মাঝি সিন্ডিকেট এর প্রতারণায় অভিযানে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য নেই বরিশাল কোস্টগার্ডের

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত জুন ৮ মঙ্গলবার, ২০২১, ০৮:৪১ অপরাহ্ণ
মাঝি সিন্ডিকেট এর প্রতারণায় অভিযানে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য নেই বরিশাল কোস্টগার্ডের

মাহাদী হাসান ।। মাঝি সিন্ডিকেট এর প্রতারণার কারনে অভিযানে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য নেই বরিশাল কোস্টগার্ডের। বিগত বছরগুলোতে বরিশাল কোস্টগার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে সাফল্য ছিলো চোখে পড়ার মতো। নদীপথে অবৈধ জাটকা ব্যবসায়ী, নিষিদ্ধ অবৈধ সকল প্রকার জাল ও রেনুপোনা ব্যবসায়ীসহ অপরাধীদের কাছে কোস্টগার্ড ছিলো এক আতঙ্কের নাম।

 

কিন্তু বর্তমানে কোস্টগার্ডের অভিযান চলমান থাকলেও হঠাৎ করেই যেন কাঙ্ক্ষিত সাফল্যে ভাটা পড়েছে । জানাগেছে, কোস্টগার্ডের অভিযানে সফলতার পিছনে মাঝিরাও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।

 

তাছাড়া কোস্টগার্ডের সাথে কর্মরত মাঝিরাও অনেক বড় বড় অভিযান চালাতে সাহায্য করে আসছিলো কোস্টগার্ড টিমকে। কিন্তু বর্তমানে কোস্টগার্ডের অগোচরে বরিশাল কোস্টগার্ডে কর্মরত বর্তমান মাঝি ও সাবেক মাঝিদের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরী হয়েছে বলে তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে।

 

আর এ সিন্ডিকেট সদস্যদের বিরুদ্ধে মাসোহারা আদায়সহ অভিযানের পূর্বে তথ্য পাচার ও বরিশাল থেকে পাহাড়া দিয়ে রেনুপোনা ও অবৈধ জাটকা পাচারে সহায়তার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ফলে এ সিন্ডিকেটের কারনেই কোস্টগার্ডের অভিযানে পূর্বের মতো সাফল্য আসছেনা।

 

জানাগেছে, এ সিন্ডিকেটের মূল নায়ক হলেন কোস্টগার্ডের সাবেক মাঝি দুদু, হাসান ও রুবেল। কিন্তু মাস ছয়েক পূর্বে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় রুবেল এই সিন্ডিকেট ছেড়ে দূরে চলে গেছেন বলে জানাগেছে। তবে দুদু ও হাসান এখনো এই সিন্ডিকেট এর হাল ধরে রেখেছেন।

 

আর বর্তমানে বরিশাল কোস্টগার্ডের সিসিএমসি ও বিসিজিএস পাবনা জাহাজ টিমের সাথে মাঝি হিসেবে কর্মরত থাকা ইউসুফ, রিপন ও মিথুন এই সিন্ডিকেটেরই সক্রিয় সদস্য। অথচ এই মাঝিদের কারোরই মাঝি হিসেবে কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা ও কোন প্রকার দক্ষতা নেই।

 

তার ফলে এরা কোস্টগার্ডের অভিযানে কোন প্রকার তথ্য দেয়া কিংবা কোনপ্রকার ভূমিকাই রাখতে পারছেনা। কিন্তু তারপরেও সুকৌশলে কোস্টগার্ড থেকে চাকরিচ্যুত হওয়া সাবেক মাঝি দুদু ও হাসান নিজেদের আখের গোছাতে এদেরকে মাঝি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে আপ্রায়ন চেষ্টা চালায় এবং একপর্যায় সফলও হয়।

 

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, প্রায় ৩/৪ বছর পূর্বে দুদু ও হাসান বরিশালে কোস্টগার্ডের মাঝি হিসেবে কর্মরত ছিল। তখন তাদের বিরুদ্ধে মাসোহারা আদায়, তথ্য প্রদান, অবৈধ রেনুপোনা পাচারে সহায়তাসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠলে কোস্টগার্ডের মাঝি থেকে তাদের চাকুরিচ্যুত করা হয়।

 

পরবর্তীতে তারা মাঠপর্যায়ে তাদের আদায়কৃত মাসোহারা ও আধিপত্য ধরে রাখতে বরিশাল সিসিএমসিতে মাঝি হিসেবে ইউসুফ ও রিপন এই ২ জনকে অন্তর্ভুক্ত করাতে সক্ষম হয়।

 

এছাড়াও বিসিজিএস পাবনা জাহাজে মাঝি হিসেবে মিথুন নামের ১ জনকে অন্তর্ভুক্তি করায়। অথচ এদের কারোরই এই সম্বন্ধে কোন প্রকার ধ্যান-ধারনা নেই। তারা শুধু কাগজে কলমে মাঝি, মূলত মাঠপর্যায়ে দাপিয়ো বেড়াচ্ছে দুদু ও হাসান।

 

আর এই সুযোগে কোস্টগার্ডের নাম বিক্রী করে তারা অবৈধ পাই জাল, কোনা জাল, বাধা জালের জেলেদের থেকে মাসোহারা আদায়সহ রেনুপোনা পাচার, জাটকা পাচারে মূখ্য ভূমিকা পালন করে মাসোহারার বিনিময়ে বলে একাধিক সূত্র জানায়। বর্তমানে কোস্টগার্ডে কর্মরত মাঝিরা শুধু নামে আর তাদের সিন্ডিকেটের কাছে অভিযানের তথ্য পাচারেই ব্যস্ত।

 

আর তাদের তথ্য পেয়ে সিন্ডিকেটের মূলহোতারা আখের গোছায়। আর বর্তমানে বরিশাল কোস্টগার্ডের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে বাধা এই মাঝি সিন্ডিকেট।

 

এছাড়াও নদীতে অবৈধ বাধা জাল, পাই জাল, মশারী জাল, চরঘোরা জাল থাকলেও কোস্টগার্ডের প্যাটেল ডিউটি চলাকালীন মাঝিরা মাসোহারার বিনিময়ে সেই অবৈধ জালগুলো না ধরে অন্যস্থান ঘুরিয়ে চলে আসে।

 

আর এর ফলে জেলেরা অবৈধ এসব জাল দিয়ে অবাধে মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করে চলেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিন জোনের এসও জানান, এ বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এ বিষয়ে আরো তথ্য সম্বলিত সংবাদ পড়তে পাঠকবৃন্দ পরবর্তী পর্বে চোখ রাখুন – বরিশাল ক্রাইম ট্রেস অনলাইন নিউজ পোর্টালে




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃbarishalcrimetrace@gmail.com