1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনের পর স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪০ অপরাহ্ন

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনের পর স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

  • আপডেট সময় : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনের পর সোহাগী খাতুন (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহাগীর মৃত্যু হয়। সোহাগী জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের মোমিনুর রহমান মণ্ডলের মেয়ে। সে স্থানীয় বিসিকেএমপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট অসুস্থ অবস্থায় সোহাগীকে জীবননগরের মনোয়ারা সনো সেন্টার অ্যান্ড নার্সিং হোমে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেখানে চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম সোহাগীর অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে বলে জানান এবং দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। পরদিন ডা. রফিকুল ইসলামই তার অস্ত্রোপচার করেন।

অস্ত্রোপচারের পর ৩০ আগস্ট সোহাগীকে বাড়িতে নিয়ে যায় পরিবার। তবে বাড়ি ফেরার পর থেকেই তার প্রচণ্ড বমি, মাথাব্যথা ও জ্বর শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে ২ সেপ্টেম্বর তাকে আবার ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

সোহাগীর মা লাভলী খাতুন অভিযোগ করেন, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তার মেয়ের শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। বাড়িতে নেওয়ার পর অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ফের ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এ সময় ডা. রফিকুল ইসলাম প্রথমে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং চিকিৎসা দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

লাভলী খাতুন বলেন, পরে চিকিৎসক তাদের ডেকে সোহাগীকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেন। কিন্তু এরপরও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। একপর্যায়ে ওষুধের পাশাপাশি তাকে ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হয়। ওই ইনজেকশন দেওয়ার পর সোহাগীর আর জ্ঞান ফেরেনি।

তিনি আরও বলেন, পরদিনও জ্ঞান না ফেরায় ডা. রফিকুল ইসলাম সোহাগীকে যশোরের কুইন্স হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে নেওয়ার পর তার খিঁচুনি শুরু হয় এবং অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

পরে ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা সোহাগীকে দ্রুত আইসিইউতে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। আইসিইউতে নেওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর তার মৃত্যু হয়।সোহাগীর মায়ের দাবি, যে রিপোর্ট দেখে ডা. রফিকুল ইসলাম অ্যাপেন্ডিসাইটিস শনাক্ত করে অস্ত্রোপচার করেছিলেন, ঢাকার চিকিৎসকেরা সেই রিপোর্ট দেখে জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার করার মতো কোনো সমস্যা সেখানে ছিল না।

সোহাগীর বাবা মোমিনুর রহমান মণ্ডল বলেন, আমার মেয়ে অপচিকিৎসা ও ডাক্তার-নার্সদের অবহেলার কারণে মারা গেছে। আর যেন কোনো বাবার আদরের সন্তান এভাবে মারা না যায়।

তবে পরিবারের এসব অভিযোগের বিষয়ে ডা. রফিকুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে মনোয়ারা সনো সেন্টার অ্যান্ড নার্সিং হোমের মালিক ও চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এদিকে অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগ।

চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি ক্লিনিকে গিয়ে সোহাগী খাতুনের চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তারা প্রতিবেদন দেবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network