1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
বরিশালের বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের শাহাদত বার্ষিকী আজ - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
হারতায় চেয়ারম্যান পদে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে তরিকুল ইসলাম তালুকদার  আওয়ামী লীগ মাটির নিচে চলে গেছে: বিদ্যুৎমন্ত্রী বরিশালে খাল পরিষ্কারে নেমে কাদায় আটকে গেলেন ইউএনও গলাচিপায় জেন্ডার সমতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তায় তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা বাকেরগঞ্জে এমপি আবুল হোসেনের মাসব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন বানারীপাড়ায় সলিয়াবাকপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ব্যাপক  আলোচনায় রুহুল আমিন জসিম পিরোজপুরে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন লালমোহন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন ট্রাম্প বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ৩ হাজার রোগীর খাবার বন্ধের শঙ্কা

বরিশালের বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের শাহাদত বার্ষিকী আজ

  • আপডেট সময় : রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

মুক্তিযুদ্ধের বীরসেনানী বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের শাহাদাত বার্ষিকী আজ-১৪ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এইদিনে মুক্তিযুদ্ধের ৭ নম্বর সেক্টরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ দখল করতে গিয়ে পাক বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের সাথে সম্মুখ সমরে কপালে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হন ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর।

 

বরিশালের বাবুগঞ্জের আগরপুর ইউনিয়নের রহিমগঞ্জ গ্রামে ১৯৪৯ সালের ৭ মার্চ এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। মা মোসাম্মাৎ সাফিয়া বেগম আর পিতা আবদুল মোতালেব হাওলাদারের ৩ ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে মহিউদ্দিন মেজ। এলাকার প্রভাবশালী ও সম্মানিত আবদুর রহিমের নামেই রহিমগঞ্জ গ্রাম। যার সন্তান আবদুল মোতালেব, মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের পিতা।

 

তবে মাত্র সাড়ে ৩ বছর বয়সেই মহিউদ্দিন বরিশালেরই মুলাদীর পাতারচরে মামা বাড়ীতে গিয়ে ১৯৫৩ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে মুলাদী মাহমুদজান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ৫ম ও অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তি লাভ করে ১৯৬৪ সালে কয়েকটি বিষয়ে লেটার মার্ক সহ বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক পাশ করেন। ১৯৬৬ সালে বরিশালে বিএম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাড় করেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর।

 

 

এরপরে বিমান বাহিনীতে যোগ দেয়ার চেষ্টা করেও চোখের সমস্যার কারণে ব্যর্থ হয়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তিহন। সেখানে পড়াশোনারত অবস্থায়ই মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৬৮ সালের ২ জুন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার্স কোরে কমিশন লাভ করেন।

 

মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর রিসালপুরের পাকিস্তান মিলিটারি কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে অফিসার্স বেসিক কোর্স-২৯ এবং ইনফ্যান্ট্রি স্কুল অব টেকটিক্স থেকে অফিসার উইপন কোর্স সম্পন্ন করেন। ১৯৭০-এর ৩০ আগস্ট ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি লাভ করেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর।

 

 

১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানের কারাকোরামে সোয়াত সাইদুর শরীফে পাকিস্তান-চীন মহাসড়ক নির্মাণে ১৭৩ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটেলিয়নে কর্মরত ছিলেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পাক সেনাবাহিনী বাঙালী সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকদের চোখে চোখে রাখত। এ বিশেষ নজরদারীর কারণে কোন বাঙালী সৈনিকের পক্ষে নিজেদের মধ্যে কুশল বিনিময়ও ছিল দুঃসাধ্য।

 

কিন্ত ‘পাকিস্তান সেনা বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে নিরীহ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে’ খবরটি জানার পরে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের মন অস্থির হয়ে উঠেছিল। মনে মনে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ার পথ খুঁজছিলেন তিনি। এ অবস্থায় প্রায় ৩ মাস পরে ক্যাপ্টেন আবদুল আজিজ পাশা, ক্যাপ্টেন আনাম, ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন মমতাজ ও ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার রশিদ খানের সাথে তার যোগাযোযোগ হয়।

 

 

সবাই মিলে পাকিস্তান থেকে পালানোর পরিকল্পনা করে ১৯৭১-এর ৩ জুলাই শিয়ালকোট থেকে প্রায় ২৫ মাইল দুরে মুনওয়ার তাবী নদীর ওপর ‘মারালা হেডওয়ার্ক’ নামের বাঁধ পেরিয়ে শহরের একটি হোটেলে ওঠেন। সেখান একটি ট্যাক্সি ভাড়া করে টিলার ওপর এক দরগায় যান জিয়ারতের উদ্দেশ্যে।

 

 

