নিজস্ব প্রতিবেদক : উদ্বোধনের পাঁচ বছর পার হলেও আলোর মুখ দেখেনি কোটি টাকার বর্জ্য শোধনাগার। অন্যদিকে, দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ঝুলে আছে স্বপ্নের টাউন হল ও সুপেয় পানির ট্যাংক প্রকল্প।
বরগুনা পৌরসভায় প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন চারটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নাগরিক সুবিধা থেকে চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ঠিকাদার ও তৎকালীন মেয়রের রেষারেষি এবং অর্থ বরাদ্দের টানাপোড়েনে সরকারের কোটি কোটি টাকা এখন রীতিমতো পানিতে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বরগুনা পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিগত বছরগুলোতে ৪টি মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪০ কোটি ২৯ লাখ টাকা। তবে কাজ শেষ না হতেই প্রকল্প এলাকাগুলো এখন পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে।
.সাংস্কৃতিক চর্চা ও সভা-সেমিনার আয়োজনের জন্য ২০১৮ সালের মার্চ মাসে বরগুনা পৌর শহরের সিরাজউদ্দীন সড়কে ৫০০ আসনবিশিষ্ট একটি আধুনিক টাউন হল মিলনায়তন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ৭ কোটি ২ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি ২০২১ সালের মার্চে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২২ সাল পর্যন্ত মাত্র ৮০ ভাগ কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়। বর্তমান অবস্থা আরও করুণ; ভবনের দরজা-জানালা চুরি হয়ে গেছে এবং এটি এখন রীতিমতো গোয়ালঘরে পরিণত হয়েছে।
.
পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট দূর করতে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে প্রায় ১৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি উচ্চ জলাধার (পানির ট্যাংক) নির্মাণ শুরু হয়। কাজ প্রায় শেষ হলেও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে পৌরবাসী আজও এক ফোঁটা পানি পায়নি। সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি বরগুনা পৌর সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আধুনিক বর্জ্য শোধনাগারটি নিয়ে। বাংলাদেশ সরকার ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বরগুনা সদর ইউনিয়নের হেউলিবুনিয়া এলাকায় এটি নির্মিত হয়। ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এটি উদ্বোধন করা হলেও দীর্ঘ ৫ বছরেও এর কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল বলেন, ‘পৌরসভার সুপেয় পানির সুবিধার্থে চার বছর আগে দুটি পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে পানি পাওয়ার সুযোগ আজ পর্যন্ত নাগরিকরা পাননি। এ ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় নির্মিত কোটি টাকার বর্জ্য শোধনাগারটি কোনো কাজে আসছে না। অথচ পাশেই সড়কের পাশে খোলা জায়গায় শহরের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, যার ফলে আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রকল্পগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনে তৎকালীন পৌর মেয়র ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার দ্বন্দ্বকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করার পর তৎকালীন মেয়র তহবিলের টাকা অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়ায় তারা বকেয়া বিল পাননি, যার কারণে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। অন্যদিকে, পৌরসভার বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাছুম বিল্লাহ জানান, কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারদের বারবার চিঠি দেওয়া হলেও তারা কাজ শেষ করেনি।
সার্বিক বিষয়ে বরগুনা পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক সজল চন্দ্র শীল গণমাধ্যমকে জানান, পানির ট্যাংক ও বর্জ্য শোধনাগারের মূল কাজ শেষ হলেও কিছু আনুষঙ্গিক ও কারিগরি কাজের অভাব এবং জনবল সংকটের কারণে এগুলো চালু করা যাচ্ছে না। তবে প্রকল্পগুলো যাতে দ্রুত চালু করে পৌরবাসীকে নাগরিক সুবিধা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে।