বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বরিশালের বিএনপি নেতা আলবার্ট রিপন বল্লভ। ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের কিছু ছবি ব্যবহার করে একটি কুচক্রী মহল তাঁকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে বলে দাবি তাঁর।
আলবার্ট রিপন বল্লভের দাবি, নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে তাঁর পথচলা শুরু হয়। ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির আদর্শ ও রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি জানান, ২০০৮ সালে বরিশাল মহানগর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর সাংগঠনিক রাজনৈতিক পরিচিতি বিস্তৃত হয়। পরবর্তী সময়ে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) কোতোয়ালি থানার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে বরিশাল মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৫ সালে সংগঠনটির মহানগর সহসভাপতির দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি হিন্দু বৌদ্ধ কল্যাণ ফ্রন্ট বরিশাল মহানগরের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বিএনপিপন্থী বাংলাদেশ খ্রিস্টান ফোরামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবং শহীদ জিয়া গবেষণা পরিষদের বরিশাল মহানগরে আহ্বায়ক হিসেবেও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে আলবার্ট রিপন বল্লভ বলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময় তৎকালীন সিটি মেয়রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ছবি তোলা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা কিংবা আয়োজকদের আতিথেয়তা গ্রহণের মুহূর্তের এসব ছবি ব্যবহার করে একটি মহল তাঁকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। অথচ এসব ছবি দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বা আদর্শিক পরিচয় নির্ধারণ করা যায় না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলের দুঃসময়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম। আমার রাজনৈতিক পরিচয় ও আদর্শ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ছবি ব্যবহার করে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। আমি এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বিএনপির প্রতি আমার ভালোবাসা ও আস্থা ছিল, আছে এবং আজীবন থাকবে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন রাজনৈতিক কর্মীর দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ—এসব বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে বিচ্ছিন্ন কিছু ছবি দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করা যুক্তিসংগত নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত ও সামাজিক পরিসরের ছবি ব্যবহার করে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে আলবার্ট রিপন বল্লভের প্রত্যাশা, অপপ্রচার নয়, তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক ভূমিকা ও দীর্ঘদিনের ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে।