নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বিষ্ণুকাঠী এলাকায় ব্যাক্তি মালিকানা জমি ও সরকারি খালের পাড় দখল করে দোকানঘর নির্মাণ এবং সেসব দোকান ভাড়া দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ শরিফুল ইসলাম।
লিখিত অভিযোগে শরিফুল ইসলাম বলেন তার পিতা ক্রয় সূত্রে যে জমির মালিক হন, সেই জমির সংলগ্ন খালের পাড়ের সরকারি খাস জমি জোরপূর্বক দখল করে কয়েকজন ব্যক্তি দোকানঘর নির্মাণ করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন—নুরুল আমিন, জহিরুল ইসলাম, আউয়াল, আসাদ ও ওসিম হাওলাদার।
অভিযোগে বলা হয়, তাদের পরিবারের জমির পশ্চিম পাশে একটি খাল রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই সংলগ্ন এলাকায় ভোগদখলে আছেন। কিন্তু তারা বাড়িতে না থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা খালের পাড়ের সরকারি জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করেন। পরে এসব দোকান ভাড়া দিয়ে মাসিক আয় করছেন।
শরিফুল ইসলামের দাবি, অভিযুক্তরা মসজিদের নামে দোকান নির্মাণ করলেও মাসিক আয়ের বিপরীতে মসজিদে মাত্র ১০০ টাকা চাঁদা দিয়ে বাকি অর্থ নিজেরা ভোগ করছেন। বিষয়টি নিয়ে বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে মারধর ও খুন-জখমের হুমকি দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তরা দাবি করেন যে দোকানগুলো মসজিদের জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি আঃ বারেক মিয়া জানান, উক্ত জায়গা মসজিদের নয়। বরং জায়গাটি ক্রয়সূত্রে শাহ আলমদের মালিকানাধীন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযোগকারী জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা কোনো সমাধান মানেননি। এ বিষয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অবগত আছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা এখানে দোকান করেছি এবং মসজিদে মাসিক চাঁদা দিই। জায়গাটি সরকারি খাস জমি, শরিফুলদের কোনো জমি সেখানে নেই। খালের পাড়ে ঘর তোলা হয়েছে।”
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।