1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
ক্লাস শেষে জার্সি বিক্রি, কলেজ শিক্ষার্থীর ব্যবসা এখন ৬৪ জেলায় - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন

ক্লাস শেষে জার্সি বিক্রি, কলেজ শিক্ষার্থীর ব্যবসা এখন ৬৪ জেলায়

  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: মাত্র ৬ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে কলেজের আবাসিক হলের কক্ষ থেকে শুরু করা এক শিক্ষার্থীর জার্সি ব্যবসা এখন দেশের ৬৪ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহিদুল ইসলামের গড়ে তোলা এই অনলাইন ও অফলাইন উদ্যোগ মাত্র দুই মাসে লাখ টাকার ব্যবসায় রূপ নিয়েছে।

জামালপুর সদরের নান্দিনার বাসিন্দা মাহিদুল ইসলাম। ছোটোবেলা থেকেই কিছু করার স্বপ্ন ছিল তার, আর সেই স্বপ্নই একজন সফল তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে তাকে। বিশ্বকাপ এলে জার্সির বাড়তি চাহিদা দেখে ব্যবসা শুরুর পরিকল্পনা করেন তিনি।

মাহিদুল মাত্র দুই মাস আগে পরিবারের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নিয়ে ঢাকা থেকে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দলের কিছু জার্সি সংগ্রহ করেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফেসবুক পেজ চালু করে অনলাইনে বিক্রি শুরু করেন। শুরুতে অর্ডার ছিল খুবই কম। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। বিশ্বকাপ শুরু না হতেই সে এখন প্রায় লাখ টাকার মালিক।

সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের আবাসিক হলের ৪১০ নম্বর কক্ষ এখন যেন একটি ছোট্ট স্পোর্টস শপ। অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও বিক্রি করছেন তিনি। কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, ফুটবলপ্রেমী তরুণ এবং স্থানীয় ক্রেতারা সরাসরি তার কক্ষে এসে পছন্দের জার্সি কিনে নিয়ে যান। আবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতারা সামাজিক মাধ্যমে অর্ডার দিয়ে জার্সি সংগ্রহ করছেন।

বিশ্বকাপের উন্মাদনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যবসাও পেয়েছে নতুন গতি। বর্তমানে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে ক্রেতাদের অনুরোধে অন্যান্য দলের জার্সিও সরবরাহ করছেন তিনি।

সহপাঠী ফয়সাল আহমেদ জুমান বলেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থী কীভাবে নিজের উদ্যোগে সফল হতে পারে, মাহিদুল তার উদাহরণ। তার সাফল্য দেখে অনেক শিক্ষার্থী এখন উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।’

হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান বলেন, ‘অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করে দেশের ৬৪ জেলায় ব্যবসা ছড়িয়ে দেওয়া সহজ বিষয় নয়। মাহিদুল আমাদের মতো তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।’

স্থানীয়দের মতে, বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যে চাকরির পেছনে ছোটার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। সেখানে মাহিদুল নিজেই কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করেছেন। তার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, অল্প পুঁজি দিয়েও সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে সফল হওয়া সম্ভব।

মাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুরুতে অনেকেই বলেছিল, হলের রুমে বসে ব্যবসা করে সফল হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম সততা ও পরিশ্রম থাকলে একদিন সফল হব। প্রথম দিকে লাভের কথা চিন্তা না করে ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেছি। বর্তমানে দেশের প্রায় সব জেলা থেকেই অর্ডার পাচ্ছি। অনেক সময় একসঙ্গে এত বেশি অর্ডার আসে যে সামলাতে কষ্ট হয়। তারপরও চেষ্টা করি সময়মতো পণ্য পৌঁছে দিতে। ক্রেতাদের সন্তুষ্টিই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আশাকরি আমার প্রতিষ্ঠান একদিন দেশের পরিচিত স্পোর্টস ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে উঠবে। বিশ্বকাপ কেন্দ্র করে শুরু হলেও সারা বছর খেলাধুলার বিভিন্ন পণ্য নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চাই।’

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network