সেখানে ট্যাক্সি ছেড়ে দিলেও তারা টিলার ওপর না উঠে নিচে মাগরিব নামাজ আদায় করে মিলিশিয়াদের কালো পোশাক ও সালোয়ার-কামিজ পরে নিয়ে ঘুটঘুটে অন্ধকারে অনিশ্চয়তার পথে নেমে পরেন। পুরো শিয়ালকোট জুড়ে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে যাত্রাপথে পাক রেঞ্জারদের একটি ক্যাম্পের কাছে এসে এক জলাশয়ে শুধু নাক বের করে ঘাপটি মেরে থাকলেন। রাত ১টার দিকে মুনওয়ার তাবী নদীর ধারে পৌছলেও সে নদী অতিক্রম করে ওপারের ভারতে পৌছা ছিল দুঃসাধ্য। কারন প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে প্রশস্ত ও তীব্র খরস্রোতা ঐ নদী পাড় হবার কোন উপায় ছিলনা।

 

 

কিন্তু নদী-খালের দেশের মানুষ হয়ে তারা এ বাঁধা মানবেন কেন। নদীর কিনারা ধরে উজানে হাটতে শুরু করলেন। কিছুদূর যেতেই অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ ও অনেকটা কম প্রশস্ত জায়গা পেয়ে প্রবল স্রোতের মধ্যেই ঝাঁপিয়ে পরেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সহ সঙ্গী অপর ৪ জন। প্রবল বর্ষণ আর নদীর তীব্র স্রোতের সাথে লড়াই করে রাত ৩টার দিকে নদী পার হয়ে ভারতের মাটিতে পা রেখে কাছাকাছি বিএসএফ’র একটি ব্যাটেলিয়ন সদর দপ্তরে এসে হাজির হন ৫ ক্যাপ্টেন। সেখান থেকে দিল্লী হয়ে পরে কোলকাতা চলে আসেন সবাই।

 

 

মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সহ ৫ ক্যাপ্টেন কোলকাতায় পৌছার পরে মুক্তিযোদ্ধা সহ প্রবাসী সরকারের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। খোদ মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসামানী রণাঙ্গন থেকে কোলকাতায় ফিরে এসে তাদের অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন।

 

 

 

কোলকাতা থেকেই এ ৫ ক্যাপ্টেনকে পাঁচটি সেক্টরে পাঠান হয়। ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরকে ৭ নম্বর সেক্টরের মেহেদিপুর ক্যাম্পে পাঠান হল। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পাশে মহানন্দা নদীর পশ্চিমপাড়ে ভারতের মালদহ জেলার মেহেদিপুর ক্যাম্পের দায়িত্ব নিয়ে মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ৭ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার লে.কর্নেল নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের দায়িত্ব পেয়ে খুবই দক্ষতা ও অধ্যবসায়য়ের পরিচয় দেন। এমনকি অনেক ভারতীয় জেনারেলগনও সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের কর্মদক্ষতা ও দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেছেন।

 

 

 

১৯৭১-এর ৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সব ফ্রন্টে দখলদার পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াই শুরু হয়। তারই অংশ হিসেবে ৭ নম্বর সেক্টরের মেহেদিপুর ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর দায়িত্ব আসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ দখলের। লেফটেনেন্ট কাইয়ুম ও লেফটেনেন্ট আউয়াল সহ ৫০ জন সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ডিসেম্বরের ১০ তারিখে চাপাইনবাবগঞ্জের পশ্চিমে বারঘরিয়ায় অবস্থান নেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারতীয় গোলন্দাজ বাহিনী ১১ ডিসেম্বর পাক বাহিনীর ওপর আর্টিলারী গোলাবর্ষণের কথা ছিল। যাতে পাক বাহিনী অপ্রস্তুত ও বিভ্রান্ত হয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়। ভারতীয় এরিয়া কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার প্রেম সিং’র সাথে ৭ নম্বর সেক্টর কমান্ডের আগে থেকেই এ সংক্রান্ত সব পরিকল্পনা চূড়ান্ত ছিল।

 

 

 

কিন্তু পরিকল্পনা মাফিক ১১ ডিসেম্বরর ভোরে ভারতীয় বাহিনী কোন গোলা বর্ষণ করেনি। উপায় না দেখে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন বার বার বারই ভারতীয় বাহিনীর সাথে ওয়ারলেসে যোগাযোগের চেষ্টা করতে থাকেন। ১১ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত যোগাযোগের সর্বাত্মক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন জাহাঙ্গীর। ভারতীয় পক্ষ থেকে কোন সাড়াই মেলেনি।

 

 

 

 

কিন্তু ফিরে যাবারও কোন উপায় ছিলনা। তিনি দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নিলেন ভারতীয় বাহিনীর সহায়তা ছাড়া মুক্তিযেদ্ধারাই আক্রমণ শুরু করবে। তিনি সঙ্গী সব যোদ্ধাকে ডেকে কে কে তার সাথে সম্মুখ সমরে যেতে রাজী আছে জানতে চাইলেন। ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা তার সাথে যেতে রাজী হলেন।

 

 

 

