সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) : এক সময় বাবুগঞ্জ উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে সুসংগঠিত ও সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত ছিল গণঅধিকার পরিষদ। দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যখন জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিল, তখন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায়ও সংগঠনটির একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে উঠেছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নেতৃত্ব পরিবর্তন, কমিটি বিলুপ্তি এবং নেতাকর্মীদের দলত্যাগের কারণে বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বাবুগঞ্জ উপজেলা গণঅধিকার পরিষদ। স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগেও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক কার্যক্রম ছিল দৃশ্যমান। সভা-সমাবেশ, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যেত। সে সময় উপজেলা...
সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) : এক সময় বাবুগঞ্জ উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে সুসংগঠিত ও সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত ছিল গণঅধিকার পরিষদ। দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যখন জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিল, তখন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায়ও সংগঠনটির একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে উঠেছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নেতৃত্ব পরিবর্তন, কমিটি বিলুপ্তি এবং নেতাকর্মীদের দলত্যাগের কারণে বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বাবুগঞ্জ উপজেলা গণঅধিকার পরিষদ।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগেও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক কার্যক্রম ছিল দৃশ্যমান।
সভা-সমাবেশ, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যেত। সে সময় উপজেলা শাখার সভাপতি হিসেবে রানা আহমেদ দায়িত্ব পালন করতেন। তার নেতৃত্বে সংগঠনটি একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল বলে মনে করেন অনেকেই।
এছাড়া যুব অধিকার পরিষদের নেতা আশিকুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন তরুণ সংগঠক মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে সংগঠনকে গতিশীল রাখতে কাজ করেন।
তাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন কর্মী সংগ্রহেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়।
তবে পরবর্তীতে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে উপজেলা সভাপতির পদে পরিবর্তন আনা হয়। রানা আহমেদের পরিবর্তে সিরাজুল ইসলামকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই সংগঠনের ভেতরে মতবিরোধ ও অসন্তোষের বিষয়টি সামনে আসতে শুরু করে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা ক্রমেই প্রকট হতে থাকে। এরই মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হলে বাবুগঞ্জের গণঅধিকার পরিষদের অনেক নেতাকর্মী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যোগ দেন। ফলে উপজেলা শাখা এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন সর্বশেষ উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। নতুন কমিটি গঠনে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনো কার্যকর কোনো নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় সংগঠনটি কার্যত নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে দলটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচি, সাংগঠনিক সভা কিংবা জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে একসময়ের সক্রিয় সংগঠনটি এখন অনেকটাই নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের সাবেক উপজেলা সভাপতি রানা আহমেদ বলেন, দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই আজ বাবুগঞ্জ উপজেলা গণঅধিকার পরিষদ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। সংগঠনকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে বিভাজনের রাজনীতি করা হয়েছে, যার ফল এখন দলকে ভোগ করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণঅধিকার পরিষদের এক সাবেক নেতা বলেন, কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল হক নূর মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর থেকে মূলত নিজের এলাকা পটুয়াখালীর নেতাকর্মীদের প্রতিই বেশি মনোযোগী হয়ে পড়েছেন। অন্যান্য জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় অনেকটাই কমে গেছে। এ কারণেও অনেক নেতাকর্মী হতাশ হয়ে অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, একসময় গণঅধিকার পরিষদের ব্যানারে সক্রিয় থাকা অনেক নেতাকর্মী বর্তমানে বিএনপি, এনসিপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দলের বর্তমান উপজেলা কিংবা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, সাংগঠনিক পুনর্গঠন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসনের মাধ্যমে নতুন করে মাঠে সক্রিয় হতে না পারলে বাবুগঞ্জে গণঅধিকার পরিষদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।