1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
বরিশালে সাড়ে ৩শ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ হাজার হেক্টরে সেচ সুবিধা প্রকল্প চালু - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
হারতায় চেয়ারম্যান পদে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে তরিকুল ইসলাম তালুকদার  আওয়ামী লীগ মাটির নিচে চলে গেছে: বিদ্যুৎমন্ত্রী বরিশালে খাল পরিষ্কারে নেমে কাদায় আটকে গেলেন ইউএনও গলাচিপায় জেন্ডার সমতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তায় তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা বাকেরগঞ্জে এমপি আবুল হোসেনের মাসব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন বানারীপাড়ায় সলিয়াবাকপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ব্যাপক  আলোচনায় রুহুল আমিন জসিম পিরোজপুরে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন লালমোহন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন ট্রাম্প বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ৩ হাজার রোগীর খাবার বন্ধের শঙ্কা

বরিশালে সাড়ে ৩শ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ হাজার হেক্টরে সেচ সুবিধা প্রকল্প চালু

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

স্পেশাল প্রতিবেদক : দেশীয় প্রায় সাড়ে ৩শ কোটি টাকা ব্যয়ে বিএডিসি বৃহত্তর বরিশালের ২৮ উপজেলার সাড়ে ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে ৬৬ হাজার টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির ভৌত অবকাঠামোর প্রায় ৭০ ভাগ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ২০২৩-এর সেপ্টেম্বর থেকে চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও এর মেয়াদ আরো অন্তত এক বছর বৃদ্ধি করতে হচ্ছে। প্রকল্পটির জন্য গত অর্থ বছর পর্যন্ত প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ের পরে চলতি অর্থ বছরে আরো ১১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যারমধ্যে গত অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে প্রকল্পটির জন্য ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ২৫৫ কোটিতে দাঁড়াচ্ছে। ভৌত অগ্রগতির হার প্রায় ৬৫ ভাগ বলে বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন।

 

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যাবহার হ্রাস করে ভ’-উপরিস্থিত পানির ব্যবহার বর্তমানের ১ লাখ ৫৭ হাজার হেক্টর থেকে প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার হেক্টরে উন্নীত হবে। পাশাপাশি সৌরচালিত লো লিফট পাম্পের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য শক্তির মাধ্যমে পুনঃখননকৃত খাল ও পুকুর সহ ফসল রক্ষা বাঁধে বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করনে সহায়তা করবে। ফলে ভ’ উপরিস্থিত পানির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন হ্রাসের ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাবার প্রবণতা কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে বিএডিসি’র দায়িত্বশীল মহল।

 

প্রায় ১২ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশাল কৃষি অঞ্চলে সেচযোগ্য জমির অর্ধেকও এখনো সেচের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে ২ লক্ষাধিক হেক্টর জমিতে সেচাবাদ হলেও তার মধ্যে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন-বিএডিসি’র অবদান ২০ হাজার হেক্টরেরও কম। উপরন্তু গত রবি মৌসুমে এ অঞ্চলের মাঠে ব্যবহৃত বিভিন্ন মাপের ১৯,৪৩৮টি সেচ পাম্পের মধ্যে বিদ্যুৎ চালিত পাম্পের সংখ্যা ছিল মাত্র ১,৪৬২টি বা ৭.৫১%। ডিজেল চালিত পাম্প ১৭,৯৫৮ বা ৯২.৩০%। আর সোলার চালিত পাম্প ছিল ৩৭টি বা ০.১৯ভাগ।

 

 

এমনকি সরকার ২০০২-০৩ সাল থেকে কৃষিসেচ কাজে ব্যবহ্রত বিদ্যুতে ২০% ভর্তুকি প্রদান করলেও অধিক ব্যায়বহুল ডিজেল চালিত পাম্পে কোন ভর্তুকি নেই। অথচ বরিশাল অঞ্চলে সেচকাজে ব্যবহৃত ৯৩ ভাগ সেচ যন্ত্রই ব্যায়বহুল ডিজেল চালিত। ফলে এ অঞ্চলে অত্যধিক সেচ ব্যয়ের কারণে ধানের উৎপাদন ব্যায়ও দেশের যেকোন স্থানের তুলনায় বেশী।

 

 

ফলে একদিকে রবি মৌসুমে সেচাবাদে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে না, অপরদিকে অধিক ব্যায়বহুল সেচ ব্যয়ের কারণে তাদের ভাগ্যেরও পরিবর্তন হচ্ছে না। অথচ সেচযন্ত্রের অর্ধেকও বিদ্যুতায়িত করতে পারলে এ অঞ্চলের খাদ্য উৎপাদন বর্তমানের প্রায় ৫০ লাখ টনের স্থলে অন্তত ৬০ লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদগন। এমনকি কৃষিসেচ ব্যবস্থা বিদুতায়িত করতে পারলে লাগাতার লোকসানে থাকা এ অঞ্চলের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোও আর্থিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পাড়ত বলে মনে করছেন জ্বালানী বিশেষজ্ঞগন।

