1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
কোটি টাকা ব্যয়ে মেরামতকৃত পিএ মাহসুদ গত দুমাসেও বরিশাল মুখি হয়নি - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০২:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন ট্রাম্প বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ৩ হাজার রোগীর খাবার বন্ধের শঙ্কা দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগের পরও অপপ্রচারের শিকার আলবার্ট রিপন বল্লভ এবার তালাক নোটিশ ও কথিত কাবিননামা প্রকাশ করলেন গোলাম মাওলা রনি পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলি, সেনাসদস্য গুলিবিদ্ধ জামায়াতের সঙ্গে জোটে আপত্তি, এনসিপি ছাড়ছেন নেত্রীরা স্কুলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে দ্বিতীয় বৈঠক সোমবার এইচএসসিতে শূন্য পাস, পাঁচ বছরের নথিসহ ২৬ অধ্যক্ষকে তলব বালু অপসারণের নামে কেটে নেওয়া হচ্ছে ফসলি জমি

কোটি টাকা ব্যয়ে মেরামতকৃত পিএ মাহসুদ গত দুমাসেও বরিশাল মুখি হয়নি

  • আপডেট সময় : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রীয় নৌ বানিজ্য প্রতিষ্ঠান-বিআইডব্লিউটিসি প্রায় কোটি টাকা ব্যায়ে মেরামত শেষে ঐতিহ্যবাহী ‘পিএস মাহসুদ’ জাহাজটি বরিশাল-ঢাকা নৌপথে ‘পর্যটক সার্ভিস’ হিসেব চালুর পরে আর দেখা নেই। প্রায় ৫ বছর বানিজ্যিক পরিচালন থেকে বাইরে রেখে কোটি টাকা ব্যায়ে মেরামত ও সংরক্ষন কাজ সমাপ্ত করে পিএস মাহসুদ গত ২৮ নভেম্বর ‘পর্যটক সার্ভিস’ হিসেবে ঢাকা থেকে বরিশালে এবং ২৯ নভম্বর ঢাকায় ফেরত যায়। এর আগে ১৫ নভেম্বর মেরামতকৃত নৌযানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা। এমনকি মেরামতকৃত নৌযানটির পরিক্ষামূলক পরিচালনেও উপদেষ্টা ঢাকা-চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে ভ্রমন করেছিলেন।

কিন্তু ৫ ডিসেম্বর নৌযানটির দ্বিতীয় বানিজ্যিক পরিচালনে বরিশালে এসে ৬ ডিসেম্বর ফেরত যাবার পরে আর বরিশাল মুখি হয়নি। গত ১২ ডিসেম্বর কয়েকজন বিদেশী কুটনীতিককে নিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ‘পিএস মাহসুদ’এ ঢাকা-চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে ভ্রমনের পরে তা ইজারাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

‘গ্রীন টুর এন্ড ট্রাভেলস’ মাসে ১ লাখ ৪১ হাজার টাকার বিনিময়ে পিএস মাহসুদ ইজারা গ্রহন করার পরে আর বরিশালমুখি হয়নি। এমনকি ইজারা প্রদানের আগে নৌযানটি ‘সপ্তাহে অন্তত ১দিন বরিশাল-ঢাকা নৌপথে চরাচল করবে’ বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হলেও সে কথা রাখেনি ইজারাদার সহ নৌ বানিজ্য প্রতিষ্ঠানটিও। গত দু মাসে একবারও বরিশালবাসী পিএস মাহসুদ’র হুইসাল শোনেনি। তবে এখন সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্র বলছে ‘ইজারাদার তার বানিজ্যিক সুবিধার বিবেচনায়ই নৌযানটি পরিচালন করছে। ফলে বিআইডব্লিউটিসি নৌযানটি সপ্তাহে অন্তত ১দিন ঢাকা ও বরিশাল থেকে, যথাক্রমে শুক্র ও শণিবার পরিচালন’র যে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছিল, তা তা আর কার্যকর রইল না।

ইজারাদার নৌযানটিতে কর্মরত সংস্থার ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ ২ লাখ টাকা এবং ইজারামূল্য বাবদ ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা পরিশোধ করছে বলে জানা গেছে। ৬ মাসের ভাড়া আগাম পরিশোধের বিনিময়ে দু বছরের জন্য নৌযানটি ইজারা চুক্তি করেছে বিআইডব্লিউটিসি।

এব্যপারে বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মোঃ সলিম উল্লাহ ইতোপূর্বে জানিয়েছিলন, ‘আমরা পর্যটন বিকাশের স্বার্থেই পিএস মাহসদু’কে একটি দক্ষ ট্যুর অপারেটরকে দায়িত্ব দিচ্ছি। তবে ‘কোন বিশ^ ঐতিহ্য ইজারা দেয়া যায় কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে এড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নৌযানটির সঠিক ব্যবহার ও দেশের পর্যটন বিকাশের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি’।

 

উল্লেখ্য, নৌ পরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন গত ১২ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস’র সাথে সাক্ষাত করে পিএস মাহসুদ পুনরায় চালুর বিষয়টি অবহিত করলে তিনি এ বিষয়ে যথেষ্ঠ উচ্ছাস প্রকাশ করে ‘কোন ঐতিহ্যকে হারিয়ে যেতে দেয়া হবে না’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। এসময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের বৈচিত্রপূর্ণ নৌকার ডিজাইন পুরো পৃথিবীতে বিখ্যাত। অথচ এসম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানে না’ । এসময় প্রধান উপদেষ্টা ‘আমাদের এই ঐতিহ্যকে হারিয়ে যেতে দেয়া যাবে না’ বলে মন্তব্য করে ‘প্যাডেল স্টিমার সহ যত পুরনো নৌযান আছে সবকটিই সংরক্ষনের ব্যবস্থা নিতে হবে’ বলেও জানিয়েছিলেন।