তাদের নিয়েই ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর মহান্দার ওপারে বারঘরিয়া থেকে অভিযানে নামলেন। কনকনে হীম ঠান্ডায় রেহাইরচর থেকে পায়ে হেটেই মহানন্দা নদী পার হয়ে উত্তর দিক থেকে একটি একটি করে পাক বাঙ্কারে হামলা চালিয়ে গুলির পরিবর্তে বেয়ানট দিয়ে শত্রু খতম করে দক্ষিণে এগুতে লাগলেন। যাতে দক্ষিণের বাঙ্কারের পাক সেনারা টের না পায়, তাই তিনি গুলির পরিবর্তে বেয়ানট দিয়েই শত্রুæ শেষ করে দক্ষিণে অগ্রসর হচ্ছিলেন।

 

 

 

 

সম্মুখ ও হাতাহাতি যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করলেও শেষ রাতের এ অতর্কিত হামলার ব্যাপারে পাক বাহিনী মোটেই প্রস্তুত ছিলনা। ফলে সফলতাও আসছিল। মাত্র কয়েকটি বাঙ্কার দখল তখন বাকি। কিন্তু বাঁধের ওপর অবস্থান নেয়া পাক সিভিল আর্মড ফোর্সের কয়েকজন সেনা ও রাজাকাররা বিষয়টি টের পেয়ে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ প্রতি আক্রমণেও তিনি বিচলিত হননি। দমে যাননি একটুকুও। প্রাণপণে শত্রুর বাঙ্কারে হামলা চালাচ্ছিলেন। গুলির বৃষ্টির মধ্যেও চিৎকার করে সহযোদ্ধাদের এগিয়ে যাবার নির্দেশ দিয়ে নিজেও তাদের অগ্রভাগে এগিয়ে গেলেন। তখন সে দুঃসাহসী দেশ মাতৃকার এক বীরযোদ্ধা।

 

 

 

কিন্তু বিজয় যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখনই আকস্মিক একটি গুলি এসে বিঁধল বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের কপালে। সাথে সাথে তিনি লুটিয়ে পড়লেন বাঙ্কারের মধ্যেই।

 

 

 

এসময় পাক বাহিনী ও রাজাকারদের গুলির বৃষ্টি মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর ঝড় তৈরি করল। উপায় না দেখে সবাই মহানন্দায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ডুব সাঁতারে নিরাপদ দূরত্বে ফিরে মেহেদিপুর ক্যাম্পে উঠলেও প্রচন্ড ঠান্ডায় সব যোদ্ধাই অনেকটা মৃতপ্রায় হয়ে পরেছিলেন। কিন্তু প্রাণপ্রিয় কমান্ডারকে হারানোর প্রতিশোধ নিতে সবাই তখন মরিয়া। বিকেলের মধ্যেই পুনরায় মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় সৈনিকেরা মহানন্দা পার হয়ে পাক বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পরে প্রাণপণ লড়াই করে বিজয় ছিনিয়ে নেয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ হানাদার মুক্ত হয়।

 

 

 

কিন্তু সেদিন প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার মন ছিল কমান্ডারকে হারানোর বেদনায় ভারাক্রান্ত। শত্রুপক্ষকে পরাজিত করে মনন্দার চর এলাকার বাঙ্কার থেকে শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের লাশ উদ্ধার করে সোনা মসজিদে নিয়ে আসেন সহযোদ্ধারা। পরদিন, ১৫ ডিসেম্বর হাজার হাজার এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধাগন চোখের পানিতে ঐতিহাসিক সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণে শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের লাশ সমাহিত করেন। চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র ৫৮ ঘন্টা আগে শহিদ হন এ বীর সেনানী। মাত্র ৩৬ ঘন্টা আগে সোনা মসজিদের সামনে তাকে চীর বিদায় জানান হাজার হাজার মানুষ।

 

 

 

বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের নামে সোনা মসজিদ সংলগ্ন মহানন্দা নদীর ওপর একটি সেতুর নামকরণ করা হয়েছে। ২০০৩ সালে বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের ওপর দোয়ারিকা সেতুটির নামকরণও তার নামে হয়েছে। ঢাকা সেনা নিবাসের প্রধান ফটকের নামকরনও হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ জাহাঙ্গীর গেট নামে। এছাড়া তার গ্রামের বাড়ীর এলাকাটির নামকরণ হয়েছে জাহাঙ্গীর নগর নামে। ১৯৮২ সালে দেশের ৭ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারকে সেনা তহবিল থেকে বাড়ি তৈরি করে দেয়া হয়েছে। বরিশাল মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোডটির নামও ‘বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক’ নামে নামকরণ করা হয়েছে। তার গামের বাড়িতে স্মৃতি যাদুঘর সহ লাইব্রেরী স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবছর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা সহ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সেনাকুঞ্জে সংর্বধনা প্রদান করা হয়ে থাকে।

 

 

পুরো জাতী বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সহ দেশের সব মুক্তিযোদ্ধাদের কাছেই ঋণী। যে ঋণ কোনদিন শোধ হবার নয়।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network