1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
বরিশালে ভূমিকম্পে হেলে পড়া আলোচিত ভবন নিয়ে অনিশ্চয়তা, ঝুঁকিতে বাসিন্দারা - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
হারতায় চেয়ারম্যান পদে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে তরিকুল ইসলাম তালুকদার  আওয়ামী লীগ মাটির নিচে চলে গেছে: বিদ্যুৎমন্ত্রী বরিশালে খাল পরিষ্কারে নেমে কাদায় আটকে গেলেন ইউএনও গলাচিপায় জেন্ডার সমতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তায় তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা বাকেরগঞ্জে এমপি আবুল হোসেনের মাসব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন বানারীপাড়ায় সলিয়াবাকপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ব্যাপক  আলোচনায় রুহুল আমিন জসিম পিরোজপুরে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন লালমোহন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন ট্রাম্প বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ৩ হাজার রোগীর খাবার বন্ধের শঙ্কা

বরিশালে ভূমিকম্পে হেলে পড়া আলোচিত ভবন নিয়ে অনিশ্চয়তা, ঝুঁকিতে বাসিন্দারা

  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের আমানতগঞ্জে ভূমিকম্পের পর হেলে পড়া হাওলাদার ভবনটি ঘিরে শুরু থেকেই দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। কখনো ভবনটিকে নিরাপদ বলা হয়েছে, আবার কখনো ঝুঁকিপূর্ণ। একের পর এক বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য ও নথিগত অসংগতির মধ্যেই সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সিটি করপোরেশনে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবনটির কাঠামোগত সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

 

তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার আগেই একাধিক সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্য ভবন মালিক ও বাসিন্দাদের মধ্যে ভিন্ন বার্তা ছড়িয়ে দেয়। এতে অনিশ্চয়তা আরো বেড়ে যায়। ভূমিকম্পের পর হেলে পড়া একটি ভবনে বসবাস নিয়ে যখন দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, তখনই দায়িত্বশীল অবস্থানের অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

 

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ভূমিকম্পের পর হাওলাদার ভবনটি পাশের একটি ভবনের দিকে হেলে পড়ে।

 

 

বিষয়টি ২৩ নভেম্বর প্রকাশ্যে আসে। তখন দুই ভবনের মালিক একে অপরকে দায়ী করতে থাকেন। ফায়ার সার্ভিস ও গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনের হেলে পড়া অবস্থাও প্রত্যক্ষ করেন। তবে সে সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক দাবি করেন, ভবন দুটি ঠিক আছে এবং একটি অন্যটির ওপর হেলে পড়েনি।

 

 

পরবর্তীতে ঘটনার তদন্তে সিটি করপোরেশন সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ৪ ডিসেম্বর করপোরেশনে দাখিল করা হয়। ওই ঘটনার পর গত ৯ ডিসেম্বর ভবন মালিক মোতালেব হাওলাদারকে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে জান-মালের নিরাপত্তার স্বার্থে ভবন খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বুয়েট, কুয়েট, চুয়েট অথবা রুয়েটের মতো কোনো সরকারি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান থেকে ভবনের সক্ষমতা যাচাই করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

 

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটি পুরোপুরি খালি হয়নি। এখন পর্যন্ত মাত্র একজন ভাড়াটে ভবন ছেড়েছেন। ভবন মালিক নিজেও সেখানে অবস্থান করছেন। অন্য ভাড়াটেদের মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও বেশির ভাগই এখনো ভবনে বসবাস করছেন। একাধিক ভাড়াটিয়া জানান, নোটিশের বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। ফলে ঝুঁকির কথা না জেনেই তারা সেখানে ছিলেন। বিষয়টি জানার পর অনেকেই ভবন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

 

 

তদন্ত কমিটির সদস্য ও সিটি করপোরেশনের স্থপতি সাইদুর রহমান জানান, তদন্তের সময় ভবনের মূল কাঠামোগত নকশা দেখাতে পারেননি মালিক। তার ভাষায়, হেলেপড়া অংশে অনুমোদন ছাড়াই পাঁচতলা নির্মাণ করা হয়েছে। কাঠামোগত নকশা না থাকায় ভবনের লোড বেয়ারিং সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থায় বিস্তারিত ডিটেইলড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট ছাড়া ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মত দেয় তদন্ত কমিটি। তবে তদন্তের শুরুতেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

 

তদন্ত কমিটির সদস্য, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন তখন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভবনটি নকশা অনুযায়ী তৈরি এবং বসবাসে কোনো ঝুঁকি নেই। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকে আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান জানান। এই বক্তব্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তাদের প্রশ্ন ছিল, চোখের সামনে হেলে থাকা ভবনকে নিরাপদ বলার ভিত্তি কী।

 

 

পরবর্তী সময়ে ওই কর্মকর্তা তদন্ত কমিটির সামগ্রিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হন এবং প্রকৃত তথ্য জানার পর তা প্রকাশের অনুরোধ জানান। তবে তত দিনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে।

 

 

 

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তার প্রাথমিক বক্তব্যের ওপর ভর করেই ভবন মালিক মোতালেব হাওলাদার দাবি করেন, ভবনে কোনো ত্রুটি নেই। প্রাথমিক তদন্তেও কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। এমনকি সিটি করপোরেশন থেকে কোনো নোটিশও তিনি পাননি বলে দাবি করেন।

 

 

 

অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শুধু এই ভবন নয়, নগরীর আরো ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মালিককেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মালিক যদি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বলে স্বীকার করেন, তাহলে ভাঙার নোটিশ দেওয়া হবে। মালিক নিজে ব্যবস্থা না নিলে সিটি করপোরেশনই ভবন ভেঙে দেবে।

 

 

তদন্ত কমিটির পাঁচটি সুপারিশের একটি হলো সক্ষমতা প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ভবনে বসবাস বন্ধ রাখা। কিন্তু বাস্তবে সেই সুপারিশ এখনো কার্যকর হয়নি। স্থপতিরা বলছেন, একদিকে ফায়ার সার্ভিসের মৌখিক আশ্বাস, অন্যদিকে তদন্ত কমিটির লিখিত প্রতিবেদন— এই দুই বিপরীত অবস্থান সাধারণ মানুষের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা দিচ্ছে। ভবনটি যদি সত্যিই নিরাপদ হয়, তাহলে সরকারি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যাচাইয়ে মালিকপক্ষের আপত্তি কোথায়। আর যদি ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তাহলে কেন এখনো সেখানে মানুষ বসবাস করছে?

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network