1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
বরিশালে সয়াবিনের আবাদ ও উৎপাদন আশার আলো দেখাচ্ছে - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বানারীপাড়ায় সলিয়াবাকপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ব্যাপক  আলোচনায় রুহুল আমিন জসিম পিরোজপুরে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন লালমোহন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন ট্রাম্প বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ৩ হাজার রোগীর খাবার বন্ধের শঙ্কা দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগের পরও অপপ্রচারের শিকার আলবার্ট রিপন বল্লভ এবার তালাক নোটিশ ও কথিত কাবিননামা প্রকাশ করলেন গোলাম মাওলা রনি পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলি, সেনাসদস্য গুলিবিদ্ধ জামায়াতের সঙ্গে জোটে আপত্তি, এনসিপি ছাড়ছেন নেত্রীরা স্কুলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি

বরিশালে সয়াবিনের আবাদ ও উৎপাদন আশার আলো দেখাচ্ছে

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা সহ মাঠ পর্যায়ে উন্নত প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে পারলে বরিশালে বিপুল সম্ভাবনার সয়াবিনের আবাদ ও উৎপাদন দ্বিগুণে উন্নীত করার বিষয়ে আশাবাদী কৃষিবিদগণ। এতে করে দেশে উৎপাদিত সয়াবিন তেলবীজের কাঙ্ক্ষিত ব্যবহারও বৃদ্ধি পাবে। সাধারণ ভোক্তাগণ দেশীয় সয়াবিনের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন।

 

 

দেশে আবাদ ও উৎপাদিত সয়াবিনের প্রায় ৪০ ভাগই জোগান দিচ্ছে বরিশাল অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধারা। গত বছর রবি মৌসুমে দেশে ৮৬ হাজার হেক্টরে আবাদ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ৯২ হাজার হেক্টরে সয়াবিনের আবাদ হয়। ফলে ১ লাখ ৫৯ হাজার টন সয়াবিন উৎপাদন লক্ষ্য অতিক্রম করে সোয়া ২ লাখ টনের ওপরে ওঠে বলে ডিএই সূত্রে জানা গেছে।

 

 

কিন্তু বীজ থেকে তেলে রূপান্তরের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পর্যন্ত বিপুল সম্ভাবনার এই তেলবীজ দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে ন্যূনতম কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না।

 

 

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-ডিএই’র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল মহলের মতে, সয়াবিন তেলবীজের প্রায় পুরোটাই চলে যাচ্ছে হাঁস-মুরগি ও মাছের খাবার তৈরিতে। চলতি রবি মৌসুমেও বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ২৮ হাজার হেক্টরে সয়াবিন আবাদের লক্ষ্য স্থির করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। তবে তা লক্ষ্য অতিক্রম করে ৩৫ হাজার হেক্টরের ওপরে পৌঁছার সম্ভাবনার কথা বলেছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদগণ। বিগত রবি মৌসুমেও বরিশাল অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধারা প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টরে সয়াবিনের আবাদ সম্পন্ন করেছিলেন বলে ডিএই’র হিসেবে বলা হয়েছে। ফলে উৎপাদনও ৭৩ হাজার টনের স্থলে প্রায় ১ লাখ টনে উন্নীত হয়েছিল বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

 

 

গত বছর রবি মৌসুমে দেশে ১৪ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমিতে প্রায় ২২ লাখ টন বিভিন্ন ধরনের তেলবীজ উৎপাদন হলেও তা দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদার অর্ধেকেরও কম। ফলে এখনো বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল ও তেলবীজ বিদেশ থেকে আমদানি করতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এসব বিবেচনায় সয়াবিন-এর আবাদ সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে কৃষি বিজ্ঞানীগণ মনে করছেন। এখনো দেশে ভোজ্য তেলের চাহিদার ৮০ ভাগের বেশি সয়াবিন তেলের। যার প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। কারণ দেশে আবাদকৃত প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে যে প্রায় সোয়া ২ লাখ টনের মতো সয়াবিন তেলবীজ উৎপাদন হচ্ছে, তার পুরোটাই চলে যাচ্ছে পোল্ট্রি ফিড ও ফিশ ফিড-এর কারখানায়।

 

 

বরিশাল অঞ্চলেও বিপুল সম্ভাবনাময় সয়াবিনের আবাদ ধীরলয়ে বাড়লেও তা ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকাই রাখছে না। বিভিন্ন ফিশ ফিড ও পোল্ট্রি ফিড কারখানার নিয়োজিত ফড়িয়াগণ মাঠ থেকেই তাদের নির্ধারিত দরে এসব তেলবীজ কিনে নিচ্ছেন। কোনো ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দেশের সয়াবিন তেলবীজ কৃষক বা পাইকারি পর্যায়ে না কেনায় উৎপাদিত প্রায় সোয়া দুই লাখ টন সয়াবিন তেলবীজের পুরোটাই চলে যাচ্ছে পোল্ট্রি ফিডের কারখানায়। কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, সয়াবিন তেল জনস্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট উপযোগী ও উপকারী। এই ভোজ্য তেলে ৪০-৪৫% আমিষ এবং ১৯-২২% পর্যন্ত তেল থাকে। যেকোনো ডাল বা শুঁটি জাতীয় শস্যের তুলনায় সয়াবিনে আমিষের পরিমাণ যথেষ্ট বেশি। অথচ দাম তুলনামূলকভাবে কম।

 

 

 

‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-বারি’ ইতোমধ্যে উন্নত প্রযুক্তির ও উচ্চফলনশীল প্রায় ৪০টি জাতের বিভিন্ন তেলবীজ উদ্ভাবন করেছে। যার মধ্যে সয়াবিনেরও ৬টি জাত রয়েছে। ‘বারি’র বিজ্ঞানীগণ ইতোমধ্যে ‘সোহাগ-পিবি-১’, ‘বাংলাদেশ সয়াবিন-৪ বা জি-২’, ‘বারি সয়াবিন-৫’ ও ‘বারি সয়াবিন-৬’ নামের একাধিক উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন। এসব উন্নত জাতের সয়াবিনের ফলন হেক্টর প্রতি ১.৮০ টন থেকে সোয়া দুই টন পর্যন্ত। দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ ও এঁটেল দো-আঁশ মাটি সয়াবিন চাষের উপযোগী। যা নদ-নদী বিধৌত বরিশালের চরাঞ্চলে অনায়াসেই সম্ভব। বারি এবং বিনা’র বিজ্ঞানীগণও সয়াবিনসহ বিভিন্ন তেলবীজ উন্নয়নে তাদের গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে।

 

 

 

ইতোমধ্যে সয়াবিনের যেসব উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, তা বরিশাল অঞ্চলের কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে আগামী ৫ বছরে এই অঞ্চলেই অন্তত ২ লাখ টন সয়াবিন তেলবীজ উৎপাদন সম্ভব বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীগণ। কিন্তু উন্নত ও উচ্চফলনশীল সয়াবিনের বীজ ও তার আবাদ প্রযুক্তি এখনো কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছায়নি।

 

 

এসব সয়াবিন থেকে স্থানীয় পর্যায়ে তেল উৎপাদনের ব্যবস্থা করলে তা অন্তত দক্ষিণাঞ্চলের ভোজ্য তেলের চাহিদার অনেকাংশেই মেটাতে সক্ষম হতো। পাশাপাশি কৃষক ও কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতেও সহায়ক হতো বলেও মনে করছেন কৃষি বিজ্ঞানীগণ।

 

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network