1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
চরফ্যাশনে দুর্নীতি ঢাকতে শিক্ষক দু'গ্রুপে পাল্টা-পাল্টি সংবাদ সম্মেলন - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বরিশাল মহানগর পুলিশের প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি প্রতিযোগিতা সম্পন্ন আগৈলঝাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান গলাচিপায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ বাকেরগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন বাঁক, ভরপাশার ভবিষ্যতের রূপকার রাজিব হোসেনের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় এএসআইকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ, দুজনের বিরুদ্ধে মামলা লংমার্চ থেকে ফেরার পথে জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ পটুয়াখালীতে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, আহত ১০ বরিশালে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৩০৮ অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে একজন আটক ডিবি ও ডিজিএফআই পরিচয়ে অপহরণ, গ্রেপ্তার ৫

চরফ্যাশনে দুর্নীতি ঢাকতে শিক্ষক দু’গ্রুপে পাল্টা-পাল্টি সংবাদ সম্মেলন

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি: সরকারি বরাদ্দে নয়ছয়, শিক্ষকদের চাঁদা আদায় ও ঘুষ ছাড়া লড়ছেনা ফাইল। শিক্ষা কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীর এসব দুর্নীতি ও ঘুষের টাকার ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগে সংবাদ মাধ্যমগুলোতে যখন প্রচার-প্রচারনা তুঙ্গে, ঠিক তখনি অফিসের দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করতে শিক্ষকদের দু’গ্রুপে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে বিভক্ত এখন চরমে। অফিসের দুর্নীতিবাজ দুই কর্মকর্তা কে রক্ষা করতে তারা এখন মুখোমুখি অবস্থান।
অভিযোগ উঠে শিক্ষা অফিসের দুর্নীতি বিরুদ্ধে। অথচ তাদের পক্ষে সাফাই গাইলেন উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষকদের একাংশ। সাংবাদিকদের কাছে এক গ্রুপ অপর গ্রুপের বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেন সাধারণ শিক্ষকরা।
সংবাদ সম্মেলন সূত্রে জানা গেছে, ভোলার চরফ্যাশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন খাতে সরকারি বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে আত্মসাৎ, ভুয়া ভাউচার তৈরি, শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং বিভিন্নভাবে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান’র বিরুদ্ধে।\
সদয় অবগতির জন্য অভিযোগের অনুলিপি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়, জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অভিযোগে। এসব অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বরাবর লিখিত আবেদনও করেন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গ্রুপের একাংশ।
অভিযোগন সূত্রে জানা যায়, আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫-২৬ এবং আন্তঃইউনিয়ন প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার জন্য ১ লাখ ৫৫ হাজার ও ৮৪ হাজার টাকা ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রদান না করে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাৎ করা হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র মেরামতের  বরাদ্দ পাওয়া ৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার উত্তোলনের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের হয়রানি করে বিদ্যালয় প্রতি প্রায় ৯ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। নির্বাচনের প্রায় ৬ মাস পর ওই অর্থ উত্তোলনের ঘটনাও ঘটেছে।
প্রতিবন্ধী শিশুদের ডিভাইস ক্রয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ৯০ হাজার টাকা ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন এবং ‘এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি’ খাতের বরাদ্দ নিয়েও বিস্তারিত অভিযোগ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যালয় প্রতি ৩ লাখ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে  একটিতে ২ লাখ এবং আটটিতে ৩ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন।
এছাড়া ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে পুনরায় ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলে, বাস্তবে কোন কাজ না করে ভাগ-বাঁটোয়ারার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
একই অর্থবছরে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একাধিকবার ‘এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি’সহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এমনকি একই ব্যক্তির মাধ্যমে একাধিকবার বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।
এ ছাড়া প্রাক-প্রাথমিক খাতে বিদ্যালয় প্রতি বরাদ্দ করা ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া এবং কোনো কোনো বিদ্যালয়ে ওয়াইফাই না থাকা এবং নেট চালু না করার অভিযোগ থাকা স্বত্তেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছ থেকে যথাযথ প্রত্যয়ন গ্রহণ না করে কোম্পানির সাথে যোগসাজশের মাধ্যমে ১৮ লাখ ১৫ হাজার ২০০টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
