের মতো জামায়াতকে ধরে ধরে পুলিশের হাতে দিতে হবে।’ তাঁর বক্তব্যের পর এলাকায় উত্তেজনা বাড়ে বলে স্থানীয়দের দাবি। নেতাদের কথাবার্তার প্রভাব দ্রুত কর্মীদের মধ্যেও ছড়াচ্ছে।

 

এদিকে, গৌরনদীর এক ওয়াজ মাহফিলে বিএনপিরই আরেক নেতা সমালোচনার মুখে সভা ছাড়তে থাকা মানুষদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘চিনে রাখলাম আপনাদের।

 

স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় সমাবেশে এমন বক্তব্য অস্থিরতাকে আরো উসকে দিচ্ছে। কারণ এই সমাবেশে বিএনপি ছাড়া জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন দলের কর্মীরাই উপস্থিত ছিলেন।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট যত এগিয়ে আসছে, বরিশাল বিভাগের পরিস্থিতি ততই জটিল হচ্ছে। হামলার ধারাবাহিকতা, হুমকির সুর, এবং সম্পর্কের দিনদিন অবনতি হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে আরো বড় উত্তেজনার।

 

সুজনের বরিশাল জেলা কমিটির সম্পাদক রন‌জিৎ দত্ত বলেন, বিএনপি–জামায়াত সম্পর্ক এখন স্পষ্ট টানাপোড়েনে। একসময় একই প্ল্যাটফর্মে থাকা দুই দলের এই অবস্থান মাঠে সহনশীলতার জায়গা কমিয়ে দিচ্ছে।

 

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের তিনজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি। তবে এক জেলা প্রশাসক পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বক্তৃতার ভাষা তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে ঘটনার সংখ্যাও বাড়ছে। পরিস্থিতি কর্মী পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক বক্তব্যই এখন সহিংসতার পথ তৈরি করছে। দুই পক্ষ সহনশীল না হলে বড় অঘটন ঘটার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

 

সব পক্ষের সতর্কবার্তা
৮ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘এভাবে চললে সুষ্ঠু ভোটের সম্ভাবনা কমে যাবে।

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাড. মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, ‘হামলা–হুমকি বাড়লে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকে না। প্রশাসন নিরপেক্ষ না হলে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয়।

 

কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল) বিলকিস জাহান শিরিন মনে করেন, তফসিল ঘোষণা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে একটা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের পূর্বঘোষিত প্রার্থীরা আগামা প্রচারণা চালাচ্ছেন। সেটি করতে গিয়ে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। তফসিল ঘোষণা হলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network