মোঃ ফেরদাউছ সিকদার : বরিশাল মানেই মজিবর রহমান সরোয়ার, আর মজিবর রহমান সরোয়ার মানেই বরিশালের বিএনপি—দীর্ঘ চার দশক ধরে এই সমীকরণটিই বরিশালের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত।
আসন্ন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে পুনরায় আলোচনায় বিএনপির এই প্রবীণ কান্ডারি। ৫ বারের সাবেক এমপি ও সাবেক সিটি মেয়র সরোয়ারের প্রার্থিতা ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে।
দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে রাজপথে ফেরা
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অসংখ্য মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়ে সরোয়ার রাজনীতির মূল স্রোত থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন। দলের অভ্যন্তরীণ কিছু বিরোধের কারণে তাকে পদ থেকেও সরিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে জুলাই বিপ্লবের পর দৃশ্যপট বদলে যায়। তৃণমূলের প্রবল চাপে দল তাকে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরিয়ে আনে এবং আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।
কেন মজিবর রহমান সরোয়ারই তুরুপের তাস?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরোয়ারের রয়েছেব্যক্তিগত ইমেজ: সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ‘বরিশালের সরোয়ার’ হিসেবে পরিচিত। দল-মত নির্বিশেষে তার একটি বিশাল ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক রয়েছে।
বরিশালের আধুনিক রূপায়নে (পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশন, রাস্তাঘাট, বিভাগীয় শহর) তার আমলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো আজও ভোটারদের মুখে মুখে।
তৃণমূলের দুর্দিনেও তিনি বরিশালের মাটি ছাড়েননি, যা তাকে সাধারণ কর্মীদের কাছে প্রিয় করে রেখেছে।
চ্যালেঞ্জ ও অভ্যন্তরীণ সমীকরণ, তবে সরোয়ারের পথ এবার খুব একটা মসৃণ নয়। দলের ভেতরেই এক সময়কার অনুসারী অনেক নেতা এখন তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন। মহানগর বিএনপির একটি অংশ সরোয়ারের একক আধিপত্যের বিরোধিতা করে আসছে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (চরমোনাই) শক্তিশালী প্রার্থীদের মোকাবিলা করা তার জন্য হবে অগ্নিপরীক্ষা। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা, যারা সরোয়ারের সোনালী সময় দেখেনি, তাদের মন জয় করাটাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, আমি সারাজীবন বরিশালের মানুষের জন্য রাজনীতি করেছি। মানুষ আমার পাশে ছিল, আছে। নিরপেক্ষ ভোট হলে বরিশাল-৫ আসনে ধানের শীষের জয় সুনিশ্চিত। আমরা এখন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা মানুষের কাছে নিয়ে যাচ্ছি।
উল্লেখ্য, বরিশালের রাজনীতির মাঠ এখন উত্তপ্ত। একদিকে সরোয়ারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তা, অন্যদিকে নতুন শক্তির চ্যালেঞ্জ। শেষ পর্যন্ত ‘বরিশাল বুল’ খ্যাত এই নেতা তার হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধার করতে পারেন কি না, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো দক্ষিণাঞ্চল।