বরিশাল প্রতিনিধি : জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাঁদা দাবি, হামলা, মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মনসুর আলম (৬৭)। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে মনসুর আলম জানান, তিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রূপারজোড় এলাকার বাসিন্দা। জমিজমা ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একই এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার বিরোধ চলছে। এর জের ধরে গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মো. জাহাঙ্গীর আকন ওরফে জাঙ্গু ডাকাত, মো. মামুন জোমাদ্দার, মো. সোহাগ, মো. রুবেল জোমাদ্দার ও শাহজাহান ফকিরসহ কয়েকজন তার নির্মাণাধীন ভবনের কাজ জোরপূর্বক বন্ধ করে দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কাজ বন্ধের কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার সঙ্গে থাকা রাজমিস্ত্রি আনিস খান ও হেলপার ছালাম মৃধাকে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা না দেওয়া পর্যন্ত ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার হুমকি দেওয়া হয়।
মনসুর আলম আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার বাড়ির দেয়াল টপকে গাছের সহায়তায় নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে উঠে পড়ে এবং তার পকেটে থাকা ২০ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এ সময় ভবনের সেন্টারিংয়ের জন্য রাখা কাঠও নিয়ে যায় তারা। বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
পরে তার পুত্রবধূ রিমা আক্তার তাকে উদ্ধার করে অটোরিকশায় প্রথমে থানায় এবং পরে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হামলায় তার শরীরের অন্তত ১২টি স্থানে আঘাত লাগে এবং তিনি ১৮ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর মামলা করতে বাকেরগঞ্জ থানায় গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। পরে তিনি বরিশাল পুলিশ সুপার, ডিআইজি ও আইজিপি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি।
তিনি দাবি করেন, অভিযুক্তরা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং মামলা না করার জন্য তাকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। চাঁদা না দিলে বা মামলা করলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মনসুর আলম আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ স্থানীয় সুমন ও মামুনের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করে তার মামলা নেয়নি।
এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেল রানা। তিনি বলেন, “ঘুষ গ্রহণ করে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এর আগেও তিনি একটি চাঁদাবাজির মামলা করেছিলেন, যা আদালতে খারিজ হয়ে গেছে। এছাড়া তার দেওয়া একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মনসুর আলম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।