 

সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয় আহুত ‘ট্রান্সফর্মিং বাংলাদেশ এগ্রিকালচার আউটলুক ২০২৫’ শীর্ষক এক কর্মশালায়, ‘বরিশাল কৃষি অঞ্চলে সেচযোগ্য জমির পরিমাণ ৬ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৪ হেক্টর বলে জানিয়ে এরমধ্যে মাত্র ২ লাখ ২৫ হাজার ৪৩ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অঞ্চলে সেচের আওতায় আনা জমির পরিমাণ এখনো মাত্র ৩৫.৭৫ ভাগ বলে ঐ কর্মশালায় উপস্থাপন করে বোরো মৌসুমেই আবাদযোগ্য অনাবাদী জমির পরিমাণ ৯৮ হাজার ৩৭৫ হেক্টর বলে জানান হয়েছে।

 

এসব বিবেচনায় বিএডিসি ২০২৩-২৪ অর্থ বছর থেকে ‘বরিশাল অঞ্চলে সেচ উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎ চালিত ২৫০টি এক ও ২ কিউসেক সেচযন্ত্র, ২০টি এক কিউসেক ক্ষমতা সম্পন্ন সোলার লো-লিফট পাম্প, ৩২৫ কিলোমিটার ছোট সেচ খাল ও ৫০ কিলোমিটার বড় সেচখাল পুনঃ খনন এবং প্রতি কিলোমিটারে ৪টি করে বিভিন্ন খালের পাড়ে প্রায় দেড় হাজার পানি নির্গমন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় ২শটি পাম্প হাউজ ও ৩শটি ওয়াটার পাস নির্মাণ করা হচ্ছে। একই সাথে প্রায় ৪ হাজার ঘন মিটার করে ৩০টি পুকুর পুণঃখনও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যেসব পুকুর থেকে বিভিন্ন জমিতে সেচ প্রদানও সম্ভব হবে। একইসাথে প্রকল্পটির আওতায় ২৭০টি এক ও দুই কিউেসেক ক্ষমতার ভূ’-গর্ভস্থ সেচনালাও খনন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় ৪০ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধও নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় ফলের বাগানের জন্য ৭৫টি ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম ও ৪০টি ভ’গর্ভস্থ নিষ্কাশন নালা নির্মিত হচ্ছে। এছাড়া প্রকল্প এলাকার খালগুরোতে পানি ধরে রাখতে ২০ ৩ ভিন্টের ৩০টি রেগুলেটর’ও নির্মাণ করা হচ্ছে।

 

বরিশাল অঞ্চলে এ সেচ কার্যক্রম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩শটি ওয়াটার পাস, পাইপ কালভার্ট ও ক্যাটল ক্রসিংও নির্মিত হবে। পাশাপাশি সমাপ্তকৃত প্রকল্পের ১ ও ২ কিউসেক লো লিফট পাম্প-এলএলপি’র ২শটি পাম্প হাউজ নির্মাণ সহ ফলের বাগান সমূহে সাড়ে ৭শ সেট সোলার ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম নির্মাণ করা হচ্ছে। এমনকি প্রকল্পটির আওতায় পুনঃ খননকৃত খালে কৃষিজ পণ্য ওঠানামার সুবিধার্থে ১৫টি আরসিসি ঘাটলাও নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায়। একইসাথে কৃষিপণ্য ও কৃষি যন্ত্রপাতি পরিবহন ও সংরক্ষণে দেড়শটি অবকাঠামো নির্মিত হবে।

 

সেচ কার্যক্রম উন্নয়ন প্রকল্পটির আওতায় ১শটি ব্যাচে বিপুল সংখ্যক কৃষককে প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া সেচনালা নির্মাণের লক্ষ্যে প্রায় ৩শ সেট এক কিউসিক ও ২ কিউসেক ইউপিভিসি পাইপ সেট সংগ্রহ করে স্থাপন করা হচ্ছে। একইসাথে ২০টি সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহ্রত লো লিফট পাম্প সংগ্রহ করে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে সমাপ্তকৃত প্রকল্পটির সোলার এলএলপি গুলোতে বিদ্যুৎ সুবিধাও নিশ্চিত করা হবে বলে জানা গেছে।

 

২০২৬-এর ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ১৬,৫০৪ হেক্টর জমিতে বাড়তি সেচ সুবিধা নিশ্চিতের মাধ্যমে ৬৬ হাজার ১৪ টন খাদ্যশস্য উৎপন্ন হবে বলে আশা করছে বিএডিসি’র দায়িত্বশীল মহল। একইসাথে ফলের বাগানেও সেচ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বিভিন্ন ফলের আবাদ ও উৎপাদন বাড়বে বলেও আশাবাদী কৃষিবিদ সহ বিএডিসি।

 

এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ ওয়াহিদ মুরাদ জানান, আমরা প্রতিটি বিষয়ে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি প্রধান বরিশাল অঞ্চলে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network