কনটিনজেন্সি বই, পরিবহন, টিএ এবং বিভিন্ন দিবস পালনসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ করা অর্থ শিক্ষকদের ব্যক্তিগত/সংশ্লিষ্ট হিসাবে নিয়ে যথাযথভাবে টাকা প্রদান করেনি। বাকি অর্থ নিজে চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করেন।
এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৯৬ জন শিক্ষককে চিত্তবিনোদনের টাকা প্রদান না করে কালক্ষেপণ এবং শিক্ষকদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, চরফ্যাশন উপজেলার মুজিবনগর ইউনিয়নের তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শন করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রায় দুই মাস বন্ধ রাখেন এবং  শিক্ষকপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে নেয়ার পর বিল ছাড় করে।
এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ৭/৮ জন শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে প্রশিক্ষণ, সরকারি বরাদ্দ বন্টন ও সরকারি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছামত বন্টন করেন। বন্টন সময়ে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরন করেন।
অনিয়ম ও প্রশাসনিক প্রভাবে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা হয়রানির শিকার হন পদে-পদে। এতে বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন।
এসবের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, তারা যেসব অভিযোগ করেছে। আমার সবগুলো অফিস ডকুমেন্টস আছে। যথাযথ নিয়মে খরচ হয়েছে।
অপরদিকে সাংবাদিক সম্মেলন এর মাধ্যমে উপজেলা সাধারণ শিক্ষক একাংশ অভিযোগ করেন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,  উপজেলার হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনির উদ্দিনের প্রায় ১৩ বছর ধরে আটকে আছে এরিয়া বিল। দীর্ঘদিন ধরে বিলের টাকা পেতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ঘুরেও কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তার। সর্বশেষ চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ছাত্তার তার কাছে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ওই প্রধান শিক্ষক।
প্রধান শিক্ষক মনির উদ্দিনের দাবি, তার পাওনা এরিয়া বিলের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর আগে তিনি লালমোহন উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে চরফ্যাশন উপজেলায় বদলি হয়ে আসেন তিনি। এরপর থেকে আটকে থাকা এরিয়া বিলের জন্য গত দুই বছর ধরে একাধিকবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেন।
মনির উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘বিলটি করে দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী ছাত্তার তার কাছে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরবর্তীতে বিলের কাগজপত্র সম্পূর্ণ করার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়। তবে একটি প্রত্যয়নে কর্মকর্তার স্বাক্ষর বাকি থাকায় সেটি আনতে গেলে ফের বিপাকে পড়েন তিনি।’
মনির উদ্দিনের অভিযোগ, ওই প্রত্যয়নে স্বাক্ষর করিয়ে দেওয়ার জন্যও ছাত্তার ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার কাছ থেকে এরিয়া বিলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও খাতা নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তিনি যে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন, সেটিও ফেরত পান বলে জানান।
প্রধান শিক্ষক মনির উদ্দিন বলেন, ‘এই ছাত্তারের কাছে পুরো অফিস জিম্মি। সে কর্মকর্তার দালাল। টাকা ছাড়া কোনো কাজ করে না। আমার এরিয়া বিলের জন্য দুই বছর ধরে আমাকে ঘুরিয়েছে। পরে ছাত্তার বলে, আপনি ৪০ হাজার টাকা খরচ করলে এক লাখ টাকা পাবেন। আমি ৪০ হাজার টাকা দিতে পারিনি। পরে আমার কাছ থেকে বিলের সব কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়। আমি চাই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হোক এবং আমার প্রাপ্য এরিয়া বিল দ্রুত পরিশোধ করা হোক।’
তবে প্রধান শিক্ষক মনির উদ্দিনের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী ছাত্তার বলেন, ‘প্রধান শিক্ষককে বলা হয়েছে, তার বিলটি করে দেওয়া হবে। কিন্তু তার কাছ থেকে কোনো টাকা চাওয়া হয়নি।’
এদিকে আজ কয়েকদিন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও অফিস সহকারী আব্দুস সাত্তারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ফলাও করে তথ্য প্রচার হচ্ছে। অথচ তাদের দুজনের পক্ষে-বিপক্ষে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষকদের দু’গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘ওই শিক্ষকের বিলের সকল কাগজ পত্রে স্বাক্ষর দেয়া হয়েছে। ছাত্তারের এই বিষয়ে খবর নিব। যদি সে এটা করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কাছে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আসেনি। যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, তারা তদন্ত করে দেখবে। আমার কাছে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network