নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণ সাদিস গ্রামে পান্ডব নদীর অব্যাহত ভাঙনে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদীর তীব্র ভাঙনে ধসে পড়ছে নদীতীরবর্তী গ্রামীণ পাকা সড়কটি। এতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বসতভিটা হারানোর আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ সাদিস গ্রামের প্রধান পাকা সড়কটির একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সড়কের মাঝখানে সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট দীর্ঘ গভীর ফাটল। যেকোনো মুহূর্তে সড়কের বাকি অংশও ধসে পড়তে পারে। এতে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিন ধরে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই নদীর পাড় ভেঙে সড়কের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই ভাঙনঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ভাঙনকবলিত এই সড়ক দিয়ে একজন বৃদ্ধকে লাঠিতে ভর দিয়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করতেও দেখা গেছে।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মাওলানা মনজুর রহমান বলেন, প্রতিদিন পান্ডব নদী আমাদের গ্রাম গিলে খাচ্ছে। এই রাস্তাটা ভেঙে গেলে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের ঘরবাড়িও থাকবে না।
এদিকে, দক্ষিণ সাদিসের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্রজ্যোতি বড়ালসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভ্রজ্যোতি বড়াল বলেন, ইতিমধ্যেই আমরাসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা পান্ডব নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ভাঙনকবলিত এলাকায় অর্থ বরাদ্দ দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা চলমান রয়েছে।
দ্রুত ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ বা ব্লক ফেলে অথবা কার্যকর বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সড়ক ও বসতবাড়ি রক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীভাঙন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও স্থায়ী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।