সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি : প্রতিষ্ঠার পর প্রায় আট দশক। সময়ের স্রোতে বদলেছে শিক্ষা ব্যবস্থার ধরন, বদলেছে প্রযুক্তি ও সমাজের বাস্তবতা। তবে বদলায়নি শিক্ষার প্রতি অঙ্গীকার। দীর্ঘ ৭৯ বছরের পথচলায় প্রজন্মের পর প্রজন্মকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে বাবুগঞ্জের শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ১৯৪৭ সালের ২ জানুয়ারি স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সমাজহিতৈষীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি সময়ের সঙ্গে নানা পরিবর্তন ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ বাবুগঞ্জ উপজেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের...
সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি : প্রতিষ্ঠার পর প্রায় আট দশক। সময়ের স্রোতে বদলেছে শিক্ষা ব্যবস্থার ধরন, বদলেছে প্রযুক্তি ও সমাজের বাস্তবতা। তবে বদলায়নি শিক্ষার প্রতি অঙ্গীকার। দীর্ঘ ৭৯ বছরের পথচলায় প্রজন্মের পর প্রজন্মকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে বাবুগঞ্জের শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
১৯৪৭ সালের ২ জানুয়ারি স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সমাজহিতৈষীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি সময়ের সঙ্গে নানা পরিবর্তন ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ বাবুগঞ্জ উপজেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিষ্ঠা, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্য বিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন জিতেন গাঙ্গুলী। তাঁর নেতৃত্বে যে শিক্ষাযাত্রার সূচনা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে একের পর এক নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন। তাঁদের মেধা, শ্রম ও আন্তরিকতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম ক্রমশ বিস্তৃত হয়েছে।
শিক্ষার মান ও একাডেমিক ফলাফলের দিক থেকেও দীর্ঘদিন ধরে বাবুগঞ্জ উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে বিদ্যালয়টি। প্রতিবছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ভালো ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখছে প্রতিষ্ঠানটি। ধারাবাহিক এই সাফল্য শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নয়, পুরো বাবুগঞ্জবাসীর জন্যও গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।
শিক্ষক ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, যুগের পর যুগ ফলাফলের এই ধারাবাহিকতা ও সুনাম ধরে রেখে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করবে বিদ্যালয়টি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতা বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে আরও বেশি অবদান রাখবে এ প্রতিষ্ঠান।
দীর্ঘ এই পথচলায় বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। তাঁদের অনেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে প্রশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা, সরকারি-বেসরকারি চাকরি, সামাজিক কর্মকাণ্ডসহ রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে তাঁদের সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম।
শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় নয়, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রয়েছে সাফল্যের ইতিহাস। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় উপজেলা ও জেলা পর্যায় পেরিয়ে বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরবও অর্জন করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বর্তমানে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল। তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবোধ তৈরি এবং একাডেমিক ফলাফল আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, নিয়মিত পাঠদান, শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। শুধু ভালো ফলাফল নয়, একজন শিক্ষার্থীকে সৎ, দায়িত্বশীল ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের প্রত্যাশা। বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রেখে আগামী দিনে শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ শিক্ষক মোঃ আবুল বাশার ইমরান বলেন, বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে অসংখ্য শিক্ষার্থীর আবেগ ও স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী বের হয়ে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই ঐতিহ্যকে ধরে রেখে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া। শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে এবং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা সহযোগিতা করলে এ বিদ্যালয় ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল ও সাফল্য অর্জন করবে বলে আমরা আশাবাদী।
সময় বদলের সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থাতেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইনির্ভর জ্ঞান নয়, প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, সৃজনশীল চিন্তা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে।
সেই বাস্তবতায় বিদ্যালয়টিও আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষকরা মনে করেন, একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার আচরণ, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ, সৃজনশীলতা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাও একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত সাফল্যের অংশ।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, একটি এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসের সঙ্গে ওই এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের ইতিহাসও জড়িয়ে থাকে। বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উপজেলার একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশাও অনেক।
ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষা নিয়ে দেশ ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ ও দীর্ঘদিনের সুনাম ধরে রেখে আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কাছে বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি তাঁদের শৈশব ও কৈশোরের অসংখ্য স্মৃতির ঠিকানা। শ্রেণিকক্ষ, বিদ্যালয়ের মাঠ, প্রিয় শিক্ষক, সহপাঠীদের সঙ্গে কাটানো সময় কিংবা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানের স্মৃতি আজও তাঁদের মনে নাড়া দেয়।
প্রতিষ্ঠার পর ৭৯ বছর পেরিয়ে বর্তমানে ৮০তম বর্ষে পদার্পণের পথে থাকা বিদ্যালয়টি পুরোনো ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন দিনের শিক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী দিনে শিক্ষার মান আরও উন্নত করা, শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করা এবং ক্রীড়া-সংস্কৃতিতে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রত্যাশা।
দীর্ঘ আট দশকের ইতিহাসে অসংখ্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ের অবদানে গড়ে ওঠা বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় তাই আজ শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম নয়, এটি বাবুগঞ্জের শিক্ষা, ঐতিহ্য, স্মৃতি ও সাফল্যের দীর্ঘ এক অধ্যায়ের প্রতিচ্ছবি।
বাবুগঞ্জ উপজেলার একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে এবং প্রতিবছর ফলাফলের দিক থেকে উপজেলার শীর্ষস্থানীয় অবস্থান ধরে রেখে প্রতিষ্ঠানটি যুগের পর যুগ তার সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবে, এমন প্রত্যাশা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের।