নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) সিনিয়রদের র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে এক নবীন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৫তম ব্যাচ) র্যাগিংয়ে শিকার কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁদের আগের ১৪তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হলেন মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে র্যাগিংয়ের শিকার ওই শিক্ষার্থীকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, গতকাল সন্ধ্যার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে শশী ছাত্রীনিবাস-সংলগ্ন সড়ক দিয়ে এগিয়ে নদীর তীরে বালুর মাঠ এলাকায় আট থেকে নয়জন সিনিয়র শিক্ষার্থী ১৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন।
তবে কয়েকজন জুনিয়র সেখানে না যাওয়ায় সিনিয়রেরা তাঁদের শাসিয়ে দ্রুত হাজির করার জন্য চাপ দেন। পরে রাত ৯টার দিকে অন্য নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হলে রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত তাঁদের র্যাগিং করা হয়। এ সময় নবীন শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মানসিক হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।
এতে আতঙ্কিত হয়ে শিক্ষার্থী শরিফুল ঘটনাস্থলে চেতন হারান। তখন অন্য নবীন শিক্ষার্থীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, র্যাগিংয়ে মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ১৪তম ব্যাচের অন্তত ১০ জন সিনিয়র শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ১৫তম ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি, কারও হাতে নির্যাতিত হতে নয়। একজন শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের নামে অচেতন করে হাসপাতালে নিতে হলে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক, দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
অভিযুক্ত ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ পরশ, অনিক, নাজ, শ্রাবণ, অনুপম, লিমন, জয়, রিয়াদ, প্রীতম ও রাফির নাম উল্লেখ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
অভিযুক্ত ১৪তম ব্যাচের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ক্লাস রিপ্রেজেনটেটিভ (সিআর) নূর মোহাম্মাদ পরশ বলেন, ‘আমি সেখানে পরে গিয়েছিলাম। ছেলেটা আগে থেকেই অসুস্থ ছিল। পরে আমরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি।’
তবে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, র্যাগিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওই শিক্ষার্থীর পেটের সমস্যা ছিল। অসুস্থ হওয়ার পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর বাবার সঙ্গেও কথা হয়েছে। যদি র্যাগিংয়ের কোনো অভিযোগ লিখিত আসে, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, র্যাগিংয়ের ঘটনায় কোনো ছাড় নেই। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তদন্তপূর্বক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।