নিজস্ব প্রতিবেদক : তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের ২ ডিগ্রী নিচে থাকার মধ্যেই ঘন কুয়াশার চাঁদরে ঢাকা বরিশালের স্বাভাবিক জনজীবনে বিপর্যয় অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার বরিশালের আকাশে সূর্যের দেখা মেলে সকাল সাড়ে ১০টার পরে। তবে কুয়াশার পুরো দাপট অব্যাহত ছিল সকাল ১১টা পর্যন্ত। দুপুর সোয়া ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মেঘনা অববাহিকার পুরো দক্ষিণাঞ্চল মাঝারি কুয়াশায় ঢেকে আছে। বরিশাল বিমান বন্দরের রানওয়ের দৃশ্যমানতা দেড় হাজার মিটারে সীমাবদ্ধ থাকায় সকাল সোয়া ১০টার বিমান ফ্লাইট ঢাকা থেকে উড়াল দেয়ার ছাড়পত্র মেলেনি।
আবহাওয়া বিভাগের মতে, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করলেও এর একটি বর্ধিতাংশ বরিশাল উপকূল সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। রোববার দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার কথা জানিয়ে রাতে সামান্য বৃদ্ধির কথাও বলেছে আবহাওয়া বিভাগ। তবে সোমবার থেকেই দিন ও রাতের তাপমাত্রা আবার কমতে শুরু করবে এবং পুরো সপ্তাহ জুড়ে তাপমাত্রা নিচে নামার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে আবহাওয়া বিভাগ দ্বারা।
এদিকে গত দিন দশেকের শীতের দাপটে বরিশালসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও ক্রমশ বাড়ছে। ইতোমধ্যে সরকারী হাসপাতালগুলোতে নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগী ভর্তির সংখ্যা ১০ হাজার অতিক্রম করেছে। প্রতিদিনই হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগেও ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ইনডোরেও রোগী নিয়ে চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীরা হিমশীম খাচ্ছেন।
এদিকে গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পুরো দক্ষিণাঞ্চলের দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ জুড়ে শেষ রাত থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকায় বোরো বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরী’র শংকা ক্রমশ বাড়ছে। ঘন কুয়াশা ও হিমশীতল ঠান্ডায় ফুলকপি, বাঁধাকপি সহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজির গুণগত মানও নষ্ট হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ‘সন্ধ্যা থেকে পলিথিন দিয়ে বোরো বীজতলা ঢেকে রাখার’ পরামর্শ দিলেও এই কুয়াশা আর ঠান্ডায় গোল আলুর মাঠে ছত্রাকবাহী ‘লেট ব্লাইট’ রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ দুরুহ হয়ে পড়ছে।
চলতি রবি মৌসুমে বৃহৎ দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৩.৮৫ লাখ হেক্টরে বোরো আবাদের লক্ষ্যে ২০,৩১৭ হেক্টরে বোরো বীজতলা তৈরীর কাজ শেষ পর্যায়ে। কিন্তু লাগাতার শৈত্য প্রবাহে বোরো বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরী’ নিয়ে কৃষিবীদগণ উদ্বিগ্ন। পাশাপাশি প্রায় ১৫ হাজার হেক্টরে যে গোল আলুর আবাদ হচ্ছে, তা ‘লেট ব্লাইট’ নামের এক ধরনের ছত্রাকবাহী রোগে আক্রান্ত হওয়ারও শঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে।
তবে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে যে প্রায় ৬০ হাজার হেক্টরে গমের আবাদ হচ্ছে, শীতের দাপটে তার ফলন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ১৬ লাখ টন বোরো চাল, ৩ লক্ষাধিক টন গোল আলু ও দুই লক্ষাধিক টন গম উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।