1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
বরগুনার এক ফসলী কৃষি: অনগ্রসরতার প্রথম ও প্রধান কারণ - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সিঁদুর খেলতে গিয়ে অসুস্থ, প্রাণ গেল নববধূর ব্যাটারি পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণ, অভিযোগের পরেও নীরব প্রশাসন! প্রধানমন্ত্রীর জীবনের হুমকির পেছনে বিরোধী দলের উসকানি রয়েছে : রাশেদ খাঁন নিজ বাসা থেকে সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার ভোলায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার জরিমানার পরও সিএনজি ফিলিং স্টেশনে কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস বিক্রি বরিশালে ট্রলার মেরামতের সময় বিদ্যুতায়িত যুবকের মৃত্যু শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ দেশ ছাড়ার সময় ইমিগ্রেশনে আওয়ামী লীগ নেতা আটক এশিয়ার পথে সুপার টাইফুন ‘চাম্পি’, দুই শতাধিক ফ্লাইট বাতিল

বরগুনার এক ফসলী কৃষি: অনগ্রসরতার প্রথম ও প্রধান কারণ

  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি কৃষিপ্রধান জেলা। যেখানে নদী, খাল, চরাঞ্চল ও উর্বর জমির প্রাচুর্য থাকার কথা। পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী এই জেলায় কৃষি ও মৎস্যই অর্থনীতির মূল ভিত্তি। তবু বাস্তব চিত্র বলছে, জেলার বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি আজও বছরে মাত্র একবার আমন ধান উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই এক ফসলী কৃষি প্রকৃতির অনিবার্য বাস্তবতা, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল।

 

জেলা কৃষি কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বরগুনায় মোট ফসলী জমির পরিমাণ ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৩১ হেক্টর। এর মধ্যে নীট ফসলী জমি ১ লাখ ৪ হাজার ৮১ হেক্টর হলেও এক ফসলী জমির পরিমাণ ৩৭ হাজার ৩৩১ হেক্টর। একই সঙ্গে ৩৩ হাজার ৪০০ হেক্টর জমি সাময়িক পতিত এবং এক হাজার হেক্টর জমি স্থায়ীভাবে পতিত অবস্থায় রয়েছে। এত বিপুল জমি পুরোপুরি উৎপাদনের বাইরে থাকা সত্ত্বেও বহুফসলী কৃষিতে রূপান্তরের কার্যকর অগ্রগতি নেই।

 

মাঠ পর্যায়ের তথ্য বলছে, আমতলী ও তালতলী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় আমন মৌসুম শেষে জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে। পানি নামতে দেরি হওয়ায় রবি মৌসুমের ফসল আবাদ করা যায় না। অথচ এসব এলাকাতেই রয়েছে উর্বর চরাঞ্চল, যেখানে দুই বা তিন ফসল উৎপাদনের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় সেচ সুবিধা না থাকায় কৃষকরা দ্বিতীয় ফসল চাষে ঝুঁকি নিতে চান না। এতে কৃষক এক ফসলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন এবং তাদের বার্ষিক আয় সীমিত হয়ে যাচ্ছে।

 

এই সংকটের পেছনে যে অবকাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে, তা মাঠ পর্যায়ে স্পষ্ট। বহু খাল-নালা দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে আছে। বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় বিস্তীর্ণ কৃষিজমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। আবার শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যায় না। জেলার বিভিন্ন এলাকায় থাকা স্লুইস গেটগুলোর একটি বড় অংশ বছরের পর বছর অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যা পানি ব্যবস্থাপনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই খাল পুনঃখনন ও স্লুইস গেট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একক কোনো দপ্তরের নয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি বিভাগ এই তিনটি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তবে এই সমন্বয় দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত। প্রকল্প গ্রহণে ধীরগতি, অর্থ বরাদ্দের সীমাবদ্ধতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি একে অপরের ওপর দায় চাপানোর সুযোগ তৈরি করেছে।

 

প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ক্ষেত্রেও চিত্রটি আশাব্যঞ্জক নয়। ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠ ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও ডেমোনস্ট্রেশন প্লটের সংখ্যা খুবই সীমিত। অনেক কৃষক এখনও জানেন না কোন জমিতে কোন ফসল উপযোগী, কতদিন পানি ধরে রাখতে হবে কিংবা কখন পানি নিষ্কাশন জরুরি। ফলে তারা নতুন পদ্ধতি বা ফসল গ্রহণে ঝুঁকি নিতে চান না। এই অনীহা শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার প্রতিফলন।

 

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরগুনায় দো-ফসলী জমির পরিমাণ ৩৭ হাজার ৭৫০ হেক্টর এবং তিন ফসলী জমি ২৯ হাজার হেক্টর। অর্থাৎ বহুফসলী কৃষির কিছু নজির থাকলেও তা জেলার সামগ্রিক চিত্র বদলাতে পারেনি। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি এলাকায় খাল পুনঃখনন ও স্বল্পমেয়াদী ফসল চাষে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। কিন্তু প্রকল্পের সীমাবদ্ধতা ও অর্থ বরাদ্দের অভাবে এসব উদ্যোগ সব উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, পানি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কৃষির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এক ফসলের ওপর নির্ভরশীলতা কৃষকের আয় সীমিত করছে, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে এবং শহরমুখী অভিবাসনের চাপ বাড়ছে। কৃষি সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে না লাগায় জেলার সামগ্রিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, বরগুনার এক ফসলী কৃষি কোনো প্রাকৃতিক অনিবার্যতা নয়। এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের অভাব এবং প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার সরাসরি ফল। ইউনিয়ন ভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, খাল পুনঃখনন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, স্লুইস গেট সচল রাখা, মাঠ ভিত্তিক প্রশিক্ষণ জোরদার করা এবং কৃষি খাতে কার্যকর বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বরগুনা এক ফসলী কৃষির সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।

 

এই অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ স্পষ্ট করে দেখায়, বরগুনার কৃষি সমস্যার মূল শিকড় প্রকৃতিতে নয়, বরং নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ফাঁকে ফাঁকে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ব্যর্থতায়। প্রয়োজনীয় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষককুল বরগুনার উর্বর জমিকে তার প্রকৃত সক্ষমতা ফিরে পারবে।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network