আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে এবার কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। তাসনিম নিউজের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পারস্য উপসাগর অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং অবকাঠামো লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালানো হয়। মোট সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই প্রতিহত করা হয়েছে এবং কোনোটি নির্ধারিত স্থানে আঘাত হানতে পারেনি।
এর আগে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়া চারটি ইরানি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গোরেক এলাকা ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত রাডার ও নজরদারি স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে ইরান ড্রোন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে, ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, মার্কিন নৌবাহিনী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে এবং ইরানি জাহাজকে হয়রানি করছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দুই অঞ্চল লেবানন ও ফিলিস্তিনেও সংঘাত ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে জরুরি চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন। দেশটিতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছেছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে সাত মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এই ঘটনাকে নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা