নিজস্ব প্রতিবেদক, বরগুনা : উপকূলীয় উপজেলা পাথরঘাটায় ৯৬টি প্রাথমিক বিদ্যলয়ে পূর্ণ মর্জাদায় প্রধান শিক্ষক নেই। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৪৯টি। এর মধ্যে ৫১টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষককে দিয়ে ‘ভারপ্রাপ্ত’ ও ৪৫ বিদ্যালয়ে ‘চলতি দায়িত্ব’প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পরিচয়ে পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ করানো হচ্ছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য আছে ৯১টি।
এতে ব্যহত হচ্ছে প্রাথমিকের সঠিক মাত্রার অর্ন্তভূক্তিমূলক ও গুনগত পাঠদান, শিশু বিকাশ ও প্রশাসনিক কাজ।
পাথরঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় ও দুর্যোগ কবলিত উপজেলা পাথরঘাটায় ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ১৪৯টি বিদ্যালয়। ৯৬টি অর্থাৎ শতকরা ৬৫ ভাগ বিদ্যালয় চলছে প্রধান শিক্ষক বিহীন। এর মধ্যে ৫১টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ খালী থাকায় সহকারী শিক্ষক দিয়ে পাঠ দান করানো হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি ও অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় করতে হচ্ছে। অপরদিকে উপজেলার আরো ৪৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি থাকায় সহকারী শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব দিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাজ চালান হচ্ছে। উভয় প্রকারে সহকারী শিক্ষককেই পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ করতে হচ্ছে।
আরো পড়ুন
দুর্ঘটনায় আহত হান্নান মাসউদ
দুর্ঘটনায় আহত হান্নান মাসউদ
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিনাত জাহান জানান, এ ছাড়া উপজেলায় ছাত্র ঘনত্ব বিবেচনায় ৯১ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
ফলে জোড়া তালি দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠ দান চলছে। বিদ্যালয় সমূহের পাঠদান তদারকি ও মান সমুন্নত রাখতে উপজেলাকে ছয়টি ক্লাস্টারে ৬ জনের স্থলে মাত্র ১ জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কাজ করছেন। ৫টি পদ শূণ্য। শূন্য পদ সমুহ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। শূন্য পদের শতকরা ৬৫ ভাগ পদ স্থানীয় ভাবে অথবা পদোন্নতি দিয়ে পূরণ সম্ভব।
আদালতে মামলা থাকায় আটকে আছে পদোন্নতি।
বরগুনা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক ও কর্মকর্তা সংকট, ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) এর ‘অর্ন্তভূক্তিমূলক , সমতাভিত্তিক ও গুনগত প্রাথমিক শিক্ষা’র লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক নয় বরং সাংঘর্ষিক।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর মো. সালেহ সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, সহকারী শিক্ষকদের দিয়ে পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ বাধ্য হয়ে করাতে হচ্ছে। সহকারী শিক্ষক পদে ও প্রধান শিক্ষক পদে শিগগিরই নিয়োগ প্রদান করা হবে।