1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানে ছিল গুরুতর ত্রুটি, তদন্তে ভয়াবহ তথ্য - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন

তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানে ছিল গুরুতর ত্রুটি, তদন্তে ভয়াবহ তথ্য

  • আপডেট সময় : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স–এর একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণে গুরুতর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে অভ্যন্তরীণ তদন্তে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যান্ত্রিক ঝুঁকি থাকার পরও এই উড়োজাহাজটি দিয়েই গত ২৫ ডিসেম্বর ভিভিআইপি ফ্লাইটে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–কে বহন করা হয়েছিল।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. মনসুরুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি সম্প্রতি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন ব্যবস্থাপক (ফাইন্যান্স) আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সদস্য হিসেবে ছিলেন উপমহাব্যবস্থাপক, প্রশিক্ষণ (এয়ারক্রাফট/অ্যারো) মো. জুবিয়ারুল ইসলাম।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ৯ ও ১৭ ডিসেম্বর উড়োজাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে একাধিক অনিয়মের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ১০ ডিসেম্বরের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে শেষ করা হয়, যা এই মডেলের উড়োজাহাজের জন্য নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম। এ ছাড়া উড়োজাহাজটির ত্রুটি নির্ণয় কিংবা কার্যকারিতা যাচাইয়ের কোনো সঠিক রেকর্ড তদন্ত কমিটির কাছে পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে একই যান্ত্রিক ত্রুটি তিনবার দেখা দিলেও বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। গত ২১ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী বিজি-২০২ ফ্লাইটটি মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় আবারও এর ভিএফএসজি বিকল হয়ে যায়। কমিটির মতে, এ ধরনের ত্রুটির কারণে উড়োজাহাজটিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড কিংবা গিয়ারবক্সের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।

তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রকৌশল বিভাগের এমন উদাসীনতার পরও ত্রুটিপূর্ণ উড়োজাহাজটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে ব্যবহার করা হয়, যা যাত্রী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারত।

রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের এই অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায় ২৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বারবার যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, এক উড়োজাহাজ থেকে যন্ত্রাংশ খুলে অন্যটিতে লাগানো এবং জরুরি ভিত্তিতে যন্ত্রাংশ পরিবহনের পেছনে এই বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। তদন্ত কমিটি এই ক্ষতির দায় নির্ধারণের পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াকে বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

প্রতিবেদনে বিমানের দুই প্রকৌশলী হীরালাল এবং মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটি জানিয়েছে, উড়োজাহাজটিতে কম ফুয়েল প্রেসারের সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও তারা যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই সেটিকে উড্ডয়নের ছাড়পত্র দেন। তাদের এই সিদ্ধান্তের কারণে যাত্রীদের জানমালের বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network