এসময় নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত বলেন, ‘পিএস মাহসুদ কেবল একটি নৌযান নয়, এটি বাংলাদেশের নদীজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতিক, আমরা চাই নতুন প্রজন্ম কাছে থেকে জানুক, দেখুক। এক সময় নদীপথই ছিল যোগাযোগ ও সংস্কৃতির প্রাণ’। তিনি ‘পিএস মাহসুদ’র পাশাপাশি পিএস অস্ট্রিচ ও পিএস লেপচা সহ অন্য পুরনো স্টিমারগুলোও সংস্কারের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে’ বলে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেছিলেন।

 

কিন্তু ইতোমধ্যে পিএস মাহসুদ ইজারাদারের কাছে হস্তান্তরের পরে পিএস অস্ট্রিচ’র ইজারাও চুড়ান্ত হয়ে গেছে। চলতি সপ্তাহেই ব্যাংক গ্যরান্টি পরিষোধ সাপেক্ষে নৌযানটি ৫ বছরের জন্য ইাজারাদারের কাছে চুড়ান্ত হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংস্থার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। ইতোপূর্বে ২০১৮ সালে ‘পিএস অস্ট্রিচ’ বেআইনীভাবে বিনা দরপত্রে ইজারা দেয়া হয় বিগত সরকারের নৌ পরিবহন মন্ত্রীর নির্দেশে। ইজারাদার নৌযানটির উপরিকাঠামোর প্রায় পুরোটাই ভেঙে তছনছ করে দেয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত ভাড়াও পরিরেশাধ করেনি। দীর্ঘদিন ইজারাদারের হাতে ‘আটক’ থাকার পরে ম্যজিষ্ট্রেট ও পুলিশ নিয়ে পিএস অস্ট্রিচ উদ্ধার করা হলেও বকেয়া আদায়ে আদালতে মামলা চলছে।

 

অপরদিকে সংস্থার হাতে থাকা ‘পিএস লেপচা’ ও পিএস টার্ণ’ নামের অপর দুটি নৌযানও মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষনহীন অবস্থায় অযতœ অবহেলায় পড়ে আছে। সংস্থাটির দায়িত্বশীল মহলের কেউ এসব নৌযানের মেরামত ও পূনর্বাশনের বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না।

ফলে প্রধান উপদেষ্টার সামনে নৌ পরিবহন উপদেষ্টার ‘পিএস অস্ট্রিচ সহ সবগুলো প্যডেল নৌযানই ঐতিহ্য হিসেব সংরক্ষন করা হবে’ বলে যে ঘোষনা দিয়েছিলন, তা কতটুকু কার্যকর হবে, সে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে ওয়াকিবাহাল মহলে। এমনকি গত অক্টোবরে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা বরিশালে গনমাধ্যম কর্মীদের কাছে ‘নভেম্বর থেকে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে পিএস মাহসুদ যাত্রী পরিবহন করবে’ বলে জানিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ইয়ার্ডে নির্মিত পিএস মাহসুদ সহ বিআইডব্লিউটিসি’র হাতে থাকা ৪টি প্যডেল জাহাজই বিযুক্ত অবস্থায় এনে ১৯৩৮ থেকে ’৪৮ সালে কোলকাতার গার্ডেনরীচ শিপবিল্ডার্সে সংযোজন করা হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় অন্য আরো অন্তত ২৫টি প্যাডেল জাহাজের সাথে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের হিস্যায় পরে ‘পিএস গাজী, পিএস মাহসুদ,পিএস অস্ট্রিচ, পিএস লেপচা ও পিএস টার্ণ’ নামের নৌযানগুলো। এসব নৌযান ১৯৪৮ সালে গঠিত ‘পাকিস্তান রিভার স্টিমার্স-পিআরএস’র তত্বাবধানে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে মেইল সার্ভিস এবং নারায়গঞ্জ-বরিশাল-খুলনা নৌপথে রকেট সার্ভিসেও দীর্ঘদিন চলাচল করে।

১৯৭৮ থেকে ’৮২ সালে বেলজীয় সরকারের আর্থিক ও কারিগড়ি সহায়তায় পিএস মাহসুদ, পিএস অষ্ট্রিাচ ও পিএএস লেপচা’ কয়লা চালিত ইঞ্জিনের পরিবর্তে মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন সংযোজন সহ পরিপূর্ণ পূণর্বাশন করা হয়। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ হাইড্রোলিক গীয়ারের কারণে মাত্র ৩ হাজার ঘন্টা চলাচলের পরেই পূণর্বাশনকৃত ৩টি নৌযানই বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তিতে ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে সবগুলো নৌযানেই হাইড্রোলিক গীয়ারের পরিবর্তে মেকানিক্যাল গীয়ার সংযোজন সহ আরেক দফা পূনর্বাশন শেষে চালু করা হয়।

সে থেকে টানা ২৫ বছর মাহসুদ সহ এসব নৌযান ঢাকা-বরিশাল-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল-মোড়েলগঞ্জ নৌপথে যাত্রী পরিবহন করলেও দীর্ঘ অবহেলা ও উদাশীনতায় ২০২০ সালে সবগুলো প্যডেল জাহাজের মত ‘পিএস মাহসুদ’কেও বসিয়ে রাখা হয়।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network