1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
লিবিয়ায় মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্ত হলেও দেশে ফিরতে পারছেন না আগৈলঝাড়ার আসাদুল - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দখলমুক্ত সরকারি জমিতে সবুজের ছোঁয়া; গৌরনদীতে ইকোপার্ক নির্মাণে রোপণ ২০০ শিমুল গাছ তোরণ-ব্যানার ছাড়াই বরিশালে জামায়াতের বিভাগীয় সম্মেলন, রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস বই পড়ে পুরস্কার পেল ব‌রিশা‌লের ২৭৭৬ শিক্ষার্থী বরগুনায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল, এলাকায় তোলপাড় বরগুনায় জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত পাথরঘাটায় নদীভাঙন ও দুর্যোগ : টেকসই বেরিবাঁধের দাবিতে মানববন্ধন অপরিকল্পিত কালভার্ট ও দখলে কলাপাড়ার শত শত খাল অস্তিত্ব সংকটে, ব্যাহত কৃষিকাজ লালমোহনে কর্মস্থলে প্রায় দুই বছর অনুপস্থিত থেকেও পেলেন পদোন্নতি গৌরনদীতে সুলতানি আমলের ঐতিহাসিক ৬ ফুট পুরু দেয়ালের কমলাপুর জামে মসজিদ লিবিয়ায় মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্ত হলেও দেশে ফিরতে পারছেন না আগৈলঝাড়ার আসাদুল

লিবিয়ায় মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্ত হলেও দেশে ফিরতে পারছেন না আগৈলঝাড়ার আসাদুল

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : লিবিয়ার মাফিয়া চক্রের দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা দিয়েও দেশে ফিরতে পারছেন না বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের চাঁদত্রিশিরা গ্রামের আবু বক্তিয়ারের ছেলে আসাদুল বক্তিয়ার। মাফিয়া চক্রের হাতে বন্দির পর বিভিন্নজনের কাছ থেকে ধারদেনা ও সুদে টাকা এনে গত দুই মাস পূর্বে মাফিয়া চক্রকে বিভিন্ন মাধ্যমে মুক্তিপনের ছয় লাখ টাকা পরিশোধ করে অসহায় আসাদুলের পরিবার। ওই টাকা পেয়ে মাফিয়া চক্রের সদস্যরা আসাদুলকে মুক্তি দিলেও বিমান ভাড়ার দেড় লাখ টাকা যোগার করতে না পারায় অসুস্থ্য অবস্থায় এক বাঙালির কাছে আশ্রিত হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন আসাদুল। এদিকে স্বামীকে ফেরাতে সর্বশান্ত হয়ে দুই শিশু সন্তান নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটছে আসাদুলের স্ত্রী নিপা বেগমের। চাঁদত্রিশিরা গ্রামের আসাদুল বক্তিয়ার সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর ভিজিট ভিসায় তার এক আত্মীয় এরফান সরদারের মাধ্যমে বৈধ পথে লিবিয়ায় গিয়ে আনজারা শহরে মসজিদের পাশে একটি দোকানে টেইলারিং এর কাজ শুরু করেন।

দেশের বাড়িতে মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে আসছিল আসাদুল। চলতি বছরের নয় রমজান সেহরি খাওয়ার পরে বাসা থেকে আসাদুলকে ৫/৬ জনের একটি মাফিয়ার দল জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে লিবিয়ায় তাদের (মাফিয়া চক্র) আস্তানায় নিয়ে আসাদুলকে হাত-পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে উলঙ্গ করে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। এমনকি চাকু দিয়ে কুপিয়ে শরীর থেকে রক্ত ঝড়িয়ে ও হাত-পায়ের নক উপরে ফেলার হুমকিসহ নির্যাতনের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে আসাদুলের বাড়িতে তার বাবা-মা ও স্ত্রী-সন্তানকে দেখিয়ে মাফিয়া চক্রের সদস্যরা ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর আসাদুলের পরিবারের অসহায়ত্বের চিত্র মোবাইলে ভিডিও কলের মাধ্যমে দেখালে ছয় লাখ টাকায় রফাদফা হয় মাফিয়া চক্রের সাথে। সেই টাকা আসাদুলের অসহায় দরিদ্র পরিবার দীর্ঘদিনে জোগার করতে না পারায় দুই মাস ধরে মাফিয়াদের অসহ্য নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়েছে আসাদুলকে।

আসাদুলের উপর নির্যাতনের এক ভিডিওতে পরিবারকে মাফিয়াদের ব্যাংক এ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে তার জীবন বাঁচানোর আকুতি জানায় আসাদুল। পরবর্তীতে দেশে থাকা আসাদুলের পরিবার বাধ্য হয়ে ধারদেনা ও সুদে এনে পাঁচ লাখ ও স্ত্রী নিপা বেগমের বাবার বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা জোগার করে মোট ছয় লাখ টাকা মাফিয়া চক্রের সদস্যদের পরিশোধ করা হয়। টাকা পাওয়ার পর মাফিয়ারা গত মে মাসের ২০ তারিখ রাতে চোখ বেঁধে রাস্তায় ফেলে যায় আসাদুলকে। এরপর জনৈক সুমন নামের এক প্রবাসী তাকে দেখে চিনতে পেরে তার বাসায় নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান এবং আশ্রয় দেয়। গত দুই মাস চিকিৎসা বিহীন তার কাছে থাকলেও বাংলাদেশে ফিরতে বিমান ভাড়া দেড় লাখ টাকার জন্য বাড়ি ফিরতে পারছে না আসাদুল। অপরদিকে মাফিয়াদের নির্যাতনের অসুস্থ আসাদুল লিবিয়ায় টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে মানবেতর জীবন যাপন করছে। নির্যাতনের শিকার আসাদুলের স্ত্রী নিপা বেগম জানান, লিবিয়ায় অপহরণের পর পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবির পর মোবাইল ফোনে হাত-পা ধরে কান্নাকাটির পর ছয় লাখ টাকা রফাদফায় তাকে (আসাদুল) মুক্তি দিতে রাজি হয় মাফিয়ারা। সেই টাকাও জোগার করে দিতে দুই মাস সময় লাগে। এসময়েও অব্যাহত নির্যাতন থামেনি তার স্বামীর ওপর।

পরবর্তীতে মুক্তিপন দিয়ে মুক্তি মিললেও তার স্বামী শরীরে বহণ করে চলছে অসহ্য যন্ত্রনা ও ক্ষত। স্বামীকে একটু সুস্থ্য করতে লোক মারফত বাংলাদেশ থেকে ওষুধ পাঠানো হলেও তাতে শরীরের কোন উন্নতি ঘটেনি। তার (আসাদুল) প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা। এদিকে স্বামীর অবর্তমানে ৭ ও ১১ বছর বয়সের দুই শিশু সন্তান ও বৃদ্ধা শশুর-শাশুড়িকে নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটছে তাদের।

তিনি আরো জানান, নির্যাতনের শিকার তার অসুস্থ্য স্বামীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিমান ভাড়া বাবদ প্রয়োজন দেড়লাখ টাকা। কিন্তু সেই টাকা যোগাড় করতে না পারায় লিবিয়ায় বসে মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে আসাদুল। বিভিন্ন ব্যক্তি ও দপ্তরে বারবার লিখিতভাবে এ ঘটনাটি জানিয়েও কোন সহযোগিতা মেলেনি। তাই তার স্বামী আসাদুলকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অসহায় নিপা বেগম।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network