কুয়াশা আর মেঘের কারণে বরিশাল সেক্টরে গত রোববারের বিমান’র ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল। আবহাওয়া বিভাগের মতে, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করলেও এর একটি বর্ধিতাংশ বরিশাল উপক’ল সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
রোববার দিনের তাপমাত্রার প্রায় অপরিবর্তিত থাকার কথা জানিয়ে রাতে সামান্য বৃদ্ধির কথাও বলেছে আবহাওয়া বিভাগ। তবে সোমবার থেকেই দিন ও রাতের তাপমাত্রা আবার কমতে শুরু করবে এবং পুরো সপ্তাহ যুড়েই তাপমাত্রা নিচে নামার সম্ভভনার কথা বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।
এদিকে গত দিন দশেকের শীতের দাপটে বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল যুড়েই ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও ক্রমশ বাড়ছে। ইতোমধ্যে সরকারী হাসপাতালগুলোতে নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগী ভর্তির সংখ্যা ১০ হাজার অতিক্রম করেছে। প্রতিদিনই হাসপাতালগুরোরর বহির্বিভাগেও ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ইনডোরেও রোগী নিয়ে চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীরা হিমশীম খাচ্ছেন।এদিকে গত এক সপ্তাহেরও বেশী সময় ধরে পুরো দক্ষিণাঞ্চলের দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ যুড়ে শেষ রাত থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকায় বোরো বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরী’র শংকা ক্রমশ বাড়ছে।
ঘন কুয়াশা ও হীমশীতল ঠন্ডায় ফুলকপি, বাঁধাকপি সহ শীতকালীল বিভিন্ন সবজির গুনগত মানও নষ্ট হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর ‘সন্ধ্যা থেকে পলিথিন দিয়ে বোরো বীজতলা ঢেকে রাখার’ পরামর্শ দিলেও এ কুয়াশা আর ঠান্ডায় গোল আলুর মাঠে ছত্রাকবাহী ‘লেট ব্লাইট’ রোগ সংক্রমন প্রতিরোধ দুরুহ হয়ে পড়ছে। চলতি রবি মৌসুমে বৃহত্বর দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৩.৮৫ লাখ হেক্টরে বোরো আবাদের লক্ষ্যে ২০,৩১৭ হেক্টরে বোরো বীজতলা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে।
কিন্তু লাগাতার শৈত্য প্রবাহে বোরো বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরী’র নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষিবীদগন। পাশাপাশি প্রায় ১৫ হাজার হেক্টরে যে গোল আলুর আবাদ হচ্ছে, তা ‘লেট ব্লাইট’ নামের এক ধরনের ছত্রাকবাহী রোগে আক্রান্ত হবারও শংকাও ক্রমশ বাড়ছে। তবে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে যে প্রায় ৬০ হাজার হেক্টরে গমের আবাদ হচ্ছে, শীতের দাপটে তার ফলন বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ১৬ লাখ টন বোরো চাল, ৩ লক্ষাধিক টন গোল আলু ও দুই লক্ষাধিক টন গম উৎপাদেনর লক্ষ্য রয়েছে।