দানিসুর রহমান লিমন, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল): জাতীয় পার্টির একাংশের মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী আলহাজ্ব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও তাঁর স্ত্রী বেগম নাসরিন জাহান রতনা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত তা দাখিল করেননি।
বরিশাল- ০৬ (বাকেরগঞ্জ) থেকে আলহাজ্ব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও তার স্ত্রী বেগম নাসরিন জাহান রতনা ছয়বারের সংসদ সদস্য ছিলেন। আগামী ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে এই দম্পতি জাতীয় পার্টি ও জেপির নেতৃত্বে নির্বাচনী জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) করেছিলেন এবং সেই জোট থেকে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন বেগম নাসরিন জাহান রতনা। আর তাঁর স্বামী রুহুল আমিন হাওলাদার মনোনয়ন পেয়েছিলেন পটুয়াখালী-১ (সদর) আসনে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শেষ দিন সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বেগম নাসরিন জাহান রতনা কিংবা তাদের প্রতিনিধিরা রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট ফরম জমা দেননি।
রুহুল আমিন হাওলাদার জানান, নির্বাচনে লেভেলিং ফিল্ড না থাকা এবং তাদের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করায় তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই ব্যক্তিগত কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন এবং নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেওয়ার জন্য জোটও গঠন করেছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে দাখিল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাদের।
রাজনৈতিক মহলে এ ঘটনাকে ঘিরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মনে করছেন এটি নির্বাচনী কৌশল হতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণেই হয়তো এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ায় এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও তার স্ত্রী বেগম নাসরিন জাহান রতনার প্রার্থীতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে। এখন আসন দুটি অন্যান্য প্রার্থীর জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ খুলে গেছে। এ ঘটনায় ভোটার ও স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক জটিলতার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকেই বলছেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করার আগেই প্রত্যাহার করা অস্বাভাবিক ঘটনা। এভাবে স্বামী-স্ত্রীর মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে তোলপাড় তৈরি করেছে।