1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
সম্পত্তির লোভে বাবাকে হত্যা, দুই বছর পর ধরা পড়ল ছেলে - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন

সম্পত্তির লোভে বাবাকে হত্যা, দুই বছর পর ধরা পড়ল ছেলে

  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজের বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে দুই বছর পুরোনো এক ‘ক্লুলেস’ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই), চট্টগ্রাম। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে নিহত ব্যক্তির ছেলে বেলাল হোসেনকে।

পিবিআই জানায়, নিহত মীর মুজিবুর রহমান (৬০) ছিলেন পেশায় একজন বাবুর্চি। জীবদ্দশায় তিনি চারটি বিয়ে করেছিলেন। দ্বিতীয় স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের অধিকাংশ জমি বিক্রি করে দেন তিনি। শেষ বয়সে তার অবশিষ্ট ছিল কেবল বসতভিটার একটি ছোট অংশ। এই ভিটেমাটিই পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মুজিবুর রহমান যখন শেষ সম্বলটুকুও বিক্রির উদ্যোগ নেন, তখন বিষয়টি জানতে পারেন তার বড় ছেলে বেলাল হোসেন। এরপর থেকেই পরিকল্পিতভাবে হত্যার ছক কষা হয় বলে দাবি করছে তদন্ত সংস্থা।

পিবিআই আরও জানায়, হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেলাল একটি নারী বন্ধুকে ব্যবহার করে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করান। ওই নারী ফোনালাপের মাধ্যমে মীর মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং দেখা করার প্রস্তাব দেন। সেই প্রলোভনে পড়ে তিনি ২০২৪ সালের ৭ জুন চট্টগ্রামে আসেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে বাকলিয়া এলাকার একটি বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই বেলালের ভায়রা আবদুল জলিল উপস্থিত ছিলেন বলে জানায় পিবিআই। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাকে শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়।

অচেতন অবস্থায় মুজিবুর রহমানকে প্রথমে সিএনজি অটোরিকশায় করে সিআরবি এলাকায় নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে হালিশহর আউটার রিংরোড এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্ত অনুযায়ী, চলন্ত মাইক্রোবাসেই গামছা পেঁচিয়ে তার শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ সময় বেলাল ও আবদুল জলিল ঘটনাটিতে সরাসরি অংশ নেন বলে দাবি পিবিআইয়ের।

হত্যার পর মরদেহটি সড়কের পাশে নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে লাশ উদ্ধার করে। পরনে লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি এবং গলায় গামছা থাকলেও পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে অবশেষে ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে পিবিআই। সোমবার চট্টগ্রাম পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার এস এম রফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে সহযোগীদের ভূমিকা নিয়েও আরও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network