1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
বরিশালে কৃষি-অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারছে না - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
গলাচিপায় জেন্ডার সমতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তায় তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা বাকেরগঞ্জে এমপি আবুল হোসেনের মাসব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন বানারীপাড়ায় সলিয়াবাকপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ব্যাপক  আলোচনায় রুহুল আমিন জসিম পিরোজপুরে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন লালমোহন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন ট্রাম্প বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ৩ হাজার রোগীর খাবার বন্ধের শঙ্কা দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগের পরও অপপ্রচারের শিকার আলবার্ট রিপন বল্লভ এবার তালাক নোটিশ ও কথিত কাবিননামা প্রকাশ করলেন গোলাম মাওলা রনি পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলি, সেনাসদস্য গুলিবিদ্ধ

বরিশালে কৃষি-অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারছে না

  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা সহ উন্নত প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে না পৌঁছায় বরিশালে বিপুল সম্ভাবনার সয়াবিনের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদিত এ তেল বীজের কাঙ্ক্ষিত ব্যবহার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা।

 

 

এমনকি, বীজ থেকে তেলে রূপান্তরের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে আজ পর্যন্ত বিপুল সম্ভাবনার এ তেলবীজ দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদা পরনে ন্যূনতম কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-ডিএসইর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল মহলের মতেও, সয়াবিন তেল বীজের প্রায় পুরোটাই চলে যাচ্ছে হাঁস-মুরগী ও মাছের খাবার তৈরিতে।

 

 

চলতি রবি মৌসুমেও বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ২৮ হাজার হেক্টরে সয়াবিন আবাদের লক্ষ্য স্থির করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। তবে তা লক্ষ্য অতিক্রম করে ৩৫ হাজার হেক্টরের ওপরে পৌঁছার সম্ভাবনার কথা বলেছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদ। বিগত রবি মৌসুমেও বরিশাল অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধাগন প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টরে সয়াবিনের আবাদ সম্পন্ন করেছিলেন বলে ডিএই’র হিসেবে বলা হয়েছে। ফলে উৎপাদনও ৭৩ হাজার হেক্টরের স্থলে প্রায় ১ লাখ টনে উন্নীত হয়েছিল বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

 

 

দেশে আবাদ ও উৎপাদিত সয়াবিনের প্রায় ৪০ ভাগই জোগান দিচ্ছে বরিশাল অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধাগন। গত বছর রবি মৌসুমে দেশে ৮৬ হাজার হেক্টরে আবাদ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ৯২ হাজার হেক্টরে সয়াবিনের আবাদ হয়। ফলে ১ লাখ ৫৯ হাজার টন সয়াবিন উৎপাদন লক্ষ্য অতিক্রম করে সোয়া ২ লাখ টন অতিক্রম করে বলে ডিএই সূত্রে জানা গেছে।

 

 

গত বছর রবি মৌসুমে দেশে ১৪ লাখ হেক্টরেরও বেশী জমিতে প্রায় ২২ লাখ টন বিভিন্ন ধরনের তেলবীজ উৎপাদন হলেও তা দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদার অর্ধেকেরও কম। ফলে এখনো বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল ও তেলবীজ বিদেশ থেকে আমদানি করতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।

 

এসব বিবেচনায় সয়াবিন-এর আবাদ সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে কৃষি বিজ্ঞানীগণ মনে করছেন। এখনো দেশে ভোজ্য তেলের চাহিদার ৮০ ভাগেরও বেশী সয়াবিন তেলের। যার প্রায় পুরোটাই আমদানি নির্ভর। কারণ, দেশে আবাদকৃত প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে যে প্রায় সোয়া ২ লাখ টনের মতো সয়াবিন তেলবীজ উৎপাদন হচ্ছে, তার পুরোটাই চলে যাচ্ছে পোলট্রি ফিড ও ফিস ফিড’র কারখানায়।

 

 

বরিশাল অঞ্চলেও বিপুল সম্ভাবনাময় সয়াবিনের আবাদ ধীর লয়ে বাড়লেও তা ভোজ্য তেলের চাহিদা মোটানোর ক্ষেত্রে কোনো ভ’মিকাই রাখছে না। বিভিন্ন পোলট্রি ও পোলট্রী ফিড কারখানার নিয়োজিত ফড়িয়াগন মাঠ থেকেই তাদের নির্ধারিত দরে এসব তেলবীজ কিনে নিচ্ছে। কোণ ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দেশের সয়াবিন তেলবীজ কৃষক বা পাইকারি পর্যায়ে না কেনায় উৎপাদিত প্রায় সোয়া দুইলাখ টন সয়াবিন তেলবীজের পুরোটাই চলে যাচ্ছে পোল্ট্রি ফিডের কারখানায়।

 

 

কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, সয়াবিন তেল জনস্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট উপযোগী ও উপকারী। এ ভোজ্য তেলে ৪০-৪৫% আমিষ এবং ১৯-২২% পর্যন্ত তেল থাকে। যেকোন ডাল বা শুটি জাতীয় শস্যের তুলনায় সয়াবিনে আমিষের পরিমাণ যথেষ্ট বেশী। অথচ দাম তুলনামূলকভাবে কম।

 

 

‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-বারি’ ইতোমধ্যে উন্নত প্রযুক্তির ও উচ্চ ফলনশীল প্রায় ৪০টি জাতের বিভিন্ন তেল বীজ উদ্ভাবন করেছে। যার মধ্যে সয়াবিনেরও ৬টি জাত রয়েছে। ‘বারি’র বিজ্ঞানীগণ ইতোমধ্যে ‘সোহাগ-পিবি-১’, ‘বাংলাদেশ সয়াবিন-৪ বা জি-২’, ‘বারি সয়াবিন-৫’ ও ‘বারি সয়াবিন-৬’ নামের একাধিক উন্নতজাত উদ্ভাবন করেছেন। এসব উন্নতজাতের সয়াবিনের ফলন হেক্টর প্রতি ১.৮০ টন থেকে সোয়া দুইটন পর্যন্ত। দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ ও এটেল দো-আঁশ মাটি সয়াবিন চাষের উপযোগী। যা নদ-নদীবিধৌত বরিশালের চরাঞ্চলে অনায়াসেই সম্ভব।

 

 

বারি এবং বিনা’র বিজ্ঞানীগনও সয়াবিন সহ বিভিন্ন তেলবীজ উন্নয়নে তাদের গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে সয়াবিনের যেসব উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, তা বরিশাল অঞ্চলের কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে আগামী ৫ বছরেই এ অঞ্চলেই অন্তত ২ লাখ টন সয়াবিন তেলবীজ উৎপাদন সম্ভব বলে মনে করছেন বিজ্ঞনীগন। কিন্তু উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল সয়াবিনের বীজ ও তার আবাদ প্রযুক্তি এখনো কৃষকের দোড় গোড়ায় পৌঁছেনি।

 

 

পাশাপাশি এসব সয়াবিন থেকে স্থানীয় পর্যায়ে তেল উৎপাদনের ব্যবস্থা করলে তা অন্তত দক্ষিণাঞ্চলের ভোজ্য তেলের চাহিদার অনেকাংশেই মেটাতে সক্ষম হত। পাশাপাশি কৃষক ও কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতেও সহায়ক হত বলেও মনে করছেন কৃষি বিজ্ঞানীগণ। ২৮-১২-২০২৫।

 

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network