1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
গৌরনদী ও বাবুগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারে ৩ দফা হামলা, অন্তঃসত্ত্বাসহ আহত ১১ - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
৭৫ বছরের জীবনেও বিশ্রাম নেই বৃদ্ধ আব্দুল বারেকের মাদ্রাসায় আছেন ১৪ শিক্ষক, ৬ ছাত্রীর কেউ পাস করেননি জনগণের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি: শফিকুর রহমান ইসলাম বিক্রি করতে নয়, ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতেই এদেশের পীর-মাশায়েখদের আগমন -ছারছীনা পীর ছাহেব লালমোহনে মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ২৫ কারখানা ছুটি ইসলাম গ্রহণ করে ফরিদপুরের কলেজছাত্রীকে বিয়ে করলেন চীনা যুবক কলেজের নাম আছে, ক্যাম্পাস নেই; এইচএসসিতে ৫ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু দীপকে হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই

গৌরনদী ও বাবুগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারে ৩ দফা হামলা, অন্তঃসত্ত্বাসহ আহত ১১

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সাকোকাঠী গ্রামের বাসিন্দা যুদ্ধাহত এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পাশ্ববর্তী বাবুগঞ্জ উপজেলার অপর এক মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যদের তিন দফায় হামলা চালিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজনে। হামলায় ছয় মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা এক নারীসহ ১১ জন আহত হয়েছেন।

এসময় একটি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীদের হাত থেকে রেহাই পেতে জাতীয় জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯ ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাদের (পুলিশ) সামনে বসেও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুত্বর আহতদের গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা সত্বেও পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছেন বলে আহতরা অভিযোগ করেন। হামলার ঘটনাটি ঘটেছে বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের চর হোগলপাতিয়া গ্রামে।

সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলী চৌকিদারের ছেলে ভ্যান চালক কবির হোসেন চৌকিদার অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি তার বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি তিন ভাইয়ের মধ্যে ভাগবন্টন করা হয়। এসময় তাকে পুকুর ভরাট করে ঘর করার জন্য সিদ্ধান্ত হয়। সেমতে পুকুর ভরাট করতে খরচের অংশ অপর দুইভাই জলিল চৌকিদার ও হুমায়ুন চৌকিদার দিবেন বলে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু তারা পুকুর ভরাটের টাকা না দিয়ে নানা তালবাহানা শুরু করেন।

কবির হোসেন আরও বলেন, অতিসম্প্রতি তিনি নিজস্ব অর্থায়নে পুকুরের আংশিক ভরাট করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাসের জন্য ঘর নির্মান করেন। রোববার (৩১ মে) নতুন ঘরে যাওয়ার জন্য দোয়া-মিলাদের আয়োজন করা হয়। সেমতে তার (কবির) তিন মেয়ে ও জামাতাসহ নিকট আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত দেয়া হয়।

কবির হোসেনের স্ত্রী যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মো. ইসমাইল হোসেন খানের মেয়ে মায়া বেগম অভিযোগ করেন, তাদের ভাগ করে দেওয়া পুকুরের বাকি অংশ ভরাট করে দেয়ার জন্য গত ২৯ মে রাতে জলিল ও হুমায়ুন চৌকিদারকে অনুরোধ করা হয়। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে জলিল, হুমায়ুন ও জয়নাল চৌকিদারের নেতৃত্বে তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রথম দফায় হামলা চালায়।

ওই হামলায় বাড়িতে বেড়াতে আসা তার (মায়া বেগম) ছয় মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা মেয়ে মিতু খানম, তিন মেয়ের জামাতা আশিক খান, কামাল হোসেন ও রিয়াজ মল্লিক আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা এসময় তিন জামাতার সাথে থাকা নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন ও মেয়ের ব্যবহৃত স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

মায়া বেগম আরও বলেন, শুক্রবার রাতের ঘটনার জেরধরে পরেরদিন (শনিবার) সকালে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালিয়ে বাড়িতে বেড়াতে আসা মেয়ে শারমিন বেগম ও নিপা আক্তারকে মারধর করে আহত করা হয়। পরবর্তীতে উপায়অন্তুর না পেয়ে কবির হোসেন দুটি হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় ওইদিনই বাবুগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

কবির হোসেন বলেন, থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনে রোববার (৩১ মে) দুপুরে তৃতীয় দফায় হামলা চালিয়ে বসত ঘর ভাঙচুরসহ তাকে (কবির), তার স্ত্রী মায়া বেগম, ছেলে মাহিম, বাড়িতে বেড়াতে আসা শ্যালক সাকোকাঠী গ্রামের যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন খানের ছেলে জামাল খান, তার ছেলে শাহাদাত খানকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।

হামলা ঠেকাতে প্রতিবেশী বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আইয়ুব আলী মোল্লার মেয়ে শিল্পী বেগম বুলি এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা তাকেও মারধর করে আহত করেছে। এসময় হামলাকারীদের হাত থেকে প্রাণরক্ষায় জাতীয় সেবা ৯৯৯ নাম্বারে কল করার পর স্থানীয় আগরপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে হামলায় আহত জামাল খান অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর তাদের (পুলিশ) সামনে বসে তার ওপর হামলা চালিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করা হয়। একপর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে তিনি (জামাল) পাশ্ববর্তী একটি পুকুরের মধ্যে ঝাঁপ দেন। হামলাকারীরা তার (জামাল) ছেলে শাহাদাত খানকে মারধর করে বেঁধে রাখে। এসময় রহস্যজনক কারণে পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করেন।

পরবর্তীতে স্থানীয় এক সংবাদকর্মীর সহায়তায় গ্রামবাসী এগিয়ে এসে হামলায় গুরুত্বর আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। আহত কবির হোসেন চৌকিদার অভিযোগ করে বলেন, থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য হামলাকারীরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি অব্যাহত রেখেছেন। তাদের হুমকির মুখে তারা এখন বাড়িতে যেতে পারছেন না। তাই তাদের ওপর হামলা, ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

হামলার ব্যাপারে অভিযুক্ত জলিল ও হুমায়ুন চৌকিদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি হননি। তবে অপর অভিযুক্ত জয়নাল চৌকিদার হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেন, আমার সাথে কিছু সম্পত্তি নিয়ে কবির হোসেনের বিরোধ রয়েছে। যেকারণে অন্যের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আমাকে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বাবুগঞ্জ থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার জানিয়েছেন, জাতীয় জরুরি সেবা নাম্বারের ফোন পেয়ে আগরপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেছেন। কবির হোসেন চৌকিদারের লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে ওসি বলেন, অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network