বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাজনীতিতে কলসকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আরিফুল করিম দুলাল আসলে কার লোক। তিনি জেলা বিএনপি আহবায়ক আবুল হোসেন খান নাকি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা শওকত হোসেন হাওলাদারপন্থী! এনিয়ে সর্বত্র আলোচনা ও সমালোচনা ইউনিয়নের টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুত্র জানায়, সুচতুর সৈয়দ আরিফুল করিম দুলাল জেলা বিএনপি আহবায়ক ও বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাবেক এমপি আবুল হোসেন খানের কাধেঁ ভর করে কলসকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি মনোনীত হয়। কমিটি গঠনের পর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে উল্টো তিনি তার পদ নিয়ে নাখোশ হন। এমনকি কমিটির গঠনের পর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন হাওলাদারের পুত্র ইমাম হোসেন খোকন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ বাগাতে না পেরে সদ্য ঘোষিত (সভাপতি মিজানুর রহমান নাছিম ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিন মোল্লা) কমিটির বিরুদ্ধে বিষোদগার ও কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করেন। ওই সময় জেলা বিএনপি আহবায়ক আবুল হোসেন খানের নির্দেশে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতের নেপথ্যে আন্দোলনে অর্থ সহায়তা করেন সৈয়দ দুলাল। বিষয়টা তখন এমন ছিল যে, চোরকে বলেছেন চুরি করতে আর গৃহস্থকে বলেছেন সজাগ থাকতে।
বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে, সৈয়দ আরিফুল করিম দুলাল কলসকাঠী ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সভাপতি পদ বাগিয়ে নিতেই আবুল হোসেন খান পন্থীদের সাথে লিয়াজো করেন। কিন্তু তিনি বাস্তবে সাবেক চেয়ারম্যান শওকত পন্থীদের একজন। যখন তার পদ ভাগিয়ে নেয়া শেষ হয় তখনি তিনি শওকত পন্থীদের সাথে আবুল হোসেন খানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেন।
তিনি দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিগত তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কলসকাঠী ১নং ওয়ার্ডের নির্বাচন করে আওয়ামীলীগের সাথে আতাঁত করে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হযন। এমনকি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতন হলে কলসকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ৯ আগস্ট জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদদের মাগফিরাত কামনায় কলসকাঠী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠানে সাবেক চেয়ারম্যান শওকত পন্থীদের হামলা ও মারামারিরে হাত ছিল। পরবর্তীতে শওকত পন্থীরা যখন তার পাশ থেকে সরে গিয়ে নতুন ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার জন্য গোপন বৈঠক দেয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৈয়দ দুলাল কলসকাঠী ইউনিয়নের একজন সংরক্ষিত মহিলা মেম্বারের স্বামী মাসুদকে আওয়ামী লীগ সাজিয়ে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করায়। অবশ্য এর জন্য সাবেক চেয়ারম্যান শওকত হাওলাদারের পুত্র কামাল হাওলাদারের হাতে লাঞ্চিত হয়।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, সৈয়দ আরিফুল করিম দুলাল উপরে উপরে আবুল হোসেন খানের লোক দেখালেও ইউনিয়নের রাজনীতিতে তিনি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন হাওলাদার পন্থী। যে কারনে সকলেরই প্রশ্ন কলসকাঠীর সৈয়দ দুলাল আসলে কার। তিনি কি জেলা বিএনপি আহবায়ক আবুল হোসেনের বিএনপি, নাকি শওকতপন্থী!