উজিরপুর প্রতিনিধিঃ"যুগে যুগে এই নৌকা বাইচ আমাদের গ্রামীণ জনপদে উৎসবের আমেজ বয়ে এনেছে, নৌকা বাইচ কেবল একটি সাধারণ খেলা বা বিনোদন নয়,এটি আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, আমাদের শেকড়ের টান। এটি মানুষকে একে অপরের কাছাকাছি নিয়ে আসে, ভেদাভেদ ভুলিয়ে দেয় এবং আমাদের মন থেকে সব ধরনের অনাবিল আনন্দ ছড়িয়ে দেয়"উজিরপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দ্বি-বার্ষিক ঐত্যিহবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধান অতিথি বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। তিনি আরও বলেন, আজকের এই পড়ন্ত বিকেলে নদীর তীরে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং আনন্দঘন পরিবেশ আমাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। নদীমাতৃক এই বাংলাদেশের বুকে গ্রাম...
উজিরপুর প্রতিনিধিঃ”যুগে যুগে এই নৌকা বাইচ আমাদের গ্রামীণ জনপদে উৎসবের আমেজ বয়ে এনেছে, নৌকা বাইচ কেবল একটি সাধারণ খেলা বা বিনোদন নয়,এটি আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, আমাদের শেকড়ের টান।
এটি মানুষকে একে অপরের কাছাকাছি নিয়ে আসে, ভেদাভেদ ভুলিয়ে দেয় এবং আমাদের মন থেকে সব ধরনের অনাবিল আনন্দ ছড়িয়ে দেয়”উজিরপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দ্বি-বার্ষিক ঐত্যিহবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধান অতিথি বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই পড়ন্ত বিকেলে নদীর তীরে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং আনন্দঘন পরিবেশ আমাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। নদীমাতৃক এই বাংলাদেশের বুকে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার এমন সফল আয়োজন দেখে আমার মন ভরে গেছে।
নৌকা বাইচ অনুষ্ঠান মানুষকে একে অপরের কাছাকাছি নিয়ে আসে, ভেদাভেদ ভুলিয়ে দেয় এবং আমাদের মন থেকে সব ধরনের অনাবিল আনন্দ ছড়িয়ে দেয়। আজ নদীর দুই পাড়ে লাখো মানুষের এই আনন্দধ্বনি প্রমাণ করে বাঙালি তার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে কতটা গভীরভাবে ভালোবাসে।
ডিজিটাল যুগের আধুনিক প্রযুক্তির ভিড়ে আমাদের এই নিজস্ব লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যগুলো যখন হারিয়ে যেতে বসেছে, তখন এই ধরণের উৎসব যুব সমাজকে সুস্থ বিনোদন প্রদানের মাধ্যমে অপসংস্কৃতি ও মাদক থেকে দূরে রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩১ অক্টোবর বিকেল ৩ টায় উজিরপুর সন্ধ্যা নদীতে নানা রঙ বেরঙে সাজিয়ে তোলা ৮টি দল নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণ করে। এছাড়া ঐত্যিহবাহী নৌকা বাইচ উপলক্ষ্যে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বর্নিল সাজে সজ্জিত হয়েছে এবং সন্ধ্যা নদীর তীরে লাখো জনতার ঢল নামে।
এসময় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব)খলিল আহমদ এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল পুলিশ সুপার এ.জেড.এম মোস্তাফিজুর রহমান,কীপার জনশিক্ষা বিভাগ বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর আসমা ফেরদৌসী, নির্বাহী পরিচালক আভাস রহিমা সুলতানা কাজল।
সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজা। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রকিবুল ইসলাম, উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম খান,উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন খান,সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম আলাউদ্দিন,সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরদার সিদ্দিকুর রহমান,পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রোকনুজ্জামান টুলু,উপজেলা যুবদলের সভাপতি আ ফ ম শামসুদ্দোহা আজাদ,সাধারন সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন,পৌর যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ হাফিজুর রহমান প্রিন্স,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোঃ মাহাবুব গোমস্তা,উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ জিয়া আমিন রাড়ী,সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহাদুত সরদার কমরেডসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং গণ্যমাধ্যম কর্মীরা।
এছাড়া আইন শৃঙ্খলা-বাহিনীর পাশাপাশি উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্ত্বাবধানে প্রস্তুত রাখা হয় মেডিকেল টিম ও একাধিক অ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ার সার্ভিসের টীম।এককথায় নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখা হয় পুড়ো উজিরপুর। এতে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও বেসরকারি সংস্থা ‘আবাস’ সার্বিক সহযোগিতা করে।
প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বিজয়ী দলের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী দলকে নগদ ৩০ হাজার টাকা ও ২য় স্থান অধিকারী দলকে নগদ ২০ হাজার টাকা এবং ৩য় স্থান অধিকারী দলকে নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এদিকে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ও উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজাসহ সংশ্লিষ্টদের সাধুবাদ জানিয়েছেন উজিরপুরবাসী।