আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বর্ধমান শহরের একটি যৌনপল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে এক বাংলাদেশি মহিলাকে ৷ বৈধ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে ৷ আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে বুধবার গ্রেফতার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত 42 বছরের ওই মহিলার বাড়ি বাংলাদেশের বরিশাল জেলার মঠবাড়িয়া থানার তুষখালি গ্রামে ।
বুধবার তাঁকে বর্ধমান জেলা আদালতে তোলা হয় । বিদেশি নাগরিক সংক্রান্ত আইনের অধীনে মামলা দায়ের করে পুলিশ আদালতের কাছে বিচারবিভাগীয় হেফাজতের আবেদন জানায় । একইসঙ্গে তাঁর জামিনেরও বিরোধিতা করা হয় । সেই আবেদনে মান্যতা দিয়ে বিচারক বাংলাদেশি মহিলাকে 14 দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছেন ৷
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “বৈধ ভিসা ও পাসপোর্ট না-থাকার জন্য এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে । তাঁকে আদালতে তোলা হয়েছিল । তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে । তাঁর কাছ থেকে তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ । আগামী 1 জুলাই তাঁকে ফের আদালতে তোলা হবে ।”
তদন্তকারীদের দাবি, সম্প্রতি গোপন সূত্রে খবর মেলে যে বর্ধমান শহরের যৌনপল্লি মহাজনটুলি এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার পরিচয়পত্র ও নথিতে অসঙ্গতি রয়েছে । সেই সূত্র ধরে এলাকায় অভিযান চালানো হয়। বিভিন্ন ব্যক্তির পরিচয়পত্র যাচাইয়ের সময় ওই মহিলার নথিপত্রে সন্দেহজনক তথ্য ধরা পড়ে। পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক বলে স্বীকার করেন । তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি 2018 সালে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন । তবে নির্ধারিত সময়ের পরে তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় । এরপরও তিনি ভারতে থেকে যান বলে অভিযোগ ।
পুলিশের দাবি, মেয়াদ উত্তীর্ণ নথি নবীকরণ না-করেই তিনি কয়েক বছর ধরে দেশে অবস্থান করছিলেন । প্রাথমিক জেরায় ওই মহিলা জানান, কাজের সন্ধানে ভারতে এসে তিনি দালালচক্রের খপ্পরে পড়েন । পরে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার পর বর্ধমানের ওই যৌনপল্লিতে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানেই থেকে যান । ঘটনার পর বিষয়টি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকেও জানানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর । ধৃতের ভারতে অবস্থানের পেছনে অন্য কোনও চক্র বা নেটওয়ার্ক জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা । পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে ।